প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
আধুনিক সভ্যতার এই স্বর্ণযুগে বিশ্বজুড়ে যোগাযোগব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নয়ন এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজারনীতির সুবাদে আকাশপথের ভ্রমণ সাধারণ মানুষের নাগালে চলে এসেছে। একসময় বিমানে যাতায়াত করা মানেই ছিল সমাজের অতি উচ্চবিত্ত শ্রেণির জন্য সংরক্ষিত একটি চরম বিলাসিতা কিংবা বিশেষ অধিকারের বিষয়। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে সাশ্রয়ী বিমানসেবা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ফলে আজ ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য কিংবা প্রতিবেশী দেশ ভারতে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষও নিয়মিতভাবে বিমানে যাতায়াত করছেন। বিশ্ববাসীর দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়া বিমান পরিবহন ব্যবস্থা এখন আর কেবল কোনো আরাম-আয়েশ বা আভিজাত্যের বাহন মাত্র নয়, বরং এটি শিক্ষাগ্রহণ, উন্নত চিকিৎসা সেবা গ্রহণ, ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রশাসনিক জরুরি কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং যে কোনো মানবিক প্রয়োজনে দ্রুত যাতায়াতের এক অপরিহার্য মাধ্যম হিসেবে আজ সর্বমহলে স্বীকৃত হয়েছে।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে, বিশেষ করে দেশের অভ্যন্তরীণ বিমান রুটগুলোতে আধুনিক এই বাস্তবতার বিন্দুমাত্র প্রতিফলন দেখতে পাওয়া যায় না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, দেশের বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বিভিন্ন এয়ারলাইনস কোম্পানিগুলো তাদের ইচ্ছেমতো যাত্রীচাহিদাকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে খেয়ালখুশিমতো বিমানভাড়া নির্ধারণ করে চলেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ভাড়ার হার এমন এক অস্বাভাবিক পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে যে, সাধারণ মানুষের পক্ষে তা বহন করা প্রায় অসম্ভব ও অসহনীয় হয়ে উঠেছে। অথচ মাত্র কয়েক বছর আগেও অভ্যন্তরীণ রুটের এই পরিস্থিতি বর্তমানের মতো এতটা বেসামাল ও জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়নি। ইচ্ছেমতো ভাড়া বাড়িয়ে যাত্রীদের পকেট কাটার এই সংস্কৃতি রোধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না থাকায় সাধারণ যাত্রীরা প্রতিনিয়ত চরম আর্থিক ও মানসিক হেনস্তার শিকার হচ্ছেন।
এই বৈষম্যমূলক ও অস্বাভাবিক ভাড়ার সবচেয়ে জ্বলন্ত উদাহরণ হিসেবে দেশের অন্যতম ব্যস্ততম রুট ঢাকা–সিলেট আকাশপথের কথা খুব সহজেই তুলে ধরা যায়। রাজধানী ঢাকা থেকে আধ্যাত্মিক রাজধানী সিলেটের ভৌগোলিক দূরত্ব মাত্র প্রায় ১২০ নটিক্যাল মাইলের মতো একটি স্বল্প পরিসর পথ। অথচ আশ্চর্যের বিষয় হলো, এত অল্প দূরত্বের এই অভ্যন্তরীণ রুটে অনেক সময় একমুখী যাত্রার বিমানভাড়া ১২ হাজার টাকারও বেশি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে সাধারণ দূরত্ব, জেট ফুয়েল বা জ্বালানি ব্যয়ের হিসাব এবং আন্তর্জাতিক বাজারের মানদণ্ডগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে ঢাকা-সিলেট রুটের এই মাত্রাতিরিক্ত ভাড়া সাধারণ মানুষের কাছে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক, গণবিরোধী এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে প্রতীয়মান হয়। সাধারণ একটি স্বল্প দূরত্বের যাতায়াতের জন্য এত চড়া মূল্য পরিশোধ করতে বাধ্য হওয়া যাত্রীদের মনে গভীর ক্ষোভের জন্ম দিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন রুটের ভাড়ার কাঠামোর সঙ্গে যদি আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ ভাড়ার তুলনা করা হয়, তবে এই অসংগতির চিত্রটি আরও অনেক বেশি স্পষ্ট ও দিবালোকের মতো পরিষ্কার হয়ে ওঠে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ভারতের ভূখণ্ডে অবস্থিত আগরতলা থেকে চেন্নাই শহরের দূরত্ব প্রায় ১৬৭৮ কিলোমিটার বা প্রায় ৯০৬ নটিক্যাল মাইল, অথচ সেই দীর্ঘ দূরত্বের রুটে বিমানভাড়া রাখা হয় মাত্র প্রায় ১১ হাজার ৭০০ রুপির কাছাকাছি। অন্যদিকে কলকাতা থেকে দিল্লির মতো বিশাল দূরত্বের রুটের দূরত্ব প্রায় ৭০৯ নটিক্যাল মাইল, যেখানে একমুখী বিমানভাড়া প্রায় ৭৩ মার্কিন ডলার এবং আসা-যাওয়া উভয় মিলিয়ে প্রায় ১৪৬ ডলারের মতো পড়ে। সেই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও দূরত্বের হিসাবের তুলনায় মাত্র ১২০ নটিক্যাল মাইলের স্বল্প দূরত্বের ঢাকা–সিলেট রুটের বর্তমান ভাড়ার এই লাগামহীন ও বেসামাল অবস্থা যে কতটা বৈষম্যমূলক, তা যেকোনো বিবেকবান মানুষ মাত্রই খুব সহজেই অনুধাবন করতে পারবেন।
অস্বাভাবিক ও আকাশছোঁয়া এই বিমানভাড়ার কারণে সবচেয়ে বেশি এবং সরাসরি ভুক্তভোগী হচ্ছেন আমাদের সমাজের সাধারণ মানুষ, যাদের মধ্যে রয়েছেন অসুস্থ ও অসহায় রোগী, উচ্চশিক্ষার জন্য যাতায়াতকারী শিক্ষার্থী, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী, বিদেশগামী প্রবাসী শ্রমিক, সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী এবং জরুরি পারিবারিক বা মানবিক পরিস্থিতিতে আকস্মিক যাতায়াতকারী সাধারণ নাগরিকবৃন্দ। অনেক সময় জীবন-মরণের সন্ধিক্ষণে ঢাকায় উন্নত চিকিৎসা নেওয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বা অন্য কোথাও কোনো গুরুত্বপূর্ণ ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া, জরুরি ব্যবসায়িক বৈঠকে যোগ দেওয়া কিংবা মধ্যপ্রাচ্য বা পশ্চিমা বিশ্বের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সময়মতো ধরার জন্য বিমানপথ ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প বা বাস্তবসম্মত মাধ্যম থাকে না। নিরুপায় হয়ে এই বিশেষ পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়েই যাত্রীদের এই চড়া মূল্যের টিকিট কিনতে হয়, যা তাদের ওপর এক প্রকার নীরব অর্থনৈতিক নির্যাতন ছাড়া আর কিছুই নয়।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দেশের অন্য দুটি প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম অর্থাৎ ঢাকা–সিলেট রেল ও সড়ক যোগাযোগের দীর্ঘদিনের নানা প্রকট সীমাবদ্ধতা ও ভঙ্গুর দশা। সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারা, পথে দীর্ঘ যানজট, সিডিউল বিপর্যয়, অবকাঠামোগত কাঠামোগত দুর্বলতা এবং বিভিন্ন স্থানে যাত্রাপথের চরম অনিশ্চয়তার কারণে বাধ্য হয়ে বিপুলসংখ্যক সাধারণ যাত্রী বিমানপথ বেছে নিতে বাধ্য হন। মানুষের এই বাধ্যতামূলক চাহিদাকে এক শ্রেণির বিমানসংস্থা অতিরিক্ত মুনাফা লুটে নেওয়ার হাতিয়ার বা সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছে, যা কোনো অবস্থাতেই জনস্বার্থসম্মত হতে পারে না। জনগণের এই অসহায়ত্বকে পুঁজি করে ব্যবসা করার এই মানসিকতা জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। সরকার ও সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়েই মূলত এই ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলটি বাংলাদেশের ভূগোলে সবচেয়ে বড় প্রবাসী অধ্যুষিত জনপদ হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত। প্রতিবছর এই অঞ্চলের লক্ষ লক্ষ প্রবাসী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা কাজের প্রয়োজনে কিংবা আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ধরার জন্য নিয়মিতভাবে ঢাকা ও সিলেটের মধ্যে যাতায়াত করে থাকেন। অথচ এই অস্বাভাবিক ও চড়া অভ্যন্তরীণ বিমানভাড়া তাদের এবং তাদের পরিবারগুলোর ওপর অতিরিক্ত ও অসহনীয় আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে। দেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে এবং রিজার্ভ সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে অবিস্মরণীয় অবদান রাখা এই রেমিট্যান্স যোদ্ধা জনগোষ্ঠীর নায্য অধিকার ও স্বার্থ এভাবে প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রবাসীদের রক্তজল করা ঘামের উপার্জিত অর্থ এভাবে অতিরিক্ত বিমানভাড়ার নামে লোপাট হয়ে যাওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সরকারের নীতিনির্ধারক মহলের উচিত অবিলম্বে এই জনপদের মানুষের নায্য অধিকার রক্ষায় জোরালো ভূমিকা পালন করা।
এখানে একটি অত্যন্ত যৌক্তিক ও মৌলিক প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই সামনে চলে আসে যে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিমানবাজারে কি আদৌ কোনো প্রকৃত ও সুস্থ প্রতিযোগিতা বিদ্যমান রয়েছে? প্রায় একই সময়ে দেশের বিভিন্ন বেসরকারি এয়ারলাইনসের টিকিটের দাম প্রায় কাছাকাছি এবং অস্বাভাবিক রকমের উচ্চ থাকা সচেতন যাত্রীদের মনে স্বাভাবিকভাবেই নানা সন্দেহের জন্ম দেয়। এ ক্ষেত্রে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বা সিএএবির ভূমিকা আরও অনেক বেশি সক্রিয়, কঠোর ও দায়িত্বশীল হওয়া অত্যন্ত জরুরি ছিল। কিন্তু বাস্তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকির অভাবে এয়ারলাইনসগুলো এক প্রকার একচেটিয়া বাজার তৈরি করে রেখেছে। পাশাপাশি টিকিটের মূল নির্ধারিত ভাড়া, ফুয়েল সারচার্জ, সরকারি ভ্যাট এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ফি বা চার্জগুলো পৃথকভাবে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে যাত্রীদের সামনে প্রদর্শনের আইনি বাধ্যবাধকতা থাকা উচিত, যাতে সাধারণ যাত্রীরা প্রকৃত ব্যয় সম্পর্কে টিকিট ক্রয়ের আগেই পুরোপুরি অবগত থাকতে পারেন।
আমরা গভীরভাবে বিশ্বাস করি যে, সরকারের নীতিনির্ধারক মহল ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় চাইলে খুব সহজেই দেশের অভ্যন্তরীণ বিমান রুটগুলোতে একটি যৌক্তিক সর্বোচ্চ ভাড়ার সীমা বা ফেয়ার ক্যাপ নির্ধারণ করে দিতে পারে। বিশেষ করে ঢাকা–সিলেট, ঢাকা–চট্টগ্রাম ও ঢাকা–কক্সবাজারের মতো অত্যন্ত উচ্চচাহিদাসম্পন্ন ও জনবহুল রুটগুলোতে এই নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা অতি দ্রুত চালু করা প্রয়োজন। দেশের অন্যান্য গণপরিবহন ও জনসেবামূলক খাতের মতো বিমানসেবার ক্ষেত্রেও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা এবং দূরত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভাড়া নির্ধারণ করা হলে একদিকে যেমন যাত্রীদের দুর্ভোগ কমবে, অন্যদিকে এয়ারলাইনসগুলোর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালোবাসাও বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস।
আমরা সিলেটবাসী অত্যন্ত আশাবাদী যে, সিলেটের কৃতি সন্তান ও বর্তমান সরকারের মান্যবর দুই উপদেষ্টা জনাব আরিফুল হক চৌধুরী ও জনাব খন্দকার মুকতাদির আহমদ মহোদয় এ বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক, দূরদর্শী ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। তাঁদের সুযোগ্য ও গতিশীল নেতৃত্বে সিলেটের স্বনামধন্য ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনসমূহ—যেমন সিলেট আইনজীবী সমিতি, সিলেট প্রেসক্লাব, সিলেট জেলা প্রেসক্লাব, ইমজা, সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাব, সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, মহানগর চেম্বার, স্টেশন ক্লাব, সিলেট ক্লাব, ঢাকাস্থ জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন, বিএমএ সিলেট শাখা, ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ সিলেট কেন্দ্র, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, ডায়াবেটিস সমিতি, হার্ট ফাউন্ডেশন, বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও এমসি কলেজের সম্মানিত অধ্যক্ষবৃন্দ, সিলেটের সকল স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসমূহ, লায়ন্স ক্লাব, রোটারি ক্লাব, এপেক্স ক্লাব, রাইফেলস ক্লাবসহ অন্যান্য সকল পেশাজীবী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, সিলেটের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত উপাচার্যবৃন্দ এবং অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে সঙ্গে নিয়ে একটি শক্তিশালী যৌথ জনউদ্যোগ গড়ে তোলা আজ সময়ের সবচেয়ে জোরালো দাবি।
মনে রাখা প্রয়োজন যে, এই সংকট কেবল একা সিলেটের কোনো আঞ্চলিক সমস্যা নয়; এটি মূলত বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলের সাধারণ বিমানযাত্রীদের একটি সার্বিক ও জাতীয় সমস্যা। সিলেট থেকে যদি এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে একটি সুসংগঠিত, সুশৃঙ্খল ও যুক্তিনির্ভর সামাজিক আন্দোলন বা উদ্যোগ শুরু করা যায়, তবে তা সারা দেশের মানুষের কাছে একটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। বিমানভাড়া কমানোর এই দাবিটি কোনো বিলাসিতার বিতর্ক নয়; বরং এটি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা, উচ্চশিক্ষা প্রাপ্তি, ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা, প্রবাসীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সার্বিক আঞ্চলিক উন্নয়নের সঙ্গে অত্যন্ত গভীরভাবে সম্পর্কিত। তাই এখন সময় এসেছে স্বচ্ছ ভাড়ানীতি প্রণয়ন, প্রশাসনের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, বাজারে প্রকৃত প্রতিযোগিতা নিশ্চিতকরণ এবং সাধারণ যাত্রীস্বার্থ রক্ষায় সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান ও ফলপ্রসূ পদক্ষেপ গ্রহণের। জনস্বার্থের এই মৌলিক প্রশ্নের সুরাহা হওয়া আজ সময়ের সবচেয়ে অপরিহার্য ও জোরালো দাবি।


