প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
মৌলভীবাজারের জুড়ীতে বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে জিআর চাল বিতরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে এ সহায়তা বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চাল বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসনের সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ।
প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খাদ্যসংকট কিছুটা লাঘব এবং তাদের দৈনন্দিন জীবনে স্বস্তি ফেরাতে এ মানবিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। কর্মসূচির আওতায় বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে নির্ধারিত পরিমাণে চাল দেওয়া হয়।
জায়ফরনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জুড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাছুম রেজার সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জুড়ী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান চুনু।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জায়ফরনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইসহাক আলী, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম জুবেল, ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সাইফুর রহমান, ইউপি সদস্য আবুল কাসেম, ইউপি সদস্য আব্দুল জব্বারসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন নিম্নআয়ের মানুষ ও অসহায় পরিবারগুলো। বন্যার পানি, অতিবৃষ্টি কিংবা অন্যান্য দুর্যোগের কারণে অনেক পরিবারকে ঘরবাড়ি, খাদ্য ও জীবিকার সংকট মোকাবিলা করতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি মানবিক সহায়তা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
জায়ফরনগর ইউনিয়নে আয়োজিত এই কর্মসূচির মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে সরাসরি খাদ্য সহায়তা তুলে দেওয়া হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় মৌলভীবাজার-১ নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্যের অনুকূলে বরাদ্দ করা জিআর চাল এ কার্যক্রমে বিতরণ করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা অনুযায়ী তাদের মধ্যে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। প্রত্যেক পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে। দুর্যোগের কারণে খাদ্যসংকটে থাকা পরিবারগুলোর জন্য এই সহায়তা সাময়িকভাবে হলেও স্বস্তি বয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিপ্রবণ এলাকাগুলোর একটি। বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা ও বন্যার পরিস্থিতি তৈরি হয়। এতে কৃষি, বসতবাড়ি ও স্থানীয় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অনেক পরিবার খাদ্যসংকটে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুর্যোগের পর সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট। অনেক পরিবারের আয় বন্ধ হয়ে যায় কিংবা কমে যায়। ফলে বাজার থেকে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী কেনাও কঠিন হয়ে পড়ে। এ সময় সরকারি সহায়তা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে কাজ করে।
মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে চাল বিতরণের এ উদ্যোগকে স্থানীয় পর্যায়ে স্বস্তিদায়ক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, দুর্যোগের সময় দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া গেলে তাদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমানো সম্ভব।
অনুষ্ঠানে জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, মানুষের দুর্দিনে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ব। বিশেষ করে বন্যা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো পরিস্থিতিতে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো জরুরি।
জুড়ীর বিভিন্ন এলাকায় দুর্যোগ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতেও মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রয়োজন চিহ্নিত করে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হলে দুর্যোগ-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় তা আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
জায়ফরনগর ইউনিয়ন পরিষদে চাল বিতরণ কার্যক্রমকে ঘিরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে স্বস্তি দেখা যায়। দুর্যোগের কঠিন সময়ে ঘরে খাদ্য পৌঁছানো তাদের জন্য যেমন প্রয়োজন মেটানোর বিষয়, তেমনি এটি সংকটের সময় পাশে থাকার একটি মানবিক বার্তাও বহন করে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব না হলেও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে। খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন, জীবিকা পুনরুদ্ধার এবং ভবিষ্যৎ দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জুড়ীতে জিআর চাল বিতরণের এই কর্মসূচি সেই বৃহত্তর মানবিক সহায়তারই একটি অংশ। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে ১০ কেজি করে চাল পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে অন্তত কিছুদিনের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং দুর্যোগের চাপ সামলে ঘুরে দাঁড়ানোর পথে পরিবারগুলো কিছুটা সহায়তা পাবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।


