দিরাইয়ে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল: দুই পক্ষে মুখোমুখি অবস্থান

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।

সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনের রাজনীতিতে বর্তমানে এক চরম অস্থিরতা ও গভীর সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার সরকারি উন্নয়নমূলক কাজের বরাদ্দ বণ্টন, দলীয় প্রভাব বিস্তার এবং আধিপত্য বজায় রাখাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সংসদ সদস্য নাছির চৌধুরী এবং তার ছোট ভাই ও উপজেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক মঈন উদ্দিন চৌধুরী ওরফে মাসুক চৌধুরীর মধ্যকার দীর্ঘদিনের দূরত্ব এখন প্রকাশ্য ও তীব্র দ্বন্দ্বে রূপ নিয়েছে। দুই পক্ষের একের পর এক পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন, দলীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি থেকে প্রতিপক্ষকে একে অপরকে বর্জন করার প্রবণতা এবং জেলা ও কেন্দ্রীয় কমিটিতে একে অপরকে অব্যাহতি বা বহিষ্কারের সুপারিশ পাঠানোর মাধ্যমে এই পারিবারিক ও রাজনৈতিক কোন্দল এখন পুরো অঞ্চলের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। নির্বাচনোত্তর রাজনৈতিক সমীকরণ এবং স্থানীয় ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়েই মূলত এই বিরোধের সূত্রপাত হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতার কারণে সংসদ সদস্য নাছির চৌধুরী নিজে সরাসরি মাঠে থেকে চলাফেরা করতে অক্ষম হওয়ায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে এক ধরনের শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। তার এই শারীরিক অসুস্থতা ও অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে একটি নির্দিষ্ট সুবিধাবাদী চক্র দলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে নেপথ্যে থেকে এমপির স্ত্রী পারভিন আক্তারের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে পুরো উপজেলা বিএনপি পরিচালিত হচ্ছে বলে বিপক্ষ দলের জোরালো অভিযোগ রয়েছে। এমপিপন্থী এই অংশের নেতৃত্বে রয়েছেন দিরাই উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমির হোসেন এবং যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির তালুকদার। অন্যদিকে, এই সিন্ডিকেট ও একচ্ছত্র আধিপত্যের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়ে ময়দানে নেমেছেন সংসদ সদস্যের নিজের ছোট ভাই এবং দলের প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক। দুই ভাইয়ের এই প্রকাশ্য বিরোধ ও ক্ষমতার লড়াইয়ের কারণে দিরাই ও শাল্লার তৃণমূল পর্যায়ের সাধারণ নেতাকর্মী ও সমর্থকরা আজ চরম বিভ্রান্তি ও হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বহু আগে থেকেই দিরাই উপজেলা বিএনপি মূলত চারটি স্পষ্ট ভাগে বিভক্ত ছিল। সেই সময় দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার আশায় মাঠে সক্রিয় ছিলেন চার প্রভাবশালী নেতা—বর্তমান সংসদ সদস্য নাছির চৌধুরী, তার ছোট ভাই মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক, সাবেক জেলা জজ আদালতের বিচারক মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী রুমি এবং তরুণ নেতা অ্যাডভোকেট তাহির রায়হান চৌধুরী পাবেল। পরবর্তীতে দলের কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের কঠোর হস্তক্ষেপে নাছির চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট তাহির রায়হান চৌধুরী পাবেলকে যৌথভাবে দলীয় মনোনয়ন প্রদান করা হয়। তবে নির্বাচনের ঠিক প্রাক্কালে হাইকমান্ডের বিশেষ নির্দেশ ও অনুরোধে অ্যাডভোকেট পাবেল নিজের প্রার্থিতা নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহার করে নিলে নাছির চৌধুরী একক প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন এবং বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। কিন্তু নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পরপরই বিজয়ের আনন্দ ম্লান হয়ে যায় যখন ক্ষমতার সুফল ভোগ এবং এলাকা পরিচালনার ছায়া সঙ্গী কে হবেন তা নিয়ে দলের ভেতরের সুপ্ত কোন্দল আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।

পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে যখন গত জুলাই মাসের প্রথম দিকে এমপি নাছির চৌধুরীর আকস্মিক মৃত্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন জায়গায় তীব্র গুজব ও অপপ্রচার ছড়াতে শুরু করে। সেই ভিত্তিহীন গুজবের তীব্র প্রতিবাদ জানাতে এবং দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমির হোসেন ও যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে একটি জরুরি সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করা হয়। কিন্তু সেই গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে মাসুক চৌধুরী এবং তার অনুসারী নেতাকর্মীদের কোনো ধরনের আমন্ত্রণ না জানিয়ে সম্পূর্ণ একপাক্ষিক ও এড়িয়ে যাওয়ার নীতি গ্রহণ করা হয়। এর ফলে দুই পক্ষের মধ্যকার দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও অবিশ্বাস চরম রূপ ধারণ করে। এরপর থেকেই দিরাইয়ের রাজপথে দুই পক্ষ সম্পূর্ণ পৃথক দুটি ব্যানারে দলীয় কর্মসূচি পালন করতে শুরু করে, যা দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্যকে পুরোপুরি ভেঙে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিয়েছে।

দলের ভেতরে চলা এই অনৈক্য ও চরম বিশৃঙ্খলার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দিরাই উপজেলা বিএনপির এক দায়িত্বশীল সদস্য জানান যে, এমপি নাছির চৌধুরী নিঃসন্দেহে একজন সর্বজনশ্রদ্ধেয় ও প্রবীণ ব্যক্তি। কিন্তু নির্বাচনের পর থেকেই সরকারি অনুদান, কাবিখা-কাবিটার চাল এবং উন্নয়ন বরাদ্দ বণ্টনের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ সিন্ডিকেটের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে গরিব ও অসহায় কৃষকদের মাঝে সরকারের পক্ষ থেকে প্রদত্ত মানবিক সহায়তা ও ত্রাণসামগ্রীর তালিকা তৈরিতে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগীরা প্রতিবাদ জানিয়ে পৌর শহরে বিক্ষোভ মিছিল করায় ঐতিহ্যবাহী এই রাজনৈতিক দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। দলীয় পদ পদবি ব্যবহার করে যারা ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধারে ব্যস্ত, তাদের কারণে আজ দিরাইয়ের রাজপথে দলের ঐক্য বিপন্ন হয়ে পড়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এই কোন্দলের চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটে গত ১৬ জুলাই, যখন উপজেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুক চৌধুরী, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান এবং সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট ইকবাল হোসেন চৌধুরীর যৌথ নেতৃত্বে দলীয় কার্যালয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় দলীয় গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমির হোসেন ও যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির তালুকদারকে দলীয় সব পদ থেকে অব্যাহতি প্রদানের কড়া সুপারিশ করে দিরাই জেলা ও কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হয়। এই বহিষ্কারের সুপারিশের পাল্টা জবাব হিসেবে গত বৃহস্পতিবার শহরের একটি স্থানীয় কমিউনিটি সেন্টারে মাসুক চৌধুরী ও তার অনুসারী পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের সম্পূর্ণ বাদ দিয়েই ‘সরকারের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা’র ব্যানারে একটি বড়সড় পাল্টা আলোচনা সভা ও শোডাউন করে এমপিপন্থী অংশটি। দিরাই পৌর বিএনপির সদস্য সচিব ইকবাল চৌধুরী এ বিষয়ে বলেন যে, এমপি মহোদয় আমাদের সকলের অবিভাবক এবং আমরা তার কোনো বিরোধী পক্ষ নই, কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো পৌর বিএনপিকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে মুষ্টিমেয় কিছু সুবিধাভোগী লোক নিজেদের আখের গোছাতে সরকারি সহায়তা নিজেদের পছন্দের লোকজনের মধ্যে বিতরণ করেছে। গত ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে আহ্বায়ক কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক দলীয় সভা আহ্বান করেননি এবং এই ধরনের অনিয়মের কারণে দলের সুনাম আজ চরমভাবে ধূলিসাৎ হচ্ছে।

অন্যদিকে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করে এমপির ছোট ভাই ও দলের প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক বলেন, দলের কেন্দ্রীয় গঠনতন্ত্র ও নিয়ম অনুযায়ী কোনো পূর্বনির্ধারিত নোটিশ বা দায়িত্বশীলদের না জানিয়ে গোপনে সভা করা সম্পূর্ণ অবৈধ ও গঠনতন্ত্রবিরোধী। এ কারণেই যারা দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছে, তাদের অব্যাহতির সুনির্দিষ্ট সুপারিশ আমরা জেলা কমিটির নিকট পাঠিয়েছি। তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে আরও বলেন যে, আমার ভাবিকে কেন্দ্র করে দিরাইয়ে একটি দুর্নীতির সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে। এই চক্রটি দলের পরীক্ষিত ও দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাকর্মীদের পরিকল্পিতভাবে কোণঠাসা করে রেখে আওয়ামী লীগ ঘরানার বিতর্কিত ও সুযোগসন্ধানী লোকদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধায় প্রাধান্য দিচ্ছে। সাধারণ ফ্যামিলি কার্ড, কাবিখা এবং কৃষি কার্ড বিতরণে ব্যাপক ও নজিরবিহীন দুর্নীতি হওয়ায় আমরা বাধ্য হয়েই সাধারণ নেতাকর্মীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ জানিয়ে যাচ্ছি।

বিপরীতে সমস্ত অভিযোগ কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করে দিরাই উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমির হোসেন বলেন যে, আমরা দলীয় কোনো বরাদ্দ এককভাবে বণ্টন করি না, বরং এমপি সাহেবই অসুস্থতার মাঝেও সমস্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং সবকিছু তার নির্দেশেই পরিচালিত হয়। মাসুক চৌধুরী ও তার কিছু উশৃঙ্খল অনুসারী ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করতে না পেরে দলের ভেতরে সুপরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন। জরুরি পরিস্থিতিতে দলের প্রয়োজনে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছিল এবং সেই মুহূর্তে তাদের না পাওয়ার পেছনে কোনো রাজনৈতিক অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না। তিনি পাল্টা হুশিয়ারি উচ্চারণ করে জানান যে, দলীয় শৃঙ্খলা চরমভাবে লঙ্ঘন করার অপরাধে আমরাও মাসুক চৌধুরীকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সুপারিশ করে খুব শীঘ্রই জেলা কমিটির কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠাচ্ছি।

এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দলের মধ্যকার তীব্র বিরোধ ও বিশৃঙ্খলা নিরসনের বিষয়ে জানতে চাইলে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির স্বাক্ষর ক্ষমতাপ্রাপ্ত সদস্য ও সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল হক সংবাদ মাধ্যমকে জানান যে, দিরাই উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে কাউকে অব্যাহতি দেওয়ার কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি এখনো জেলা কমিটির দপ্তরে এসে পৌঁছায়নি। তবে আমরা মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সুবাদে দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি সভা ও দ্বন্দ্বের বিষয়টি গভীরভাবে লক্ষ্য করেছি। খুব দ্রুতই জেলা কমিটির পক্ষ থেকে একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল পাঠিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে বসে আলোচনার মাধ্যমে এই স্থানীয় কোন্দল ও ভুলবোঝাবুঝির অবসান ঘটানো হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এদিকে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা ও দলের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা অ্যাডভোকেট তাহির রায়হান চৌধুরী পাবেল এই প্রসঙ্গে নিজের মতামত ব্যক্ত করে বলেন যে, সম্মানিত সংসদ সদস্য মহোদয়ের শারীরিক অসুস্থতার এই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে দিরাইয়ের কিছু স্বার্থান্বেষী ও সুবিধাবাদী লোক নিজেদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ফায়দা লুটতে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট তৈরি করেছে। এই সিন্ডিকেটের স্বেচ্ছাচারিতায় দলের ত্যাগী কর্মীরা আজ চরম অবমূল্যায়নের শিকার হচ্ছেন। আমি আশা করি দিরাইয়ের তৃণমূলের এই সংকট অনুধাবন করে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দ্রুত এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে এবং কঠোর হাতে এই অভ্যন্তরীণ বিভক্তি ও কোন্দল চিরতরে দূর করে দলকে একটি সুসংগঠিত রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করবে।

সমগ্র পরিস্থিতি নিয়ে সংসদ সদস্য নাছির চৌধুরীর স্ত্রী পারভিন আক্তার অত্যন্ত শক্ত ভাষায় বলেন যে, মাসুক একজন চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী ও হীন মানসিকতার ব্যক্তি। সে অতীতেও পরিবারের অন্দরে নানা ধরনের অশান্তি ও ঝামেলা সৃষ্টি করেছে। লোকজন আমার বিরুদ্ধে যে অপপ্রচার চালাচ্ছে যে আমি সবকিছু একা নিয়ন্ত্রণ করি—এই তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। তবে এটা সত্য যে, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দিরাইয়ের আপামর জনসাধারণের কাছে আমরা দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার যে পবিত্র প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এলাকার সকল প্রকার অনিয়ম, টেন্ডারবাজি ও দুর্নীতি শক্ত হাতে বন্ধ করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। বিশেষ করে খাদ্য গুদাম, উপজেলা নির্বাহী অফিস কিংবা থানা কেন্দ্রিক দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অবৈধ চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ করে দেওয়ায় একটি চক্র আমাদের ওপর চরমভাবে ক্ষিপ্ত হয়ে এসব নোংরা রাজনীতি করছে।

সর্বশেষ এই সমগ্র কোন্দল ও পারিবারিক বিরোধ নিয়ে সংসদ সদস্য নাছির চৌধুরী নিজে মুখ খুলেছেন। তিনি অত্যন্ত শান্ত কণ্ঠে ও দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন যে, সরকারি উন্নয়ন বরাদ্দ বণ্টনে আমার সহধর্মিণী বা স্ত্রীর কোনো ধরনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা নেই, কিংবা সেই সুযোগ বা আইনি এখতিয়ারও তার নেই। সম্পূর্ণ রাজনৈতিক হর্ষ থেকে একটি মহল এই অপপ্রচার চালাচ্ছে। দলীয় গঠনতন্ত্র বা শৃঙ্খলা লঙ্ঘন করে কেউ নিজের ইচ্ছামতো কাউকে দল থেকে অব্যাহতি বা বহিষ্কার করতে পারে না। যারা অতীতে দিরাইয়ে অবৈধ সুবিধা ভোগ করেছে এবং বর্তমান সরকারের স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কোনো অনৈতিক সুবিধা বা ফায়দা লুটতে পারছে না, মূলত তারাই আজ পৃথক গ্রুপ বা উপদল তৈরি করে দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি চরমভাবে নষ্ট করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে বর্তমান এই সংকটপূর্ণ মুহূর্তে আমি আমার শারীরিক অসুস্থতা ও এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে ব্যস্ত থাকায় এসব তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বাড়তি কোনো চিন্তা করতে নারাজ এবং খুব শীঘ্রই দলীয় ফোরামে বসে এই সমস্ত সমস্যার একটি স্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য সমাধান করা হবে বলে তিনি দেশবাসীর কাছে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

এই সপ্তাহের খবরাখবর

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে সরকার পতনের একদফা আন্দোলনের ঘোষণা

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

একই প্রকল্পে দ্বৈত বরাদ্দ: বগুড়ায় অনিয়মের পাহাড়

প্রকাশ:  ২৫ জুলাই  ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

এগারো দলীয় জোট ছাড়ল খেলাফত মজলিস

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

রাজকান্দিতে বন বিভাগের উচ্ছেদ: কেটে ফেলা হলো ১২শ কমলা গাছ

প্রকাশ: ২৫ জুলাই  ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

নিট কেলেঙ্কারি: পদত্যাগ করলেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিষয়বস্তু

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে সরকার পতনের একদফা আন্দোলনের ঘোষণা

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

একই প্রকল্পে দ্বৈত বরাদ্দ: বগুড়ায় অনিয়মের পাহাড়

প্রকাশ:  ২৫ জুলাই  ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

এগারো দলীয় জোট ছাড়ল খেলাফত মজলিস

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

রাজকান্দিতে বন বিভাগের উচ্ছেদ: কেটে ফেলা হলো ১২শ কমলা গাছ

প্রকাশ: ২৫ জুলাই  ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

নিট কেলেঙ্কারি: পদত্যাগ করলেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

ওসি পরিচয়ে সিলেটে চাঁদাবাজি: পুলিশ প্রশাসনের কড়া সতর্কবার্তা

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

আসামের ঢলে সিলেটে বাড়ছে নদীর পানি, নেই বন্যার শঙ্কা

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬ | সময়ের সন্ধান ডেস্ক |...

সম্পর্কিত নিবন্ধ

জনপ্র্যিয় পেজ