প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে সিলেট নগরীর কোরবানির পশুর হাটগুলোতে এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ও অপেক্ষার ব্যস্ততা চলছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে গরু, ছাগল ও অন্যান্য কোরবানির পশু নিয়ে বেপারিরা হাটে আসতে শুরু করলেও এখনো কাঙ্ক্ষিত সংখ্যক ক্রেতার দেখা না মেলায় কিছুটা শূন্যতা বিরাজ করছে হাটজুড়ে। তবে ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, ঈদের দিন যত ঘনিয়ে আসবে, ততই জমে উঠবে এই মৌসুমি বাজার।
আগামী ২৮ মে মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা উদযাপিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে সিলেট নগরীর পশুর হাটগুলোতে ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সিলেট সিটি করপোরেশনের আওতায় এবার মোট ছয়টি পশুর হাট বসেছে, যার মধ্যে ঐতিহ্যবাহী কাজিরবাজার পশুর হাট অন্যতম।
হাট ঘুরে দেখা গেছে, এখনো পুরোপুরি জমে ওঠেনি বেচাকেনা। ক্রেতাদের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম হলেও বেপারিরা তাদের আনা পশুর পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। অনেকেই নিজেদের পশু আকর্ষণীয়ভাবে সাজিয়ে রাখছেন যাতে ক্রেতাদের নজর কাড়তে পারেন। বিশেষ করে হাটের প্রবেশমুখ ও প্রধান স্থানগুলো দখলে রাখার জন্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রতিযোগিতাও লক্ষ্য করা গেছে।
বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বেপারিরা জানান, তারা উন্নত জাতের গরু ও ছাগল নিয়ে সিলেটে এসেছেন। এখনো বিক্রি শুরু না হলেও শেষ সময়ে ভালো দামে পশু বিক্রির আশা করছেন তারা। অনেকেই বলছেন, শুরুতে ক্রেতার চাপ কম থাকলেও ঈদের তিন-চার দিন আগে বাজার চাঙা হয়ে ওঠে, যা প্রতি বছরই দেখা যায়।
কাজিরবাজার পশুর হাটের ইজারাদাররা জানিয়েছেন, এবার হাট ব্যবস্থাপনায় কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগের বছরের তুলনায় রসিদের হার ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ব্যবসায়ীদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা তুলনামূলকভাবে বেশি আগ্রহ নিয়ে হাটে অংশ নিচ্ছেন বলে দাবি তাদের।
এছাড়া হাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে পুরো হাট এলাকায় নজরদারি রাখা হচ্ছে। জাল নোট শনাক্তকরণ যন্ত্রও স্থাপন করা হয়েছে, যাতে লেনদেন নিরাপদ থাকে। বাইরের জেলা থেকে আসা ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আলাদা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।
সিলেট নগরীর অন্যান্য পশুর হাটেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। কোথাও পশুর সংখ্যা পর্যাপ্ত থাকলেও ক্রেতার অভাবে বিক্রি শুরু হয়নি, আবার কোথাও সীমিত আকারে বেচাকেনা শুরু হয়েছে। তবে সবখানেই রয়েছে ঈদকেন্দ্রিক প্রাণচাঞ্চল্য ফেরার অপেক্ষা।
হাট সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতি বছরই ঈদের আগের কয়েক দিন হাটে সবচেয়ে বেশি বেচাকেনা হয়। তখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ক্রেতারা একসঙ্গে আসেন, ফলে পশুর দাম ও চাহিদা দুটোই বাড়ে। এবারও সেই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদী।
অন্যদিকে সাধারণ ক্রেতারাও বলছেন, তারা শেষ সময়েই পশু কিনতে হাটে আসবেন, যাতে দামের বিষয়ে তুলনামূলক সুবিধা পাওয়া যায়। অনেকেই অনলাইনে বা পরিচিত ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে পশু কেনার পরিকল্পনাও করছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোরবানির পশুর হাট শুধু একটি বাণিজ্যিক কার্যক্রম নয়, এটি দেশের গ্রামীণ অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এতে কৃষক, খামারি ও পশু ব্যবসায়ীরা সরাসরি উপকৃত হন। একই সঙ্গে নগর এলাকায় মৌসুমি অর্থনৈতিক গতিশীলতাও তৈরি হয়।
সব মিলিয়ে সিলেটের পশুর হাটগুলো এখন অপেক্ষার এক বিশেষ সময় পার করছে। বেপারিদের চোখ ক্রেতার দিকে, আর ক্রেতাদের অপেক্ষা শেষ মুহূর্তের সেরা দামের আশায়। ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই এই হাটগুলো পরিণত হচ্ছে প্রাণচাঞ্চল্যে ভরা এক অর্থনৈতিক মেলায়।


