যুক্তরাষ্ট্র থেকে কফিনবন্দি হয়ে ফিরলেন বৃষ্টি

প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।

নীরব কান্না, ভারী শোক আর অগণিত প্রশ্নের মাঝে যুক্তরাষ্ট্রে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ দেশে ফিরেছে। দীর্ঘ অপেক্ষা ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে শনিবার (৯ মে) সকালে তাঁর কফিনবন্দি দেহ এসে পৌঁছে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ। বিমানবন্দরের নিস্তব্ধ পরিবেশে প্রিয় সন্তানের নিথর দেহ গ্রহণ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৫০ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের Orlando International Airport থেকে এমিরেটসের ইকে-০২২০ ফ্লাইটে বৃষ্টির মরদেহ ঢাকার উদ্দেশে পাঠানো হয়। দুবাইয়ে ট্রানজিট শেষে Emirates Airline এর আরেকটি ফ্লাইট ইকে-০৫৮২-এর মাধ্যমে মরদেহ শনিবার সকালে ঢাকায় পৌঁছায়। লাশ দেশে ফেরানোর পুরো প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের একজন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

এর আগে স্থানীয় সময় বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের টাম্পা শহরে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় বৃষ্টির। শোকাহত প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও সেখানে অংশ নেন। একই ঘটনায় নিহত আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ গত সোমবার (৪ মে) দেশে আনা হয়। দুই তরুণ শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ—দুই দেশেই গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ঘটনার পরপরই তদন্তে নেমে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে এক মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুঘরবেহকে গ্রেফতার করে। তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও তদন্ত এখনো চলমান, তবে এই নির্মম ঘটনার প্রকৃত কারণ ও পেছনের রহস্য নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি।

নিহত নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম স্বনামধন্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান University of South Florida-এর পিএইচডি শিক্ষার্থী। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল উচ্চমানের একাডেমিক ক্ষেত্রের অন্তর্ভুক্ত, যেখানে তিনি ভবিষ্যতে একজন সফল গবেষক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন দেখতেন। পরিবার, শিক্ষক এবং সহপাঠীদের মতে, তিনি ছিলেন মেধাবী, পরিশ্রমী এবং অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একজন তরুণ গবেষক।

মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। পরিবারের সদস্যরা কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। উপস্থিত আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতরা নীরবে চোখের পানি ফেলেন। প্রিয় মেয়েকে শেষবারের মতো দেখার মুহূর্তটি ছিল অত্যন্ত হৃদয়বিদারক, যা উপস্থিত সবার মনে গভীর দাগ কেটে যায়।

বৃষ্টির এই অকাল মৃত্যুতে শুধু পরিবার নয়, পুরো শিক্ষাঙ্গন ও প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর সহপাঠী ও শিক্ষকরা জানিয়েছেন, তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ও দায়িত্বশীল একজন শিক্ষার্থী, যিনি গবেষণার মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার স্বপ্ন দেখতেন।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই হত্যাকাণ্ডে গভীর শোক প্রকাশ করে বড় একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। University of South Florida জানিয়েছে, নিহত দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী—নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি ও জামিল আহমেদ লিমনকে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করা হবে। আসন্ন বসন্তকালীন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে এই সম্মাননা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গত ৫ মে মিয়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেটকে পাঠানো এক চিঠিতে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়। একই সঙ্গে কনস্যুলেটের একজন প্রতিনিধিকে সমাবর্তনে উপস্থিত থেকে দুই পরিবারের পক্ষে সম্মাননা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে শিক্ষাঙ্গনে এক বিরল সম্মান হিসেবে দেখা হচ্ছে, যদিও শোকাহত পরিবারগুলোর জন্য এটি অপূরণীয় ক্ষতির কোনো বিকল্প হতে পারে না।

বৃষ্টির মৃত্যুতে শোক জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বাংলাদেশি কমিউনিটি বলছে, এ ধরনের ঘটনা শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো প্রবাসী সমাজের নিরাপত্তা ও মানসিক নিরাপত্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে যাওয়া অনেক তরুণ এখন নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে আছেন।

এদিকে, বৃষ্টির পরিবার দেশে ফিরে আসার পর থেকেই গভীর শোকে আচ্ছন্ন। স্বজনরা বলছেন, মেধাবী মেয়েটির এমন নির্মম পরিণতি তারা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না। একদিকে সন্তানের স্বপ্নভঙ্গ, অন্যদিকে অজানা এক নিষ্ঠুর বাস্তবতা—সব মিলিয়ে পরিবারটি এখন গভীর মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত চলমান থাকায় এখনো পুরো ঘটনা স্পষ্ট নয়। তবে প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে ব্যক্তিগত ও সামাজিক বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে নারাজ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বৃষ্টির কফিনবন্দি দেহ দেশে ফেরার মধ্য দিয়ে এক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটলেও শুরু হয়েছে নতুন এক প্রশ্নের—একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর জীবন কেন এভাবে থেমে গেল, আর এর পেছনে দায় কার? এই প্রশ্নের উত্তর এখন শুধু পরিবার নয়, পুরো সমাজই খুঁজছে।

সব মিলিয়ে, নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মৃত্যু শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়, বরং একটি স্বপ্নের করুণ সমাপ্তি, যা বাংলাদেশি শিক্ষার্থী সমাজে গভীর শোক ও ভাবনার ছায়া ফেলেছে।

এই সপ্তাহের খবরাখবর

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রকে ফের আলোচনায় বসার আহ্বান জাতিসংঘের

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সাইফুরের মৃত্যু দুর্ঘটনা নাকি ষড়যন্ত্র, প্রশ্ন রিজভীর

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

গোয়াইনঘাটে ১২০৫ বোতল ফেনসিডিলসহ নারী আটক

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস জাপানের

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে অর্থ ফেরাতে ৫ হাজার কোটি বরাদ্দ

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিষয়বস্তু

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রকে ফের আলোচনায় বসার আহ্বান জাতিসংঘের

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সাইফুরের মৃত্যু দুর্ঘটনা নাকি ষড়যন্ত্র, প্রশ্ন রিজভীর

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

গোয়াইনঘাটে ১২০৫ বোতল ফেনসিডিলসহ নারী আটক

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস জাপানের

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে অর্থ ফেরাতে ৫ হাজার কোটি বরাদ্দ

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

১৫ সেপ্টেম্বর প্রথমবার সিলেট সফরে আসছেন রাষ্ট্রপতি

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

শ্রীমঙ্গলে দুই রাতে ৮ মন্দির ও ঠাকুরঘরে চুরি

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

আমিরাতে ৪ হাজার বাংলাদেশির ভিসা বাতিল, সমাধানের চেষ্টা

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সম্পর্কিত নিবন্ধ

জনপ্র্যিয় পেজ