প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
সিলেট অঞ্চলে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আবহাওয়া অধিদফতর। একই সঙ্গে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য প্রকাশিত বিশেষ আবহাওয়া সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, দুপুরের মধ্যে সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতরের এই সতর্কবার্তা এমন সময়ে এলো, যখন দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মৌসুমি আবহাওয়ার প্রভাবে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি, বজ্রপাত এবং দমকা হাওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েকদিন ধরেই আকাশ মেঘলা থাকা, মাঝেমধ্যে বৃষ্টিপাত এবং বজ্রসহ বৃষ্টির ঘটনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বায়ুমণ্ডলের অস্থিতিশীল অবস্থার কারণে স্বল্প সময়ের মধ্যে ঝড়ো হাওয়া সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়, সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে বজ্রপাতসহ বৃষ্টিপাতেরও সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে নদীপথে চলাচলকারী নৌযান, মাছ ধরার ট্রলার এবং ছোট আকারের জলযানগুলোকে বিশেষ সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাক-বর্ষা এবং বর্ষা মৌসুমের সন্ধিক্ষণে এ ধরনের আবহাওয়া স্বাভাবিক হলেও ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রপাত অনেক সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে নদী ও হাওরবেষ্টিত সিলেট অঞ্চলে হঠাৎ আবহাওয়ার পরিবর্তন মানুষের জীবন ও জীবিকায় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই আগাম সতর্কতা ও সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সিলেট অঞ্চলের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চল, নদীপথ এবং জলাভূমি এলাকায় প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ নৌপথ ব্যবহার করে যাতায়াত করেন। কৃষক, জেলে, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ যাত্রীরা দৈনন্দিন প্রয়োজনেই নদীপথের ওপর নির্ভরশীল। ঝড়ো আবহাওয়ার কারণে তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নদীপথ ব্যবহারকারীদের আবহাওয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, সতর্কবার্তা প্রকাশের পর অনেক নৌযান চালক ও জেলেরা আবহাওয়ার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। নদীপথে চলাচলকারী ছোট নৌযানগুলোকে প্রয়োজন ছাড়া যাত্রা না করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গা ও জলাশয়ে অবস্থান না করতে সচেতন করা হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সিলেট অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে হবে। যদিও এই সংকেতকে নিম্নমাত্রার সতর্কতা হিসেবে ধরা হয়, তারপরও এটি সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়ে পূর্বাভাস প্রদান করে এবং নৌযান ও নদীবন্দর কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আবহাওয়ার আচরণ আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। আগে যেখানে মৌসুমি বৃষ্টিপাত বা ঝড়ের সময়কাল তুলনামূলকভাবে অনুমান করা যেত, এখন অনেক ক্ষেত্রেই স্বল্প সময়ের মধ্যে আবহাওয়ার নাটকীয় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। ফলে আগাম সতর্কতা এবং দুর্যোগ প্রস্তুতি এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
কৃষি খাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সিলেট অঞ্চলে বর্তমানে বিভিন্ন মৌসুমি ফসলের পরিচর্যা চলছে। ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের কারণে খোলা মাঠে থাকা কৃষিপণ্যের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভ্রাট, গাছপালা উপড়ে পড়া এবং স্থানীয় পর্যায়ে যোগাযোগ ব্যবস্থায় সাময়িক বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আবহাওয়া সংক্রান্ত সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব সহকারে নেওয়া প্রয়োজন। অনেক সময় সাধারণ মানুষ নিম্নমাত্রার সতর্ক সংকেতকে গুরুত্ব না দেওয়ায় ছোটখাটো ঝড়ও বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে নদীপথে চলাচলকারী যাত্রী ও মাঝিদের আবহাওয়া পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।
সিলেট অঞ্চলের মানুষ বরাবরই প্রকৃতিনির্ভর জীবনযাপনের সঙ্গে অভ্যস্ত। তবে জলবায়ুগত পরিবর্তন এবং আবহাওয়ার ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তার কারণে এখন আগের তুলনায় বেশি সতর্কতা প্রয়োজন। আবহাওয়া অধিদফতরের সর্বশেষ সতর্কবার্তা সেই প্রয়োজনীয়তার কথাই আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আবহাওয়ার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে পরবর্তী সময়ে নতুন সতর্কবার্তা জারি করা হবে। এদিকে সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি এড়িয়ে চলা, বজ্রপাতের সময় নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া এবং নদীপথে যাতায়াতের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


