প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় এক গ্রামীণ ব্যাংক কর্মকর্তার বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গভীর রাতে সশস্ত্র ডাকাত দল বসতঘরের তালা ও দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের হাত-পা বেঁধে মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মকর্তা গৌতম চন্দ্র দেবনাথসহ তিনজন আহত হয়েছেন। ডাকাতরা নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রীসহ প্রায় ১৫ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে বলে দাবি করেছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোররাতে চুনারুঘাট উপজেলার ৫ নম্বর শানখলা ইউনিয়নের শ্রীবাউর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শান্ত গ্রামীণ পরিবেশে গভীর রাতের এই ডাকাতির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য তদন্ত শুরু করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোররাত আনুমানিক ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে ৪ থেকে ৫ সদস্যের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল গৌতম চন্দ্র দেবনাথের বাড়িতে হানা দেয়। ডাকাতদের হাতে দেশীয় অস্ত্র ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রথমে তারা বসতঘরের মূল গেটের তালা কেটে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর একে একে বিভিন্ন কক্ষের দরজা শাবলসহ অন্যান্য সরঞ্জাম দিয়ে ভেঙে ফেলে।
ঘুমন্ত অবস্থায় হঠাৎ করে সশস্ত্র ব্যক্তিদের ঘরের ভেতরে দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অভিযোগ অনুযায়ী, ডাকাতরা পরিবারের সদস্যদের নিয়ন্ত্রণে নিতে তাদের হাত-পা বেঁধে ফেলে এবং কেউ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে মারধর করে। এ সময় গৌতম চন্দ্র দেবনাথসহ তিনজন আহত হন।
পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করতে ডাকাতরা ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখায় বলেও জানা গেছে। প্রাণনাশের আশঙ্কায় পরিবারের সদস্যরা ডাকাতদের বাধা দিতে পারেননি। পরে ঘরের বিভিন্ন স্থান তল্লাশি করে তারা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী সংগ্রহ করতে থাকে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দাবি অনুযায়ী, ডাকাতরা নগদ প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। এছাড়া প্রায় ১০ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। জুতা, কাপড়সহ আরও বিভিন্ন মালামালও ডাকাতরা নিয়ে যায়। সব মিলিয়ে লুট হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে পরিবারটি।
ডাকাতির সময় বাড়ির ভেতরে আতঙ্কজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিবারের সদস্যদের অসহায় অবস্থায় রেখে ডাকাতরা দীর্ঘ সময় বাড়ির বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালিয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। লুটপাট শেষে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। গভীর রাত হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে আশপাশের লোকজনের সহায়তা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
ডাকাত দল চলে যাওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা নিজেদের মুক্ত করে প্রতিবেশীদের বিষয়টি জানান। পরে এলাকায় ডাকাতির খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন। আহতদের প্রাথমিকভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয় বলে জানা গেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে চুনারুঘাট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা সজল পাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিশ বাড়ির ভেতর ও আশপাশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এবং ডাকাতির ঘটনার বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ডাকাতরা কীভাবে বাড়িতে প্রবেশ করেছে, কতজন এতে অংশ নিয়েছে এবং তারা কোন পথে পালিয়েছে—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে স্থানীয়দের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা সজল পাল জানিয়েছেন, ডাকাতির ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
গ্রামীণ এলাকার একটি বাড়িতে গভীর রাতে এ ধরনের সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, ডাকাতরা পরিকল্পিতভাবে বাড়িটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন। পরিবারের কাছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার থাকার বিষয়ে ডাকাতরা আগে থেকে কোনো তথ্য পেয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তে গুরুত্ব পেতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, গভীর রাতে বাড়ির গেটের তালা কেটে এবং একাধিক কক্ষের দরজা ভেঙে দীর্ঘ সময় ধরে লুটপাট চালানো একটি উদ্বেগজনক ঘটনা। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে রাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং সন্দেহজনক ব্যক্তিদের চলাচলের বিষয়ে সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে।
চুনারুঘাট উপজেলা ও আশপাশের এলাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশি টহল আরও কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের বিচ্ছিন্ন বাড়িগুলোতে রাতের নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর কথাও বলছেন তারা।
গৌতম চন্দ্র দেবনাথ গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মকর্তা হওয়ায় তার বাড়িতে সংঘটিত এই ডাকাতির ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা ও মারধরের অভিযোগের কারণে ঘটনাটি আরও গুরুতর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আহতদের শারীরিক অবস্থা এবং ডাকাতির সময় ঘটে যাওয়া অন্যান্য বিষয়ও তদন্তের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে ডাকাতির ঘটনার পেছনের পরিকল্পনা এবং জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হবে এবং লুট হওয়া অর্থ ও মালামাল উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
একটি পরিবারের জন্য গভীর রাতের এমন অভিজ্ঞতা শুধু আর্থিক ক্ষতির বিষয় নয়, বরং নিরাপত্তাহীনতা ও মানসিক আতঙ্কেরও কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ঘুমন্ত অবস্থায় বাড়ির দরজা ভেঙে সশস্ত্র ব্যক্তিদের প্রবেশ এবং পরিবারের সদস্যদের বেঁধে ফেলার ঘটনা দীর্ঘ সময় ধরে তাদের মনে ভয় ও আতঙ্ক তৈরি করতে পারে। তাই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে।
বর্তমানে চুনারুঘাট থানা পুলিশ ডাকাতির ঘটনায় তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া তথ্য ও অন্যান্য সম্ভাব্য সূত্র বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।
চুনারুঘাটের শ্রীবাউর গ্রামের এই ডাকাতির ঘটনায় স্থানীয়দের চোখ এখন পুলিশের তদন্তের দিকে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ন্যায়বিচারের পাশাপাশি লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের অপেক্ষায় রয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি এবং দায়ীদের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে এ ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


