প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।।
সিলেট মহানগরবাসীর দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকট নিরসন এবং পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নে এক নতুন নেতৃত্ব যুক্ত হয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকীকে সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান পদে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে সিলেট ওয়াসার পরিচালনায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো, যার দিকে তাকিয়ে রয়েছে পুরো নগরবাসী। সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ পদায়নের ফলে নগরীর নাগরিক সেবার মান উন্নত হবে এবং দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা বিভিন্ন সমস্যার দ্রুত সমাধান মিলবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত রোববার স্থানীয় সরকার বিভাগের পানি সরবরাহ-২ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মোছা. আকতারুন নেছা স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এই নিয়োগের আদেশ জারি করা হয়। পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী মিফতাহ্ সিদ্দিকীকে আগামী তিন বছরের মেয়াদের জন্য সিলেট ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে মনোনীত করা হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তাঁকে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে, যার মধ্যে অন্যতম হলো নগরবাসীর জন্য বিশুদ্ধ ও সুপেয় পানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা। দীর্ঘদিন ধরে সিলেট নগরীর বিভিন্ন এলাকায় খাবার পানির তীব্র সংকট এবং অপরিকল্পিত নিষ্কাশন ব্যবস্থা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। এই সংকট থেকে নগরবাসীকে মুক্ত করতে নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
সিলেট মহানগরে পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ বা ওয়াসা গঠিত হয়েছিল ২০২২ সালের ২ মার্চ। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটি নানা প্রতিকূলতা ও জনবলের ঘাটতির মধ্য দিয়ে পথ চলছে। প্রতিষ্ঠার পর সরকারের পক্ষ থেকে প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ও নাক, কান, গলা (ইএনটি) বিভাগের সাবেক প্রধান ডা. এ কে এম হাফিজ। তাঁর মেয়াদের পর এবার নতুন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সমীকরণে মিফতাহ্ সিদ্দিকীর কাঁধে এই প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নেতৃত্ব অর্পিত হলো। রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে পরিচিত মুখ মিফতাহ্ সিদ্দিকী দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের নানা দায়িত্ব সফলভাবে পালন করে আসছেন। এখন একজন প্রশাসক হিসেবে জনকল্যাণমূলক এই বৃহৎ প্রতিষ্ঠানে তিনি কতটা সফল হন, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও সুশীল সমাজের মধ্যেও আলোচনা চলছে।
সিলেট নগরীর বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের প্রধান অভিযোগগুলোর একটি হলো গ্রীষ্ম বা বর্ষা—সব ঋতুতেই সুপেয় পানির তীব্র হাহাকার। শহরের অনেক এলাকায় পাইপলাইনের মাধ্যমে পর্যাপ্ত পানি পৌঁছায় না, আবার যেখানে পানি আসে তাও অনেক ক্ষেত্রে পানের উপযোগী থাকে না। অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এসব কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দীর্ঘদিনের। মিফতাহ্ সিদ্দিকী চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নগরবাসী আশা করছেন, তিনি সাধারণ মানুষের এই দুর্ভোগের কথা মাথায় রেখে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। দুর্নীতি, দীর্ঘসূত্রতা ও অব্যবস্থাপনা দূর করে সিলেট ওয়াসাকে একটি জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করাটাই হবে তাঁর জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
স্থানীয় সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ার পর মিফতাহ্ সিদ্দিকী নগরবাসীর মৌলিক অধিকার ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও ওয়াসার কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুতই একটি দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে নতুন পানির উৎস সন্ধান, পুরনো পাইপলাইন সংস্কার এবং পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার আধুনিকায়নে বাজেট বরাদ্দ ও তার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর জোর দিতে হবে। সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন ও প্রত্যাশা পূরণে নতুন চেয়ারম্যান কতটা সফলকাম হন, তা সময়ই বলে দেবে। তবে আপাতত মিফতাহ্ সিদ্দিকীর এই নিয়োগ সিলেট নগরীর রাজনীতি ও নাগরিক মহলে এক ব্যাপক ইতিবাচক আলোচনা ও প্রত্যাশার জন্ম দিয়েছে।


