প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে বাসচাপায় সামছুল হক (৭৫) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। প্রতিদিনের মতো দিনের কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা জানান, ব্যস্ত মহাসড়কে অসতর্কভাবে সড়ক পারাপারের সময় দ্রুতগামী একটি বাস তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার জগদীশপুর ইউনিয়নের বেলঘর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সামছুল হক মাধবপুর উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামের মৃত মধু মিয়ার ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে জগদীশপুর বাজারে কলা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রতিদিনের মতো সারাদিন বাজারে বেচাকেনা শেষে রাতে বাড়ি ফেরার পথে এই দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় তিনি মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন। ঠিক তখনই সিলেটগামী একটি দ্রুতগতির গ্রিনলাইন পরিবহনের বাস তাকে চাপা দেয়। ধাক্কা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে তিনি সড়কের ওপর ছিটকে পড়ে গুরুতর আঘাত পান এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার পরপরই বাসটি না থেমে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার খবর পেয়ে মাধবপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্নের জন্য মরদেহ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং ঘাতক বাসটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: সোহেল রানা দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দ্রুতগতির কারণে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলতে পারেন। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের এই অংশটি দীর্ঘদিন ধরে দুর্ঘটনাপ্রবণ হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে জগদীশপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যানবাহনের চাপ এবং পারাপারের অসতর্কতার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। তারা অভিযোগ করেন, মহাসড়কে ফুটওভার ব্রিজ বা নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা না থাকায় সাধারণ মানুষ ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হতে বাধ্য হন।
নিহত সামছুল হক ছিলেন এলাকার একজন পরিচিত ব্যবসায়ী। প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত তিনি বাজারে কলা বিক্রি করতেন। স্থানীয়রা জানান, বয়সের ভারেও তিনি পরিশ্রম করে সংসার চালাতেন। তার মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক। স্বজনদের আহাজারিতে এলাকায় ভারী পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “তিনি খুবই শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন। প্রতিদিন বাজারে তাকে দেখা যেত। এমন মর্মান্তিক মৃত্যু আমরা মেনে নিতে পারছি না।”
দুর্ঘটনার পর জগদীশপুর বাজার ও আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ দ্রুত সড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, মহাসড়কে অবৈধ পারাপার এবং যানবাহনের বেপরোয়া গতিই এ ধরনের দুর্ঘটনার মূল কারণ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের মহাসড়কগুলোতে সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। বিশেষ করে বাজার ও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় নিরাপদ পারাপারের জন্য ফুটওভার ব্রিজ, জেব্রা ক্রসিং এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না গেলে দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব নয়।
পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, চালকদের অসতর্কতা, অতিরিক্ত গতি এবং ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতা সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ। পাশাপাশি পথচারীদের অসচেতনতাও অনেক ক্ষেত্রে দুর্ঘটনা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এদিকে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মহাসড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিত করা হবে।
মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলেছে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে। একজন পরিশ্রমী বৃদ্ধ ব্যবসায়ীর এমন অকাল মৃত্যু কেবল একটি পরিবারকেই নয়, পুরো এলাকাকেই শোকাহত করেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে এবং সড়কে সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা হয়।

