প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
সিলেট মহানগরজুড়ে বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অভিযোগে ৫৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে রয়েছেন মাদক ব্যবসায়ী, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, ছিনতাইকারী ও বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি। নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধ দমনের অংশ হিসেবে পরিচালিত এই অভিযানে মহানগর পুলিশের বিভিন্ন থানা ও গোয়েন্দা বিভাগ অংশ নেয়।
মঙ্গলবার সিলেট মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেল তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে এ তথ্য প্রকাশ করে। পুলিশের দাবি, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে এসব ব্যক্তিকে আটক ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানের পর তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রবিবার রাত ১২টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিশেষ করে অপরাধপ্রবণ এলাকা, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাস টার্মিনালসংলগ্ন অঞ্চল, আবাসিক এলাকা এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের অবস্থান চিহ্নিত করে অভিযান চালানো হয়। এসময় মহানগর পুলিশের বিভিন্ন থানার সদস্যদের পাশাপাশি গোয়েন্দা বিভাগও সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে নিয়মিত মামলার আসামি রয়েছেন ১১ জন। এছাড়া আদালতের ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে চারজন, সন্দেহভাজন হিসেবে চারজন এবং মহানগর অধ্যাদেশে ২৫ জনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া ছিনতাইয়ের অভিযোগে পাঁচজন এবং জুয়া আইনে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে নগরীতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে মাদক, ছিনতাই ও চুরি-ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলবে বলে জানিয়েছেন তারা।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ মনজুরুল আলম বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া সবাইকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তিনি জানান, অপরাধ দমনে মহানগর পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে এবং নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে আরও কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশ পুলিশের এই অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, নগরীর কিছু এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই মাদক ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ ছিল। বিশেষ করে রাতের বেলায় অনেক সড়কে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন। ফলে পুলিশের এমন অভিযান অপরাধীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করবে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে বলে তারা মনে করছেন।
তবে মানবাধিকারকর্মীদের কেউ কেউ বলছেন, অভিযানের পাশাপাশি আইনগত প্রক্রিয়া ও মানবাধিকার নিশ্চিত করাও জরুরি। তারা মনে করেন, অপরাধ দমনে কঠোরতা প্রয়োজন হলেও নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, সেদিকেও সতর্ক থাকতে হবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন শহরের মতো সিলেটেও মাদকসংক্রান্ত অপরাধ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে মাদকাসক্তি বৃদ্ধি এবং মাদক ব্যবসার বিস্তার নিয়ে অভিভাবক ও সচেতন মহলে উদ্বেগ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করা হচ্ছে। সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় সিলেটে মাদক পাচারের কিছু ঝুঁকি রয়েছে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্লেষকদের মতে, শুধুমাত্র অভিযান চালিয়ে অপরাধ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা, তরুণদের কর্মসংস্থান, পরিবারভিত্তিক নজরদারি এবং স্থানীয়ভাবে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মাদক ও কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মত দিয়েছেন তারা।
সিলেট মহানগর পুলিশের সাম্প্রতিক এই অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পুলিশ বলছে, যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি অপরাধচক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তেও কাজ চলছে।
এদিকে পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানের খবরে নগরজুড়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ পুলিশের তৎপরতাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ অপরাধের মূল কারণ অনুসন্ধানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক ও অর্থনৈতিক দিকগুলো বিবেচনায় নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব।
নগরবাসী এখন দেখার অপেক্ষায়, পুলিশের চলমান এই অভিযান দীর্ঘমেয়াদে কতটা কার্যকর হয় এবং সিলেট মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে কী ধরনের পরিবর্তন আসে। তবে সাম্প্রতিক এই অভিযানে অন্তত এটুকু স্পষ্ট হয়েছে যে, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন আরও সক্রিয় অবস্থানে রয়েছে।


