প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
সিলেট থেকে দেশের পর্যটন ও বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ দুই শহর চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে সরাসরি বিমান ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা এই রুট দুটি চালু হলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী এবং সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের উদ্যোগে বিষয়টি আবারও নতুন করে অগ্রাধিকার পেয়েছে। রবিবার (২৪ মে) সকালে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইজার সোহেল আহমেদের সঙ্গে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
আলোচনায় সিলেট-চট্টগ্রাম এবং সিলেট-কক্সবাজার রুটে দ্রুত ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা, সময়সূচি এবং যাত্রী চাহিদা নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল আজহার পরপরই এ বিষয়ে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ইতোমধ্যে এই দুটি রুট চালুর বিষয়টিকে তাদের অগ্রাধিকার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে বলে জানা গেছে। প্রাথমিকভাবে যাত্রী চাহিদা, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং পরিচালন সক্ষমতা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সিলেট থেকে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে সরাসরি বিমান চলাচল চালু হলে ব্যবসায়িক যোগাযোগ, পর্যটন খাত এবং চিকিৎসা সেবায় যাতায়াত আরও সহজ হবে। বিশেষ করে কক্সবাজারের মতো আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্রের সঙ্গে সিলেটের সংযোগ স্থাপন হলে দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটন শিল্পে নতুন গতি আসবে।
আলোচনার বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন সিলেট জেলা বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক মাহবুবুল আলম। তিনি জানান, শুধু ফ্লাইট চালুর বিষয় নয়, একই সঙ্গে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো সার্ভিস উন্নত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এতে করে সিলেটের রপ্তানিমুখী পণ্য পরিবহন আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সিলেট অঞ্চলের ব্যবসায়ী ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই রুট চালু হলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে দেশের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র চট্টগ্রামের সংযোগ আরও শক্তিশালী হবে। এতে করে সময় ও খরচ দুই-ই কমবে, যা ব্যবসায়ীদের জন্য বড় সুবিধা হিসেবে বিবেচিত হবে।
অন্যদিকে পর্যটন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিলেট থেকে কক্সবাজারে সরাসরি ফ্লাইট চালু হলে পর্যটক প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। বিশেষ করে দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটনে নতুন একটি জনপ্রিয় রুট তৈরি হবে, যা অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
স্থানীয় পর্যায়ে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। বর্তমানে সিলেট থেকে চট্টগ্রাম বা কক্সবাজার যেতে হলে দীর্ঘ সময় সড়ক ও রেলপথে ভ্রমণ করতে হয়। সরাসরি বিমান চালু হলে সেই ভোগান্তি অনেকটাই কমে যাবে বলে তারা মনে করছেন।
বিমান খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন রুট চালু করতে হলে যাত্রী চাহিদার পাশাপাশি রুটের অর্থনৈতিক টেকসইতা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। প্রাথমিক পর্যায়ে ফ্লাইট সংখ্যা সীমিত থাকলেও পর্যায়ক্রমে তা বাড়ানো হতে পারে।
এছাড়া ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে কার্গো হাব হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা চলছে। এতে সিলেটের কৃষি ও হস্তশিল্পজাত পণ্য সরাসরি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছানো সহজ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সিলেট অঞ্চল শুধু পর্যটন নয়, বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবেও আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। পাশাপাশি আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থায় একটি নতুন মাইলফলক তৈরি হবে।
তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। ঈদের পর উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সব দিক পর্যালোচনা করে ফ্লাইট চালুর সময়সূচি, ভাড়া কাঠামো এবং পরিচালনা কৌশল নির্ধারণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে সিলেট থেকে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে সরাসরি বিমান রুট চালুর উদ্যোগকে দেশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থায় একটি সম্ভাবনাময় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি বাস্তবায়িত হলে সিলেটের অর্থনীতি, পর্যটন এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।


