প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমানের আকস্মিক মৃত্যুতে দেশের প্রশাসনিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশের পাশাপাশি পূর্বনির্ধারিত সিলেট সফর স্থগিত করেছেন বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এমপি। সরকারি দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান। পারিবারিক ও মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন ধরে তিনি গুরুতর শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। রক্তে প্লাটিলেট কমে যাওয়ার কারণে ১৩ এপ্রিল তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে পরীক্ষায় তার শরীরে ম্যালেরিয়া শনাক্ত হয় বলে চিকিৎসকরা জানান। নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং শুক্রবার সকালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
মাহবুবুর রহমান ছিলেন প্রশাসনের একজন অভিজ্ঞ ও দক্ষ কর্মকর্তা। ১৩তম বিসিএস (শুল্ক ও আবগারি) ক্যাডারের এই কর্মকর্তা দীর্ঘ কর্মজীবনে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দায়িত্ব পালন করেছেন। সততা, দায়িত্বশীলতা এবং পেশাদার আচরণের জন্য তিনি প্রশাসনিক মহলে পরিচিত ছিলেন। সর্বশেষ তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে।
তাঁর মৃত্যুতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রমে শোক ও শূন্যতার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। সহকর্মী ও অধীনস্থ কর্মকর্তারা জানান, তিনি কাজের প্রতি অত্যন্ত মনোযোগী ছিলেন এবং নীতিনির্ধারণী কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছিলেন। তাঁর হঠাৎ প্রয়াণে মন্ত্রণালয়ের অনেক কর্মকর্তাই গভীরভাবে মর্মাহত।
বাণিজ্য সচিবের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর প্রশাসন, রাজনৈতিক অঙ্গন এবং বিভিন্ন পেশাজীবী মহলে শোকের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তাঁর মৃত্যু শুধু একটি ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং দেশের প্রশাসনিক কাঠামোর জন্যও এক অপূরণীয় ক্ষতি বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন।
এদিকে, সচিবের মৃত্যুর কারণে পূর্বনির্ধারিত সিলেট সফর স্থগিত করেছেন বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, সরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম ও সভায় অংশ নিতে তাঁর আজ সিলেটে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে সচিবের মৃত্যুর পরপরই সফরসূচি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এক শোকবার্তায় মাহবুবুর রহমানের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, মাহবুবুর রহমান ছিলেন একজন দক্ষ, সৎ ও নিষ্ঠাবান প্রশাসনিক কর্মকর্তা। তার পেশাদারিত্ব ও দায়িত্ববোধ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। তাঁর অকাল মৃত্যু দেশের প্রশাসনের জন্য এক বড় ক্ষতি, যা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
মন্ত্রী আরও বলেন, মাহবুবুর রহমান তার কর্মজীবনে সততা ও নিষ্ঠার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। তিনি বিশ্বাস করতেন জনসেবাই প্রকৃত দায়িত্ব, এবং সেই নীতিতে থেকেই তিনি কাজ করে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে শুধু একজন কর্মকর্তা নয়, একজন অভিজ্ঞ প্রশাসককেও হারাল দেশ।
শোকবার্তায় মন্ত্রী মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, সরকার ও মন্ত্রণালয় এই শোকের সময়ে পরিবারের পাশে থাকবে।
মাহবুবুর রহমানের সহকর্মীরা জানান, তিনি সবসময় কাজের চাপের মধ্যেও মানবিক আচরণ বজায় রাখতেন। নতুন নীতি বাস্তবায়ন, বাণিজ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরে গভীর শূন্যতা তৈরি হয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা গেছে, হঠাৎ অসুস্থতার কারণে তিনি কয়েকদিন ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তাঁর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর স্বজন ও আত্মীয়দের মধ্যে শোকের মাতম ছড়িয়ে পড়ে।
প্রশাসনিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অভিজ্ঞ এই কর্মকর্তার মৃত্যু দেশের বাণিজ্য খাতের চলমান নীতি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াতেও কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সরকার দ্রুত প্রশাসনিক শূন্যতা পূরণে পদক্ষেপ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, মাহবুবুর রহমানের মৃত্যু শুধু একটি দাপ্তরিক ঘটনা নয়, বরং একটি দক্ষ ও নিবেদিতপ্রাণ প্রশাসনিক জীবনের অবসান। তাঁর কর্মজীবন, সততা ও দায়িত্ববোধ ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন।
এই শোকাবহ ঘটনার মধ্য দিয়ে দেশের প্রশাসনিক অঙ্গন আবারও স্মরণ করিয়ে দিল, দায়িত্বশীল মানুষের হঠাৎ বিদায় পুরো একটি ব্যবস্থাকে কতটা গভীরভাবে প্রভাবিত করতে পারে।


