প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৯ কেজি গাঁজাসহ এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি পিকআপ জব্দ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মাদকবিরোধী এই অভিযানকে স্থানীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চুনারুঘাট থানার এসআই মো. কামরুল হাসানের নেতৃত্বে উপজেলার ৭ নম্বর উবাহাটা ইউনিয়নের নতুনব্রীজ এলাকায় একটি চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়। নিয়মিত তল্লাশির অংশ হিসেবে চুনারুঘাট-নতুনব্রীজ সড়কে যানবাহন যাচাই করা হচ্ছিল।
চেকপোস্ট চলাকালীন সময় চুনারুঘাট থেকে নতুনব্রীজগামী একটি নীল রঙের টাটা সিঙ্গেল কেবিন পিকআপকে থামার সংকেত দেওয়া হয়। তবে চালকের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে পুলিশ গাড়িটি ঘিরে ফেলে এবং তল্লাশি চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
পুলিশ জানায়, পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে গাড়িটির বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় চালকের আসনের নিচে বিশেষভাবে লুকানো অবস্থায় নীল পলিথিন ও স্কচটেপে মোড়ানো তিনটি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। প্যাকেটগুলো খুলে দেখা যায়, ভেতরে মোট ৯ কেজি গাঁজা রয়েছে।
ঘটনাস্থল থেকেই গাড়ির চালককে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তির নাম আল আমিন বক্স (৩৫)। তিনি হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার তিতারকোনা এলাকার মৃত রহিম বক্সের ছেলে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ ধারণা করছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক পরিবহন চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। তবে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানতে তাকে রিমান্ডে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
পুলিশ আরও জানায়, এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। রোববার আটক আল আমিন বক্সকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিতভাবে চলমান রয়েছে। কোনো অবস্থাতেই মাদক কারবারিদের ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি আরও জানান, সীমান্তবর্তী ও আন্তঃজেলা রুটগুলোতে বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, যাতে মাদক পরিবহন বন্ধ করা যায়।
স্থানীয়রা জানান, চুনারুঘাট ও আশপাশের সড়কগুলোতে মাঝে মাঝে মাদক পরিবহনের চেষ্টা দেখা যায়। তবে পুলিশের নিয়মিত চেকপোস্ট ও অভিযান কিছুটা হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করছে।
আইনশৃঙ্খলা বিশ্লেষকদের মতে, ৯ কেজি গাঁজা উদ্ধার একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হলেও এর পেছনের পুরো চক্রকে শনাক্ত করা জরুরি। না হলে একই রুট ব্যবহার করে মাদক পাচার অব্যাহত থাকতে পারে।
তারা আরও বলেন, মাদক শুধু অপরাধ নয়, এটি সামাজিক ও পারিবারিক বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ। তাই শুধু গ্রেপ্তার নয়, এর উৎস ও সরবরাহ চেইন ভাঙতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তির সঙ্গে আরও কারা জড়িত রয়েছে এবং এই মাদক কোথা থেকে আনা হয়েছিল ও কোথায় সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে চুনারুঘাটের এই অভিযানকে মাদকবিরোধী কার্যক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে, যাতে এলাকায় মাদকের বিস্তার পুরোপুরি রোধ করা যায়।


