প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় রাজনৈতিক মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও উপজেলা পরিষদের সদ্য সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অরিন্দম চৌধুরী অপুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার দিবাগত মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে শাল্লা সদর এলাকায় নিজ বাসায় যাওয়ার পথে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার অরিন্দম চৌধুরী অপু (৪৩) উপজেলার বাহাড়া ইউনিয়নের নাইন্দা গ্রামের মৃত অনিল চৌধুরীর ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, আগামী ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
শাল্লা থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত গভীর হওয়ার পর পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান শুরু করে। একপর্যায়ে শাল্লা সদরস্থ তার নিজ বাসার দিকে যাওয়ার সময় পুলিশ তাকে আটক করে। পরে তাকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
পুলিশের দাবি, ১৫ আগস্টকে সামনে রেখে এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বিনষ্ট এবং অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার চেষ্টা করা হচ্ছিল। এ বিষয়ে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই অরিন্দম চৌধুরী অপুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার অরিন্দম চৌধুরী অপু শাল্লা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক ছিলেন। পাশাপাশি তিনি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকার কারণে স্থানীয় পর্যায়ে তার পরিচিতি রয়েছে। তবে বর্তমানে তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করার অভিযোগে মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শাল্লা থানার অফিসার ইনচার্জের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা শওকত আলী জানান, আগামী ১৫ আগস্ট উপলক্ষে এলাকায় অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির বিভিন্ন ধরনের কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনার তথ্য পাওয়া যায়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে অরিন্দম চৌধুরী অপুকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫(৩) ও ২৫(ডি) ধারায় মামলা করা হয়েছে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাকে সুনামগঞ্জের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
শাল্লা থানা পুলিশ জানিয়েছে, রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে এলাকায় যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে জন্য নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের তথ্য পেলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
এদিকে অরিন্দম চৌধুরী অপুকে গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তার রাজনৈতিক পরিচয় এবং সাবেক জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের কারণে গ্রেপ্তারের ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয়ে পরিচিত হলেও আইন ভঙ্গের অভিযোগ উঠলে তদন্তের আওতায় আনা হবে। ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা বা জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা হলে তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে বলেও পুলিশ জানিয়েছে।
শাল্লা উপজেলা ভৌগোলিকভাবে হাওরবেষ্টিত একটি এলাকা। এখানকার মানুষের দৈনন্দিন জীবন অনেকটাই শান্তিপূর্ণ সামাজিক পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল। রাজনৈতিক উত্তেজনা বা সংঘাত তৈরি হলে এর প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থার ওপর পড়তে পারে। ফলে রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সে বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের তৎপরতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শাল্লায় অপরাধ ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের টহল ও অভিযান বাড়ানো হয়েছে। উদ্দেশ্য হলো, কোনো ধরনের সংঘাত বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগেই সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।
অরিন্দম চৌধুরী অপুকে গ্রেপ্তারের পর তাকে সুনামগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়েছে। এখন মামলার পরবর্তী আইনি কার্যক্রম আদালতের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। তদন্তে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা, ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা এবং কোনো ধরনের পরিকল্পিত কর্মকাণ্ডের প্রমাণ রয়েছে কি না, সেসব বিষয়ও আইনি প্রক্রিয়ায় যাচাই হবে।
পুলিশের দাবি, এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও তা যেন সহিংসতা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে রূপ না নেয়, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বিশেষ করে জাতীয় ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোকে ঘিরে গুজব, উসকানি কিংবা সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হলে তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। এ কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের ওপরও নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কোনো তথ্য যাচাই ছাড়া প্রচার না করার বিষয়েও সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
শাল্লায় অরিন্দম চৌধুরী অপুকে গ্রেপ্তারের ঘটনা তাই স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, সম্ভাব্য অস্থিতিশীলতা ঠেকাতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে অভিযোগের প্রকৃত সত্যতা এবং তার বিরুদ্ধে আনা মামলার পরিণতি নির্ধারণ করবে আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া।
এদিকে শাল্লা থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের শান্তি বজায় রাখতে এবং কোনো ধরনের গুজব বা উসকানিতে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।


