সিলেটে শুরু বোরো ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান, লক্ষমাত্রা ২২ হাজার টন

প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।

সিলেটে বোরো মৌসুমের ধান কাটার ব্যস্ততার মধ্যেই শুরু হয়েছে সরকারি ধান ও চাল সংগ্রহ কার্যক্রম। কৃষকের ঘরে নতুন ধান ওঠার এই সময়ে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে এবং খাদ্য মজুত শক্তিশালী করতে সরকারিভাবে ধান ও চাল সংগ্রহের উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। রোববার বিকেলে সিলেট সদর খাদ্য গুদামে বোরো সংগ্রহ ২০২৬ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এ বছরের সংগ্রহ অভিযান। আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে এই কার্যক্রম।

দক্ষিণ সুরমা খাদ্য গুদামে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, কৃষি বিভাগের প্রতিনিধি, মিল মালিক, স্থানীয় কৃষক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। নতুন মৌসুমের ধান ঘিরে কৃষকদের মধ্যে যেমন আশাবাদ দেখা গেছে, তেমনি সরকারের পক্ষ থেকেও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংগ্রহ কার্যক্রম সফল করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সিলেট জেলায় মোট ২২ হাজার টনের বেশি ধান ও চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ৮ হাজার ২৫১ মেট্রিক টন, সিদ্ধ চাল ৮ হাজার ৫৩৯ মেট্রিক টন এবং আতপ চাল ৫ হাজার ৩০৩ মেট্রিক টন। শুধু সিলেট সদর খাদ্য গুদামের জন্য ধান সংগ্রহের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৪৯৯ মেট্রিক টন, সিদ্ধ চাল ৩ হাজার ৯৮২ মেট্রিক টন এবং আতপ চাল ২ হাজার ৫৬২ মেট্রিক টন।

সরকার নির্ধারিত দামে প্রতি কেজি ধান ৩৬ টাকা, সিদ্ধ চাল ৪৯ টাকা এবং আতপ চাল ৪৮ টাকায় সংগ্রহ করা হবে। সে অনুযায়ী প্রতি মণ ধানের দাম পড়ছে ১ হাজার ৪৪০ টাকা। কৃষকরা যাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন এবং সরাসরি সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে পারেন, সেজন্য কৃষি অফিসের নির্বাচিত তালিকার মাধ্যমে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একজন কৃষক সর্বনিম্ন ১২০ কেজি বা তিন মণ এবং সর্বোচ্চ তিন টন বা ৭৫ মণ পর্যন্ত ধান সরকারি গুদামে বিক্রি করতে পারবেন। একই সঙ্গে জেলার ১১টি অটোমেটিক রাইস মিল এবং ৭০টি হাস্কিং রাইস মিল চুক্তির আওতায় চাল সরবরাহ করবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেটের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক এস এম সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, সরকার কৃষকের উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। কৃষকদের কষ্টার্জিত ফসল যেনো ন্যায্য দামে বিক্রি হয় এবং তারা যেনো কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারি খাদ্য মজুত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই লক্ষ্যে সারা দেশের মতো সিলেটেও সংগ্রহ অভিযান গুরুত্বের সঙ্গে পরিচালিত হবে।

দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা সংগ্রহ কমিটির সভাপতি এস এম অনিক চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. জাকারিয়া মুস্তফা। তিনি বলেন, কৃষকদের সুবিধা নিশ্চিত করতে গুদাম পর্যায়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সংগ্রহ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে এবং কৃষকদের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্থানীয় কৃষকরাও সরকারি দামে ধান বিক্রির সুযোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। অনেক কৃষক জানান, বাজারে ধানের দাম অনেক সময় উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে না। ফলে সরকারি সংগ্রহ কার্যক্রম তাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি নিয়ে আসে। তবে তারা আশা করছেন, গুদামে ধান বিক্রির প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত করা হবে, যাতে দূরবর্তী এলাকা থেকে আসা কৃষকদের অতিরিক্ত ভোগান্তিতে পড়তে না হয়।

দক্ষিণ সুরমা উপজেলার এক কৃষক বলেন, সার, সেচ, শ্রমিক খরচ সবকিছু মিলিয়ে কৃষি উৎপাদনের ব্যয় আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। এমন অবস্থায় সরকার যদি ন্যায্যমূল্যে ধান কেনে, তাহলে কৃষক কিছুটা হলেও লাভবান হবে। তবে সময়মতো ধান সংগ্রহ করা জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ সুরমা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপংকর সূত্রধর, খাদ্য নিয়ন্ত্রক (কারিগরি) মো. কামরুল ইসলাম, খাদ্য নিয়ন্ত্রক জাহাঙ্গীর আরিফ খান, সিলেট সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন এবং সিলেট সদর এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুস সামাদ। এছাড়া সিলেট বিভাগীয় মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর সাব্বির আহমেদ এবং বাংলাদেশ পুষ্টি চাল মিশ্রণ মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলামও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

বক্তারা বলেন, বোরো মৌসুম বাংলাদেশের খাদ্য উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিকভাবে ধান সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা গেলে দেশের খাদ্য মজুত আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে কৃষকদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তাও বাড়বে। তারা কৃষকদের নির্বিঘ্নে গুদামে ধান বিক্রি করতে উৎসাহিত করেন এবং সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতার আহ্বান জানান।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সিলেট অঞ্চলে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বোরো উৎপাদন ভালো হয়েছে। ফলে কৃষকদের মধ্যে সন্তোষ দেখা যাচ্ছে। তবে কৃষকরা বাজারে ধানের দাম স্থিতিশীল রাখা এবং দ্রুত সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে একদিকে কৃষক ন্যায্যমূল্য পান, অন্যদিকে সরকারও পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত গড়ে তুলতে পারে। তবে কার্যক্রমের সফলতা নির্ভর করবে স্বচ্ছতা, দ্রুততা এবং কৃষকবান্ধব ব্যবস্থাপনার ওপর।

সিলেটে শুরু হওয়া এই বোরো সংগ্রহ অভিযানকে ঘিরে এখন কৃষকদের প্রত্যাশা—তাদের ঘামের ফসল যেনো যথাযথ মূল্য পায় এবং সরকারি উদ্যোগ বাস্তব অর্থেই কৃষকের মুখে হাসি ফোটাতে পারে।

এই সপ্তাহের খবরাখবর

কই মাছ কেন বৃষ্টিতে ডাঙায় ওঠে

প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেটে ছিনতাই চক্রের ১০ সদস্য গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

ফসল হারিয়ে কৃষকের চোখে জল, আস্থা আল্লাহর ওপর

প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

নামাজরত অবস্থায় বৃদ্ধ খুন, তোলপাড় শ্রীমঙ্গল

প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেট সীমান্তে কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ

প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিষয়বস্তু

কই মাছ কেন বৃষ্টিতে ডাঙায় ওঠে

প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেটে ছিনতাই চক্রের ১০ সদস্য গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

ফসল হারিয়ে কৃষকের চোখে জল, আস্থা আল্লাহর ওপর

প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

নামাজরত অবস্থায় বৃদ্ধ খুন, তোলপাড় শ্রীমঙ্গল

প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেট সীমান্তে কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ

প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিমানের বহরে যুক্ত হচ্ছে ১৪ নতুন এয়ারক্রাফট

প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

নিহত শ্রমিকদের মরদেহ বহনে সহায়তায় এগিয়ে এলো এসনিক

প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বড়লেখায় ৮৬ লাখ টাকার ভারতীয় জিরা জব্দ

প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সম্পর্কিত নিবন্ধ

জনপ্র্যিয় পেজ