প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ মিলনমেলা ফোবানার ৪০তম সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিতব্য তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনে তার অংশগ্রহণকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগ ও মতবিনিময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
৪০তম ফোবানা কনভেনশন ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এই বৃহৎ সম্মেলন আগামী ৪ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসের ইউনিভার্সাল সিটিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে ইউনিভার্সাল সিটির হিলটন লস অ্যাঞ্জেলেস/ইউনিভার্সাল সিটি হোটেল ও কনভেনশন ভেন্যুতে। ফোবানার আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, এবারের আয়োজনটি উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশি কমিউনিটির সংযোগ, সংস্কৃতি ও ঐক্যের চার দশকের যাত্রাকে বিশেষভাবে তুলে ধরবে।
মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন। তার যুক্তরাষ্ট্র সফরের মধ্য দিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় এবং তাদের বিভিন্ন প্রত্যাশা ও অভিজ্ঞতা জানার সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকার কারণে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থান, কল্যাণ এবং বিভিন্ন বাস্তব সমস্যার সঙ্গে তার দায়িত্ব সরাসরি সম্পর্কিত।
নির্ধারিত সফরসূচি অনুযায়ী, তিনি এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের সঙ্গে দেশের অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও সামাজিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে গুরুত্ব বাড়ছে।
আগামী ৪ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। উদ্বোধনী পর্বে আয়োজক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধি এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত থাকবেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশের কনস্যুলার প্রতিনিধিসহ হোস্ট কমিটি ও ফোবানার নির্বাহী পর্যায়ের নেতাদের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এই আয়োজনের মাধ্যমে উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশিদের একটি বড় অংশ একই মঞ্চে মিলিত হওয়ার সুযোগ পাবেন।
ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকা বা ফোবানা দীর্ঘদিন ধরে উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশি সংগঠনগুলোর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছর এর সম্মেলন প্রবাসী বাংলাদেশিদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পারস্পরিক যোগাযোগের একটি বড় ক্ষেত্র তৈরি করে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও কানাডা থেকে বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা এই আয়োজনে অংশ নেন।
এবারের ৪০তম আয়োজনের আয়োজক ও হোস্ট সংগঠন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালিফোর্নিয়া বা বিএসি। আয়োজকদের প্রত্যাশা, সম্মেলনে কয়েক হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি, কমিউনিটি নেতা, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।
ফোবানা সম্মেলন শুধু সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। প্রবাসী বাংলাদেশিদের পারস্পরিক পরিচয়, ব্যবসায়িক যোগাযোগ, সামাজিক উদ্যোগ এবং নতুন প্রজন্মের সঙ্গে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বন্ধন বজায় রাখার ক্ষেত্রেও এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে উত্তর আমেরিকায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরার ক্ষেত্রে এই ধরনের সম্মেলনের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ, বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের কল্যাণ এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থানের নানা বিষয়ও মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সফরের সময় আলোচনায় আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশিরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
এ কারণে প্রবাসীদের কল্যাণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদেশে বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়গুলো সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রবাসী বাংলাদেশিদের বৃহৎ একটি সম্মেলনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর উপস্থিতি এসব বিষয়ে মতবিনিময়ের ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে।
সফরসূচি অনুযায়ী, ৫ সেপ্টেম্বর লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়রের সঙ্গে একটি বিশেষ বিজনেস লাঞ্চে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে মন্ত্রীর। এ ধরনের বৈঠক ও মতবিনিময় বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং স্থানীয় প্রশাসন ও ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
লস অ্যাঞ্জেলেস উত্তর আমেরিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বহুজাতিক শহর। এখানে বাংলাদেশি কমিউনিটির উপস্থিতিও উল্লেখযোগ্য। তাই শহরটিতে ফোবানার ৪০তম সম্মেলন আয়োজনকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষ একটি উপলক্ষ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এবারের সম্মেলনের অন্যতম তাৎপর্য হলো ফোবানার চার দশকের যাত্রা। দীর্ঘ সময় ধরে উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সাংগঠনিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে আসছে। এই চার দশকের পথচলায় প্রজন্ম বদলেছে, প্রবাসী সমাজের পরিধি বেড়েছে এবং বাংলাদেশি কমিউনিটির সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভূমিকারও পরিবর্তন ঘটেছে।
বর্তমান সময়ে প্রবাসী বাংলাদেশিরা শুধু সাংস্কৃতিক পরিচয় ধরে রাখার কাজেই যুক্ত নন; তারা ব্যবসা, প্রযুক্তি, শিক্ষা, চিকিৎসা, গবেষণা ও বিভিন্ন পেশাগত ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছেন। ফলে ফোবানার মতো একটি বৃহৎ সম্মেলন তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং নতুন সম্পর্ক তৈরিরও সুযোগ তৈরি করে।
সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও কানাডার বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধি থাকার কথা রয়েছে। এই বহুমাত্রিক অংশগ্রহণের ফলে প্রবাসী সমাজের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশা এক জায়গায় উঠে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর উপস্থিতি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সংক্রান্ত বিষয়গুলোর কারণে। বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের অনেকেই কর্মসংস্থান, ভিসা, দক্ষতা উন্নয়ন, নিরাপদ অভিবাসন এবং সরকারি সেবার সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আগ্রহী। প্রবাসী কমিউনিটির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে এসব বিষয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা ও মতামত জানার সুযোগ তৈরি হয়।
ফোবানার মতো একটি আন্তর্জাতিক পরিসরের বাংলাদেশি কমিউনিটি সম্মেলন দেশের সঙ্গে প্রবাসীদের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখতে পারে। দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নে প্রবাসীদের অবদান যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি বিদেশে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতেও তাদের ভূমিকা রয়েছে।
তিন দিনের সম্মেলন শেষে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে। সফরকালে তিনি ফোবানা সম্মেলনের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিতব্য ফোবানার ৪০তম সম্মেলনকে ঘিরে উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ইতোমধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতিতে এই আয়োজন প্রবাসীদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, পারস্পরিক সম্পর্ক এবং বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের বন্ধনকে নতুন করে তুলে ধরবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।
চার দশকের যাত্রার এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ফোবানার মঞ্চে বাংলাদেশের একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রীর অংশগ্রহণ প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করবে বলেই মনে করা হচ্ছে। সম্মেলনটি প্রবাসী সমাজের আনন্দ-উৎসবের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বাঙালিদের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার একটি উপলক্ষ হয়ে উঠবে—এমন প্রত্যাশাই সংশ্লিষ্টদের।
তথ্য যাচাই করে সংবাদটি প্রস্তুত করা হয়েছে; তবে আপনার নির্দেশনা অনুযায়ী প্রকাশযোগ্য সংবাদ কপিতে কোনো উৎসের লিংক বা ওয়েবসাইটের ঠিকানা রাখা হয়নি।


