প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় লেবু বাগানে ঘাস কাটতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সুনিল সাঁওতাল (৩৫) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার ভোরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের রাধানগর এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত সুনিল সাঁওতাল ওই এলাকারই বাসিন্দা এবং পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি ছিলেন। জীবিকার তাগিদে তিনি বিভিন্ন সময় কৃষিকাজ ও দিনমজুরের কাজও করতেন বলে জানা গেছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, ভোরে কাজের উদ্দেশ্যে তিনি বাড়ি থেকে বের হন। এরপর স্থানীয় একটি লেবু বাগানে ঘাস কাটার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই লেবু বাগানের মালিক বন্য শুকর থেকে ফসল রক্ষার উদ্দেশ্যে বাগানের চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া দেন এবং সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সেই বিদ্যুতায়িত কাঁটাতারের সংস্পর্শে এসে সুনিল সাঁওতাল ঘটনাস্থলেই মারা যান। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা বিষয়টি দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, লেবু বাগানের চারপাশে কাঁটাতারে বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল। সেখানে ঘাস কাটতে গিয়ে অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সুনিল সাঁওতালের মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়রা জানান, কৃষি জমি ও বাগান রক্ষার জন্য অনেক সময়ই অবৈধভাবে কাঁটাতারে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং প্রাণঘাতী। এমন ব্যবস্থার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে থাকে, তবে সচেতনতার অভাব ও কার্যকর নজরদারির কারণে এসব ঘটনা থেমে নেই।
নিহতের পরিবার ও প্রতিবেশীরা এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, সুনিল সাঁওতাল ছিলেন পরিশ্রমী ও শান্ত স্বভাবের মানুষ। প্রতিদিনের মতোই তিনি কাজের জন্য বের হয়েছিলেন, কিন্তু আর জীবিত ফিরতে পারেননি। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুতে তারা এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলেন, কৃষি জমিতে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ অত্যন্ত বিপজ্জনক। এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবস্থা দ্রুত বন্ধ করতে প্রশাসনের আরও কঠোর হওয়া প্রয়োজন। তারা মনে করেন, নিয়মিত নজরদারি না থাকলে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা আরও ঘটতে পারে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। বাগান মালিকের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রামীণ এলাকায় ফসল রক্ষার জন্য অনেক সময় অবৈধভাবে বৈদ্যুতিক ফাঁদ ব্যবহার করা হয়, যা সম্পূর্ণ বেআইনি ও প্রাণঘাতী। এ ধরনের পদক্ষেপ শুধু মানুষের জীবন নয়, পশুপাখির জীবনকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলে। তারা কৃষকদের বৈধ ও নিরাপদ পদ্ধতি ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন।
শ্রীমঙ্গলের এই দুর্ঘটনা আবারও গ্রামীণ নিরাপত্তা ও কৃষি জমি ব্যবস্থাপনার দুর্বল দিকগুলো সামনে নিয়ে এসেছে। স্থানীয়দের মতে, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কঠোর আইন প্রয়োগ ছাড়া এ ধরনের মৃত্যু রোধ করা সম্ভব নয়।
এদিকে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরিবারের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর এলাকায় শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো শ্রমিককে এমন প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার শিকার হতে না হয়।

