প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
সিলেট মহানগরে পৃথক দুটি অভিযানে সাতজন ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ। আটককৃতদের মধ্যে তিনজন সিলেট জেলার বাসিন্দা হলেও বাকি চারজন বিভিন্ন জেলার বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের বিরুদ্ধে ছিনতাই ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শনিবার (২৩ মে) সিলেট মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। এর আগে শুক্রবার বিকেলে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। অভিযানে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একাধিক দেশীয় ধারালো অস্ত্রও জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, প্রথম অভিযানটি চালানো হয় শুক্রবার বিকেলে নগরীর ধোপাদিঘীরপাড় এলাকার পাবলিক টয়লেটের সামনে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি ছুরি জব্দ করা হয়, যা ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত হতো বলে ধারণা করছে পুলিশ।
আটক চারজনের মধ্যে দুইজন সিলেট জেলার বাসিন্দা। তারা হলেন কোতোয়ালী থানার সওদাগরটুলা এলাকার আলমগীর মিয়া এবং সাদিপুর-২ এলাকার মো. মোশাররফ হোসেন। অপর দুইজনের মধ্যে একজন সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর থানার পলিগ্রাম এলাকার সফর আলী এবং অন্যজন শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া থানার রুবেল মালত বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা নগরীতে ছিনতাই ও চুরি সংক্রান্ত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
অপরদিকে একইদিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নগরীর কাষ্টঘর এলাকায় আরেকটি অভিযান চালানো হয়। ওই অভিযানে আরও তিনজন ছিনতাইকারীকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকেও একটি ধারালো চাকু উদ্ধার করা হয়েছে।
এই দলে আটক তিনজনের মধ্যে একজন সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা এলাকার বাসিন্দা মো. জাহেদ আহমদ। অপর দুইজন সুনামগঞ্জ জেলার বাসিন্দা মির্জা ছাব্বির এবং হাসান বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, নগরীতে দীর্ঘদিন ধরে ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় ছিল বলে গোয়েন্দা তথ্য ছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই ধারাবাহিকভাবে অভিযান পরিচালনা করা হয়। আটককৃতদের বিরুদ্ধে নগরীর বিভিন্ন থানায় একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলেও জানা গেছে।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (গণমাধ্যম) মো. মনজুরুল আলম বলেন, নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত অভিযান চলছে। ছিনতাই ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। আটককৃতদের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা দায়ের করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, শহরের বিভিন্ন ব্যস্ত এলাকায় ছিনতাই প্রতিরোধে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন পুলিশের প্রধান অগ্রাধিকার।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে নগরীতে ছিনতাইয়ের ঘটনা কিছুটা বেড়ে গিয়েছিল, বিশেষ করে ব্যস্ত সড়ক ও নির্জন এলাকায়। এতে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। তবে সাম্প্রতিক এই অভিযানকে তারা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
আইনশৃঙ্খলা বিশ্লেষকদের মতে, নগর এলাকায় ছিনতাই প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অপরাধীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃতদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তাদের চক্রের আরও সদস্যদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এতে করে পুরো ছিনতাই চক্রকে শনাক্ত ও নির্মূল করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে সিলেট মহানগরে একের পর এক অভিযানে ছিনতাই চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার নগরবাসীর মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, এই ধরনের অপরাধ পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।


