প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
বাংলাদেশের আইনজীবী পেশার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন বার কাউন্সিল নির্বাচন ঘিরে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে কারাগারে থাকা আইনজীবী ও সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ সায়েদুল হক, যিনি ব্যারিস্টার সুমন নামে পরিচিত, তার অংশগ্রহণের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে।
আগামী ১৯ মে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল নির্বাচন। এই নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বর্তমানে কারাগারে থাকা এই আইনজীবী। নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তার স্বাক্ষর গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে, যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে।
রোববার ঢাকার জেলা প্রশাসকের কাছে ব্যারিস্টার সুমনের পক্ষে তার আইনজীবী লিটন আহমেদ একটি আবেদন জমা দেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ১৬ এপ্রিল। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে তার স্বাক্ষর গ্রহণ ও প্রার্থিতার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা জরুরি।
আইনজীবী লিটন আহমেদ জানান, ব্যারিস্টার সুমন বার কাউন্সিল নির্বাচনে অংশ নিতে চান এবং তার প্রার্থিতার জন্য প্রয়োজনীয় সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, কারাগারে থাকা অবস্থায়ও একজন নাগরিকের আইনগত অধিকার রয়েছে, এবং সেই অধিকার নিশ্চিত করার জন্যই তারা প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন।
ব্যারিস্টার সুমন, যার পূর্ণ নাম সৈয়দ সায়েদুল হক, বাংলাদেশের একজন পরিচিত আইনজীবী এবং সাবেক সংসদ সদস্য। তিনি হবিগঞ্জ জেলার একটি আসনের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। রাজনৈতিক অঙ্গনেও তার পরিচিতি রয়েছে। বর্তমানে তিনি একাধিক মামলায় কারাগারে আছেন বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও পেশাজীবী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের ও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটে। সেই ধারাবাহিকতায় একই বছরের অক্টোবরে ব্যারিস্টার সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কারাগারে থেকেও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ আইনি কাঠামোর মধ্যে থাকলেও তা নির্ভর করে নির্দিষ্ট নিয়ম ও প্রশাসনিক অনুমোদনের ওপর। বিশেষ করে প্রার্থিতার জন্য প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর, কাগজপত্র যাচাই এবং নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে বার কাউন্সিল নির্বাচনকে ঘিরে আইনজীবী মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। দেশের আইন পেশার নিয়ন্ত্রক এই সংস্থার নির্বাচন সাধারণত পেশাগত নেতৃত্ব ও নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই এই নির্বাচনে বিভিন্ন শ্রেণির আইনজীবীর অংশগ্রহণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ব্যারিস্টার সুমনের প্রার্থিতার উদ্যোগ ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা চলছে। কেউ কেউ এটিকে তার আইনি অধিকার হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ মনে করছেন, কারাগারে থেকে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব হবে তা সময়ই বলে দেবে।
তার পক্ষে আইনজীবীরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে, যাতে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রার্থিতার ক্ষেত্রে আইন ও বিধিমালার সব শর্ত পূরণ করাই মূল বিষয়। একজন প্রার্থী কারাগারে থাকলেও তার আইনি অধিকার ক্ষুণ্ণ হওয়ার সুযোগ নেই, তবে বাস্তবায়ন নির্ভর করবে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ওপর।
আইনজীবী মহলের একাংশ মনে করছেন, এই ঘটনা বার কাউন্সিল নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে একটি ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যা ভবিষ্যতে আইন ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার ব্যাখ্যায় নতুন আলোচনার জন্ম দিতে পারে।
সব মিলিয়ে ব্যারিস্টার সুমনের এই উদ্যোগ এখন আইন অঙ্গন থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তার প্রার্থিতা চূড়ান্তভাবে গ্রহণযোগ্য হবে কি না, তা নির্ভর করছে আগামী কয়েক দিনের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার ওপর।


