প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে পুরোনো একটি ল্যাপটপ চুরির অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তাঁর দাবি, ২০১৯ সালে ছাত্র ফেডারেশনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক নারী শিক্ষার্থীর ল্যাপটপ চুরির অভিযোগ ওঠার পর সংগঠনটির পক্ষ থেকে তদন্ত করা হয় এবং তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া একাধিক পোস্টে রাশেদ খাঁন এসব দাবি করেন। তাঁর পোস্টের বরাত দিয়ে বুধবার দেশের একাধিক সংবাদমাধ্যমেও বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছে। তবে প্রকাশ্যে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযোগটির স্বাধীন যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে কথিত তদন্ত কমিটির পূর্ণ প্রতিবেদন, বহিষ্কারের মূল নথি কিংবা সংশ্লিষ্ট নারী শিক্ষার্থীর বক্তব্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি বলে কয়েকটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ল্যাপটপ চুরি এবং সেই অভিযোগের ভিত্তিতে বহিষ্কারের বিষয়টি রাশেদ খাঁনের দাবি হিসেবেই উপস্থাপন করা হচ্ছে।
রাশেদ খাঁনের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ছাত্র ফেডারেশনের রাজনীতিতে যুক্ত থাকা অবস্থায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থী ল্যাপটপ চুরির অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের পর ছাত্র ফেডারেশনের তৎকালীন দায়িত্বশীল নেতারা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, কমিটি বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পায় এবং এরপর নাসীরুদ্দীনকে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়।
নিজের দাবির সমর্থনে রাশেদ খাঁন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বহিষ্কারসংক্রান্ত বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের একটি পুরোনো নোটিশের ছবি তাঁর ফেসবুক পোস্টের কমেন্টে যুক্ত করেছেন বলেও একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে ওই নোটিশের পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন এবং অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য নথি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। এ কারণে নথিটির অস্তিত্ব থাকলেও সেটিকে ল্যাপটপ চুরির অভিযোগের স্বাধীন প্রমাণ হিসেবে নিশ্চিতভাবে উপস্থাপন করা যাচ্ছে না।
রাশেদ খাঁন আরও দাবি করেন, ওই সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত অনেকেই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বহিষ্কারের পর নাসীরুদ্দীন কিছু সময় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে ছিলেন। পরে এবি পার্টিতে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে তিনি আবার রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হন। রাশেদ খাঁনের দাবি, এবি পার্টির নেতাকর্মীরা তখন তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পর্কে অবগত ছিলেন না।
তবে এই অংশেও স্বাধীন কোনো দলিল বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। ফলে নাসীরুদ্দীনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে কথিত বিরতি, পরবর্তী সময়ে এবি পার্টিতে যোগদান এবং দলটির নেতাকর্মীরা অভিযোগটি জানতেন কি না—এসব বিষয়ও রাশেদ খাঁনের বক্তব্যের ভিত্তিতেই আলোচনায় এসেছে।
ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে রাশেদ খাঁন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর রাজনৈতিক অবস্থান ও বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তিনি নাসীরুদ্দীনের বিরুদ্ধে অতীতের ল্যাপটপ চুরির অভিযোগের পাশাপাশি ‘ছাগলচুরি’র প্রসঙ্গও টেনে আনেন এবং তাঁর নৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এ সময় তিনি নাসীরুদ্দীনকে ‘ল্যাপটপ চোর’ ও ‘ছাগলচোর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এসব শব্দ ও মন্তব্য রাশেদ খাঁনের নিজের রাজনৈতিক বক্তব্য; এগুলোকে স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ নেই।
ঘটনাটি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে এখন পর্যন্ত নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সরাসরি বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্তত কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে তাঁর কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের সত্যতা, কথিত তদন্তের ফলাফল এবং বহিষ্কারের কারণ সম্পর্কে নাসীরুদ্দীনের অবস্থান জানা গেলে বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ চিত্র আরও স্পষ্ট হতে পারে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরোনো ঘটনা ও অভিযোগ সামনে আসার ক্ষেত্রে তথ্য যাচাইয়ের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ প্রকাশের ক্ষেত্রে অভিযোগকারী বা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বক্তব্যের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট নথি, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, তদন্তের ফলাফল এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন। বিশেষ করে বহু বছর আগের কোনো ঘটনার ক্ষেত্রে প্রাথমিক নথি ও প্রত্যক্ষ সূত্র পাওয়া না গেলে সেটিকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা সাংবাদিকতার নিরপেক্ষতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বর্তমানে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক হিসেবে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয়। তাঁর বিরুদ্ধে রাশেদ খাঁনের সাম্প্রতিক অভিযোগ তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি পোস্টের গণ্ডি ছাড়িয়ে রাজনৈতিক আলোচনায় এসেছে। তবে অভিযোগের রাজনৈতিক তাৎপর্য নির্ধারণের আগে এর পক্ষে উপস্থাপিত নথি ও বক্তব্যের স্বাধীন যাচাই এবং নাসীরুদ্দীনের জবাব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এদিকে, রাশেদ খাঁনের অভিযোগের সমর্থনে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম তাঁর ফেসবুক পোস্টের বক্তব্য প্রকাশ করেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রকাশ্য প্রতিবেদনে কথিত তদন্ত কমিটির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন বা সংশ্লিষ্ট নারী শিক্ষার্থীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাই নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে ল্যাপটপ চুরির অভিযোগ এবং এর জেরে বহিষ্কারের দাবিকে আপাতত রাশেদ খাঁনের অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বা বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সংশ্লিষ্ট তৎকালীন নেতাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে অভিযোগটির প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আরও তথ্য যুক্ত হতে পারে।


