সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় এক ব্যবসায়ীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পরিকল্পিত সশস্ত্র হামলা, চাঁদাবাজি ও লুটপাটের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ছামিন ইয়াছার জাবেদ বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার ৩১ আগস্ট ২০২৩ তারিখে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী ছামিন ইয়াছার জাবেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান “মাছুমা শাড়ী অ্যান্ড বোরকা হাউস”—এ প্রবেশ করে প্রথমে তার নিকট ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সন্ত্রাসীরা তার ওপর নির্মম শারীরিক হামলা চালায় এবং জোরপূর্বক নগদ অর্থসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে দ্রুত গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়, যেখানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
একই দিনে হামলাকারীরা তার অপর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান “শাহজালাল ফিশারিজ অ্যান্ড ডেইরি ফার্ম”—এও আক্রমণ চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে, যার ফলে উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ঘটনার পেছনে পূর্ববর্তী বিরোধের সূত্র রয়েছে বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, তার ছোট বোন মাছুমা বেগম আনিকা, যিনি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্রী, ২৩ আগস্ট ২০২৩ থেকে স্কুলে যাতায়াতের পথে কিছু বখাটের দ্বারা ইভটিজিংয়ের শিকার হচ্ছিলেন।
এই ঘটনার পর ছামিন ইয়াছার জাবেদ নিজেই বোনকে স্কুলে আনা—নেওয়া শুরু করেন। তবে একই দিনে (২৩ আগস্ট ২০২৩) দুপুরে ৪—৫টি মোটরসাইকেলে আগত সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা তার পথরোধ করে এবং পিস্তল প্রদর্শন করে তাকে হুমকি দেয় যে, তিনি যেন তার বোনকে স্কুলে আনা—নেওয়া বন্ধ করেন, অন্যথায় তাকে প্রাণনাশ করা হবে।পরবর্তীতে তিনি এ বিষয়ে গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। কিন্তু মামলা দায়েরের পর থেকেই অজ্ঞাত নম্বর থেকে তাকে একাধিকবার ফোন করে মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয় এবং তার বোনকে অপহরণসহ পরিবারকে ক্ষতিসাধনের হুমকি দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের ধারণা, উক্ত মামলার জেরে পরিকল্পিতভাবে এই সশস্ত্র হামলা পরিচালিত হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা জানান, ইভটিজিংয়ের মতো সামাজিক অপরাধের প্রতিবাদ করায় একজন সাধারণ ব্যবসায়ীকে এভাবে টার্গেট করে হামলা চালানো আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতির ইঙ্গিত বহন করে।
এ বিষয়ে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনুর রশীদ জানান, হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে আহত ব্যবসায়ীর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


