প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলা-এ কৃষক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, এই অঞ্চলের মানুষের বিদেশগমনের সুযোগ কাজে না লাগলে তা তার জন্য গভীর আক্ষেপের বিষয় হবে। মঙ্গলবার দুপুরে বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।
জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, দেশের তরুণ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর জন্য বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ একটি বড় সম্ভাবনা, এবং এই সুযোগ সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হলে দক্ষতা ও প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, এই অঞ্চলে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে ভাষা শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে ভাষা দক্ষতাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে কাজের জন্য আরবি, জাপানে জাপানি এবং ইউরোপে ইংরেজি ভাষার ন্যূনতম জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। সম্পূর্ণ পারদর্শিতা না হলেও যোগাযোগের উপযোগী দক্ষতা অর্জন করাই যথেষ্ট বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী বলেন, দক্ষ জনশক্তি তৈরি হলে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার এ খাতে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
এ সময় তিনি জুড়ী উপজেলার কৃষি উৎপাদন নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত লাউ, তরমুজ, লেবু ও কলার মতো কৃষিপণ্যের প্রশংসা করেন এবং এসব পণ্য আরও বেশি পরিমাণে উৎপাদনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এসব পণ্য শুধু স্থানীয় বাজারেই নয়, সিলেট বিভাগের বাইরেও সরবরাহ করা সম্ভব।
মন্ত্রী আরও বলেন, কৃষি পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে জুড়ী উপজেলা আন্তর্জাতিক বাজারে পরিচিতি পেতে পারে। এতে কৃষকের আয় বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে। তিনি এ ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কৃষি কর্মকর্তারা জানান, কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম কৃষকদের আর্থিক সহায়তা ও সরকারি সেবা প্রাপ্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি কৃষকদের তথ্যভিত্তিক তালিকা তৈরিতেও সহায়ক হবে, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে বিভিন্ন কৃষি প্রণোদনা আরও সহজে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, সরকারিভাবে এমন উদ্যোগ তাদের জন্য ইতিবাচক। এতে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরি হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। নববর্ষের প্রথম দিনে এমন আয়োজন কৃষকদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে বলে স্থানীয়রা জানান।
বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষ জনশক্তি গঠন ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি—এই দুই ক্ষেত্রকে একসঙ্গে গুরুত্ব দেওয়ার মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব। বিশেষ করে প্রবাসে কর্মসংস্থান ও কৃষি রপ্তানির সমন্বয় হলে অঞ্চলটির অর্থনৈতিক সম্ভাবনা আরও প্রসারিত হবে।
সব মিলিয়ে জুড়ীতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান শুধু কৃষক কার্ড বিতরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এটি কৃষি ও কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনার বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। মন্ত্রীর বক্তব্যে বিদেশে কর্মসংস্থান, ভাষা দক্ষতা এবং কৃষি রপ্তানির যে দিকনির্দেশনা উঠে এসেছে, তা স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।


