প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
সিলেট মহানগরীর মোগলাবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাজশাহী জেলার তিনজন ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় একটি ট্রাক থেকে ১৪টি ভারতীয় মহিষ উদ্ধার করা হয়, যেগুলো অবৈধভাবে সীমান্তপথে আনা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। উদ্ধারকৃত মহিষগুলোর বাজারমূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের মোগলাবাজার থানাধীন শ্রীরামপুর বাইপাস পয়েন্টে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি বিশেষ দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকায় নজরদারি বাড়ায়। পরে সন্দেহজনক একটি ট্রাক থামিয়ে তল্লাশি চালালে ট্রাকের ভেতর থেকে মহিষগুলো উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া মহিষগুলো ভারত থেকে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে দেশে আনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মহিষগুলো বিভিন্ন হাটবাজারে বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে পরিবহন করা হচ্ছিল। এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকায় গবাদিপশু চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
আটক তিনজনের মধ্যে রয়েছেন রাজশাহী জেলার কাশিয়াডাঙ্গা থানার নবগঙ্গা গ্রামের মো. আসাদ আলীর ছেলে রাসেল হোসেন, পুঠিয়া থানার বড় ধাদাস গ্রামের মো. দুলালের ছেলে শাকিল এবং গোদাগাড়ী থানার জাহানাবাদ গ্রামের মো. আইনুদ্দিনের ছেলে আবদুর রাকিব। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. মনজুরুল আলম জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ট্রাকটি আটক করা হয়। পরে তল্লাশিতে ১৪টি ভারতীয় মহিষ উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা। তিনি আরও জানান, চোরাচালান চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, সীমান্তবর্তী অঞ্চল ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে গবাদিপশু চোরাচালানের একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। বিশেষ করে কোরবানির মৌসুম বা বাজারে চাহিদা বেড়ে গেলে এ ধরনের চোরাচালান বৃদ্ধি পায়। ভারত থেকে আনা গবাদিপশু স্থানীয় বাজারে তুলনামূলক কম দামে বিক্রি করে দ্রুত মুনাফা অর্জনের চেষ্টা করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ট্রাকটি শ্রীরামপুর বাইপাস এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া পুলিশের সন্দেহ হয়। এরপরই গাড়িটি থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। প্রথমে চালক ও যাত্রীরা বিভিন্নভাবে তথ্য গোপনের চেষ্টা করলেও পরে মহিষগুলো শনাক্ত হলে পরিস্থিতি পরিষ্কার হয়ে যায়। ঘটনাস্থলে স্থানীয়দের ভিড়ও জমে যায় এবং পুরো এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মোগলাবাজার থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইন ও চোরাচালান সংক্রান্ত ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। তাদের আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।
আইনশৃঙ্খলা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সীমান্তপথে গবাদিপশু চোরাচালান শুধু অর্থনৈতিক অপরাধই নয়, বরং এটি স্থানীয় বাজার ব্যবস্থাকেও প্রভাবিত করে। বৈধ ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং সরকার রাজস্ব হারায়। পাশাপাশি এ ধরনের অবৈধ পরিবহন প্রাণিসম্পদ ব্যবস্থাপনায়ও ঝুঁকি তৈরি করে।
অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা এ ধরনের অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান চালানো হলে এ ধরনের অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, চোরাচালান প্রতিরোধে ভবিষ্যতেও অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা হবে, যাতে কোনো চক্র অবৈধভাবে গবাদিপশু বা অন্য পণ্য আনা-নেওয়া করতে না পারে।
বর্তমানে উদ্ধার হওয়া মহিষগুলো পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে সেগুলোর বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মনে করছে, এ ধরনের সফল অভিযান সীমান্তপথে অবৈধ চোরাচালান রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেবে।


