উচ্চশিক্ষার স্বপ্নে নাজমুলের পাশে প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।

উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে যখন আর্থিক অনিশ্চয়তা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল, তখন মেধাবী তরুণ মো. নাজমুল হাসানের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সুইডেনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়া এই তরুণের স্বপ্ন বাস্তবায়নে বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে তার হাতে আর্থিক অনুদান তুলে দেওয়া হয়েছে।

একজন তরুণের বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়ার পর অর্থের অভাবে যখন সেই স্বপ্ন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল, তখন প্রধানমন্ত্রীর এই সহযোগিতা নাজমুলের সামনে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। একই সঙ্গে মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়নের পাশাপাশি আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার পথে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই সহায়তা একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কেএম নাজমুল হক এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, মো. নাজমুল হাসান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্স (থিসিস) পর্যায়ের শিক্ষার্থী। তিনি ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।

শিক্ষাজীবনে মেধা ও অধ্যবসায়ের পরিচয় দেওয়া নাজমুল সম্প্রতি সুইডেনের University of Skövde থেকে উচ্চশিক্ষার জন্য পূর্ণ বৃত্তি অর্জন করেছেন। বিদেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ বৃত্তি পাওয়ার এই অর্জন তার দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও একাডেমিক সক্ষমতার প্রতিফলন। কিন্তু বৃত্তি পাওয়ার পরও বিদেশযাত্রা, প্রাথমিক আবাসন এবং যাত্রার শুরুতে প্রয়োজনীয় অন্যান্য খরচ নিয়ে তার পরিবারের সামনে তৈরি হয় বড় ধরনের আর্থিক চ্যালেঞ্জ।

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার খামারকান্দি গ্রামের একটি দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা নাজমুলের জন্য বিদেশে যাওয়ার খরচ বহন করা সহজ ছিল না। একটি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ হাতের নাগালে এসেও অর্থের অভাবে সেই সুযোগ হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা তার উচ্চশিক্ষার পথকে আরও সহজ করেছে।

নাজমুলের জীবনের এই ঘটনাটি শুধু একটি ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়। প্রত্যন্ত এলাকার একটি সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ অর্জন করা একজন তরুণের গল্প এটি। অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা যেখানে অনেক শিক্ষার্থীর স্বপ্নকে থামিয়ে দেয়, সেখানে নাজমুলের অর্জন দেখিয়েছে যে সুযোগ ও সহায়তা পেলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও মেধাবী তরুণরা আন্তর্জাতিক শিক্ষাঙ্গনে নিজেদের জায়গা করে নিতে পারেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্স পর্যায়ে পড়াশোনার পাশাপাশি নাজমুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহ-মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পড়াশোনা ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে এগিয়ে যাওয়া তার বহুমুখী সক্রিয়তার বিষয়টিও সামনে এনেছে।

সুইডেনের University of Skövde-তে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়া নাজমুলের জন্য শুধু দেশের বাইরে যাওয়ার একটি সুযোগ নয়, বরং তার একাডেমিক ও পেশাগত জীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা। আন্তর্জাতিক পরিবেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে নতুন জ্ঞান ও গবেষণার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে অর্জিত জ্ঞান দেশের কাজে লাগানোর সুযোগও তৈরি হবে।

উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক শিক্ষার্থী বৃত্তি পেলেও প্রাথমিক খরচের কারণে সমস্যায় পড়েন। পূর্ণ বৃত্তি থাকলেও অনেক সময় বিমানভাড়া, ভিসা প্রক্রিয়া, প্রাথমিক আবাসন, খাবার ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় বহন করা পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য এই প্রাথমিক ব্যয় বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

নাজমুলের ক্ষেত্রেও সেই বাস্তবতাই দেখা দিয়েছিল। একটি মর্যাদাপূর্ণ বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ নিশ্চিত হওয়ার পরও পরিবারের আর্থিক সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতা তাকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছিল। এমন সময় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সহায়তা পাওয়ায় তার সেই উদ্বেগ অনেকটাই দূর হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে নাজমুলের হাতে অনুদান তুলে দেওয়ার ঘটনাটি তাই একটি প্রতীকী গুরুত্বও বহন করছে। মেধাবী কিন্তু আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার পথে এগিয়ে যেতে রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা এই ঘটনার মাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

একজন শিক্ষার্থীর সাফল্য অনেক সময় তার নিজের পরিবারের গণ্ডি ছাড়িয়ে একটি বৃহত্তর সমাজকে অনুপ্রাণিত করে। নাজমুলের গল্পও তেমন একটি উদাহরণ। বগুড়ার শেরপুরের খামারকান্দি গ্রামের সাধারণ একটি পরিবার থেকে উঠে এসে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা এবং সেখান থেকে সুইডেনের বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ বৃত্তি অর্জন তার শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

তার এই যাত্রা বিশেষ করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য আশাব্যঞ্জক বার্তা বহন করছে। উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখতে হলে বড় শহর বা আর্থিকভাবে স্বচ্ছল পরিবার থেকে আসতে হবে—এমন ধারণাকে নাজমুলের সাফল্য চ্যালেঞ্জ করে। মেধা, অধ্যবসায় এবং সঠিক সুযোগ থাকলে সীমিত সামর্থ্যের পরিবার থেকেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজের অবস্থান তৈরি করা সম্ভব।

নাজমুলের উচ্চশিক্ষার এই যাত্রা ভবিষ্যতে দেশের জন্যও ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে। প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞানসহ জীববিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার ক্ষেত্র বর্তমানে বিশ্বব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। উচ্চতর গবেষণা ও আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হয়ে দেশে ফিরে কিংবা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করার মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী দেশের জ্ঞানভিত্তিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি এবং বিদেশে পড়াশোনার ক্ষেত্রে প্রাথমিক আর্থিক বাধা দূর করা গেলে বাংলাদেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়া সম্ভব। মেধাবী শিক্ষার্থীরা যখন আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হন, তখন তাদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা দেশের শিক্ষা, গবেষণা ও কর্মক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

নাজমুলের গল্পে তাই একই সঙ্গে রয়েছে সংগ্রাম, সাফল্য এবং সম্ভাবনার বার্তা। একদিকে সীমিত আর্থিক সামর্থ্যের পরিবারের সন্তান হিসেবে তার পথচলা, অন্যদিকে নিজের মেধা ও পরিশ্রমে আন্তর্জাতিক বৃত্তি অর্জন—দুটি বিষয়ই তরুণ প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বহন করে।

প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পাওয়া এই সহায়তা নাজমুলের জন্য শুধু বিদেশযাত্রার প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটানোর একটি মাধ্যম নয়; এটি তার দীর্ঘদিনের স্বপ্নের প্রতি একটি প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতিও। আর্থিক সংকটের কারণে উচ্চশিক্ষার একটি সুযোগ হারানোর আশঙ্কা থেকে এখন তিনি নতুন আত্মবিশ্বাস নিয়ে সুইডেনের পথে এগিয়ে যেতে পারবেন।

নাজমুলের সামনে এখন নতুন এক অধ্যায় অপেক্ষা করছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাজীবনের অভিজ্ঞতা সঙ্গে নিয়ে সুইডেনের আন্তর্জাতিক শিক্ষাঙ্গনে প্রবেশ করবেন তিনি। সেখানে নতুন পরিবেশ, নতুন গবেষণা এবং নতুন একাডেমিক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হবেন। তার অর্জন শুধু নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার পথ নয়, দেশের তরুণদের জন্যও একটি অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে উঠতে পারে।

একটি দরিদ্র পরিবারের সন্তান হয়েও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পূর্ণ বৃত্তি অর্জনের মাধ্যমে নাজমুল ইতোমধ্যে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন। এখন প্রয়োজন সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে উচ্চশিক্ষায় আরও সাফল্য অর্জন করা। তার এই যাত্রা সফল হলে তা পরিবার, বিশ্ববিদ্যালয় এবং নিজ এলাকার জন্য যেমন গর্বের হবে, তেমনি দেশের আরও অনেক তরুণকে স্বপ্ন দেখতেও উৎসাহিত করবে।

প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতায় নাজমুলের সুইডেনযাত্রার পথ এখন অনেকটাই মসৃণ হয়েছে। আর এই গল্পের সবচেয়ে বড় বার্তা হলো, আর্থিক সীমাবদ্ধতা মেধার পথচলার শেষ কথা নয়। সঠিক সময়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া হলে একটি তরুণের স্বপ্ন শুধু বাস্তবায়িতই হতে পারে না, সেই স্বপ্ন ভবিষ্যতে আরও অনেক তরুণের পথ দেখাতেও পারে।

এই সপ্তাহের খবরাখবর

গুম তদন্তে স্বাধীন সংস্থা চায় এনসিপি

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সুগন্ধি চালের রপ্তানি কোটা কমাচ্ছে সরকার

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

ডারউইনে বাংলাদেশের স্বপ্নময় প্রথম দিন

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

রাজনগরে ব্রিজ ভেঙে খালে তেলবাহী ট্রাক, চালক নিহত

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

পৌর মেয়র থেকে রাষ্ট্রপতি হওয়ার পথে মির্জা ফখরুল

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিষয়বস্তু

গুম তদন্তে স্বাধীন সংস্থা চায় এনসিপি

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সুগন্ধি চালের রপ্তানি কোটা কমাচ্ছে সরকার

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

ডারউইনে বাংলাদেশের স্বপ্নময় প্রথম দিন

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

রাজনগরে ব্রিজ ভেঙে খালে তেলবাহী ট্রাক, চালক নিহত

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

পৌর মেয়র থেকে রাষ্ট্রপতি হওয়ার পথে মির্জা ফখরুল

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

শাল্লায় ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক অপু গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

জুড়ীতে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেটে অনলাইন জুয়ার লাভের ফাঁদে র‌্যাবের হাতে আটক চারজন

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সম্পর্কিত নিবন্ধ

জনপ্র্যিয় পেজ