সিলেটে ট্রিপল মার্ডারে ছোরা উদ্ধার, তদন্তে নতুন মোড়

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।

সিলেট মহানগরীর রায়নগর আবাসিক এলাকার মিতালী ১১১ নম্বর বাসায় সংঘটিত আলোচিত স্বামী-স্ত্রী ও গৃহকর্মী হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন মোড় নিয়েছে। গ্রেপ্তার বাবুল মিয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ একটি ছোরা উদ্ধার করেছে, যা এই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া ছোরায় শুকনো রক্তের দাগ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এখন ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে এটি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষা।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে রায়নগর এলাকার একটি খালি জায়গা থেকে ছোরাটি উদ্ধার করা হয়। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর ও প্রসিকিউশন) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের জানান, হত্যাকাণ্ডের পর বাবুল মিয়া ছোরাটি ওই এলাকায় ফেলে দিয়েছিলেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় তল্লাশি চালিয়েও ছোরাটি পাওয়া যায়নি। পরে বৃহস্পতিবার সকালে শ্রমিক নিয়ে পুনরায় অনুসন্ধান শুরু করলে একপর্যায়ে ছোরাটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

উদ্ধার হওয়া ছোরার ধাতব অংশে শুকনো রক্তের দাগ রয়েছে। পুলিশ ধারণা করছে, হত্যার পর অস্ত্রটি ধুয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। ঘটনাস্থলের বাসার বেসিন, হাত ধোয়ার স্থান এবং একটি ব্যাগেও রক্তের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এসব আলামত সংগ্রহ করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা রক্তের নমুনার সঙ্গে ছোরায় পাওয়া রক্তের মিল পরীক্ষা করা হবে। এর মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে, ছোরাটি সত্যিই এই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছিল কি না।

পুলিশ জানিয়েছে, বাবুল মিয়া জিজ্ঞাসাবাদে যে ধরনের অস্ত্রের বর্ণনা দিয়েছেন, উদ্ধার করা ছোরার সঙ্গে তার যথেষ্ট মিল রয়েছে। বাবুল মিয়া পেশায় রংমিস্ত্রি হলেও মাঝে মধ্যে কসাইয়ের কাজও করতেন। তার বর্ণনা অনুযায়ী, ছোরাটি ছিল ছয় থেকে সাত ইঞ্চি লম্বা এবং কাঠের হাতলযুক্ত। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটির সঙ্গেও সেই বৈশিষ্ট্যের মিল পাওয়া গেছে।

রায়নগরের এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড সিলেটজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। একই পরিবারের দুই সদস্য ও একজন কিশোরী গৃহকর্মীর মৃত্যু নগরবাসীর মনে গভীর শোক ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। নিহতরা হলেন প্রবীণ দম্পতি এবং তাদের বাসায় কর্মরত এক কিশোরী গৃহকর্মী। ঘটনার পর থেকেই পুলিশ বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, ক্ষোভ, সম্পত্তিসংক্রান্ত বিরোধ কিংবা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল মিয়া জানিয়েছেন, রং করার কাজ করতে গিয়ে গৃহকর্মীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়েছিল। তবে তাদের মধ্যে সম্পর্ক কতটা ঘনিষ্ঠ ছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে গৃহকর্মীর ওপর হামলা চালানো হয়। পরে তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন গৃহকর্ত্রী। একপর্যায়ে গৃহকর্তাও হামলার শিকার হন। এরপর বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যান বাবুল মিয়া। পুলিশ বলছে, গৃহকর্মীর কোনো আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি ছোরা নিয়ে বাসায় গিয়েছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই তথ্যকে চূড়ান্ত বলে ধরা হচ্ছে না।

ঘটনাস্থল থেকেও গুরুত্বপূর্ণ আলামত পাওয়া গেছে। বাসার দরজার নিচের একটি ছিটকানি ভাঙা অবস্থায় ছিল। যে বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে, সেখানে হাত ও পায়ের ছাপ পাওয়া গেছে। বারান্দার নিচেও রক্তের চিহ্ন মিলেছে। এসব আলামত পরীক্ষার মাধ্যমে ঘটনার পুরো চিত্র স্পষ্ট করার চেষ্টা চলছে।

এছাড়া বাসার কয়েকটি ওয়ারড্রোব ও আলমারি খোলা অবস্থায় পাওয়া গেলেও সেগুলো ভাঙা ছিল না। সেখান থেকে কোনো মূল্যবান জিনিসপত্র নেওয়া হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে তিন পাতার একটি দলিলসদৃশ কাগজও উদ্ধার করা হয়েছে। এটি মূল দলিল নাকি অনুলিপি এবং এর সঙ্গে কোনো সম্পত্তিগত বিরোধের সম্পর্ক আছে কি না, তাও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, বাবুল মিয়া এর আগে ওই বাসায় রং করার কাজ করেছিলেন। ফলে বাসার ভেতরের পরিবেশ, বিভিন্ন কক্ষের অবস্থান এবং পরিবারের দৈনন্দিন কার্যক্রম সম্পর্কে তার ধারণা ছিল। তদন্তকারীরা এখন হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে তার গতিবিধি, আর্থিক অবস্থা এবং অন্যান্য বিষয়ও খতিয়ে দেখছেন।

এখন পর্যন্ত অন্য কেউ এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল কি না, সে বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে তদন্তকারীরা কোনো সম্ভাবনাই উড়িয়ে দিচ্ছেন না। পুলিশ বলছে, ফরেনসিক পরীক্ষা, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও অন্যান্য আলামতের সমন্বিত বিশ্লেষণের পরই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে কার কী ভূমিকা ছিল, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

নিহত দম্পতির প্রবাসী সন্তানরা দেশে এসে আইনজীবী ও স্বজনদের মাধ্যমে এজাহার দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এজাহার গ্রহণের পর মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে রেকর্ড করা হবে এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করা হবে।

রায়নগরের এই নির্মম হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো নগরবাসীর নিরাপত্তাবোধকে নাড়িয়ে দিয়েছে। উদ্ধার হওয়া ছোরা, ঘটনাস্থলের আলামত এবং ফরেনসিক পরীক্ষার ফল এখন এই মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তদন্ত শেষ হলে এই বহুল আলোচিত ট্রিপল মার্ডারের প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার নেপথ্যের পুরো চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।

এই সপ্তাহের খবরাখবর

গুম তদন্তে স্বাধীন সংস্থা চায় এনসিপি

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সুগন্ধি চালের রপ্তানি কোটা কমাচ্ছে সরকার

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

উচ্চশিক্ষার স্বপ্নে নাজমুলের পাশে প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

ডারউইনে বাংলাদেশের স্বপ্নময় প্রথম দিন

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

রাজনগরে ব্রিজ ভেঙে খালে তেলবাহী ট্রাক, চালক নিহত

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিষয়বস্তু

গুম তদন্তে স্বাধীন সংস্থা চায় এনসিপি

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সুগন্ধি চালের রপ্তানি কোটা কমাচ্ছে সরকার

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

উচ্চশিক্ষার স্বপ্নে নাজমুলের পাশে প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

ডারউইনে বাংলাদেশের স্বপ্নময় প্রথম দিন

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

রাজনগরে ব্রিজ ভেঙে খালে তেলবাহী ট্রাক, চালক নিহত

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

পৌর মেয়র থেকে রাষ্ট্রপতি হওয়ার পথে মির্জা ফখরুল

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

শাল্লায় ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক অপু গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

জুড়ীতে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সম্পর্কিত নিবন্ধ

জনপ্র্যিয় পেজ