প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের অন্যতম প্রভাবশালী পরিবারে জন্ম নেওয়া এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক অবিস্মরণীয় অবদান রাখা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান কোকোর ৫৭তম জন্মবার্ষিকী আজ। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হওয়া সত্ত্বেও যিনি সর্বদা প্রচারের আলো থেকে নিজেকে শত হস্ত দূরে রেখে এক অন্তর্মুখী, নিরহংকার ও সাধারণ জীবনযাপন বেছে নিয়েছিলেন, সেই ক্ষণজন্মা এই মানুষটির প্রয়াণ দিবস ও জন্মবার্ষিকীতে আজ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন তাঁর অনুসারী ও শুভানুধ্যায়ীরা। রাজনীতিতে সরাসরি সক্রিয় না থেকেও ক্রীড়া সংগঠনের মাধ্যমে দেশের ক্রিকেটের ভিত শক্ত করতে যিনি আজীবন নিভৃতে কাজ করে গেছেন, তাঁর এই বিশেষ জন্মদিনে দেশজুড়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ১৯৬৯ সালের ১২ আগস্ট জন্ম নেওয়া আরাফাত রহমান কোকো তাঁর বর্ণাঢ্য ও সংক্ষিপ্ত জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে সততা, মার্জিত আচরণ এবং দায়িত্বশীলতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত অমায়িক, মৃদুভাষী এবং পরোপকারী। দেশের ইতিহাসের অন্যতম শীর্ষ রাজনৈতিক পরিবারের ছায়াতলে বড় হলেও ক্ষমতার মোহ বা রাজনৈতিক কোন্দল তাঁকে কখনো স্পর্শ করতে পারেনি। তিনি নিজেকে সব সময় ব্যস্ত রেখেছিলেন সাধারণ মানুষের সেবা এবং দেশের যুবসমাজ ও ক্রীড়া উন্নয়নের মহৎ কাজে। বিএনপি পরিবারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও দলের প্রধান তারেক রহমানের ছোট ভাই হওয়া সত্ত্বেও তিনি কখনোই ক্ষমতার অপব্যবহার করেননি, বরং নিজের মেধা, প্রজ্ঞা ও নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখতেন এবং তা বাস্তবায়নে আজীবন সচেষ্ট ছিলেন।
বাংলাদেশের আধুনিক ক্রিকেটের ইতিহাসে আরাফাত রহমান কোকোর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। বিশেষ করে ২০০২ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সঙ্গে অত্যন্ত ওতপ্রোতভাবে যুক্ত থেকে তিনি দেশের ক্রিকেট জগতের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ক্রিকেটকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার ক্ষেত্রে এক সাহসী ও যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেছিলেন। ওই সময় বাংলাদেশ ক্রিকেট দল যখন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করার প্রাথমিক লড়াইয়ে লিপ্ত ছিল, ঠিক সেই দুর্গম ও চ্যালেঞ্জিং সময়ে বিসিবির উন্নয়নে তাঁর সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ও প্রশাসনিক দক্ষতা এক বিরাট গতি সঞ্চার করেছিল। দেশের তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান ক্রিকেটার খুঁজে বের করা, তাদের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং কোচিং স্টাফদের মানোন্নয়নের পেছনে তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও আন্তরিকতার কথা আজও দেশের প্রবীণ ক্রীড়া সংগঠক ও খেলোয়াড়েরা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। রাজনীতির মারপ্যাঁচ থেকে খেলাধুলাকে সম্পূর্ণ মুক্ত রেখে ক্রীড়াঙ্গনকে কেবল মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পরিচালনার যে সংস্কৃতি তিনি চালু করতে চেয়েছিলেন, তা আজও দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে এক মাইলফলক হয়ে আছে।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও নানামুখী ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে জীবনের শেষভাগে তাঁকে দেশত্যাগ করতে হয়েছিল এবং চরম মানসিক ও শারীরিক কষ্টের মধ্য দিয়ে দিন কাটাতে হয়েছিল। ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি সুদূর মালয়েশিয়ায় প্রবাস জীবন কাটানোর সময় হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় না ফেরার দেশে চলে যান আরাফাত রহমান কোকো। তাঁর আকস্মিক ও অকাল মৃত্যুতে দেশজুড়ে নেমে এসেছিল শোকের ছায়া। কোটি কোটি মানুষ তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় চোখের জলে সিক্ত হয়েছিল। আজও প্রতি বছর ১২ আগস্ট তাঁর জন্মদিনে এবং ২৪ জানুয়ারি মৃত্যুবার্ষিকীতে বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ দেশের সাধারণ ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে তাঁকে স্মরণ করেন। আজকের এই ৫৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দলীয়ভাবে নানা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। রাজধানী ঢাকার বনানী কবরস্থানে সকাল থেকেই বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত হয়ে মরহুমের কবর জিয়ারত ও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এ ছাড়াও নয়াপল্টনে অবস্থিত বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিশেষ দোয়া মাহফিল ও আরাফাত রহমান কোকোর বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের ওপর এক বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দলের নেতারা গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরবেন।
আরাফাত রহমান কোকো শারীরিক ও মানসিকভাবে দীর্ঘকাল ধরে নানা নির্যাতনের শিকার হলেও দেশের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও মমত্ববোধে এতটুকু ভাটা পড়েনি। প্রবাসজীবনে থেকেও তিনি প্রতিনিয়ত বাংলাদেশের মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। তাঁর অজাতশত্রু ও সদা হাস্যোজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব তাঁকে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে চিরস্থায়ী আসন করে দিয়েছে। আজকের এই দিনে দেশের রাজনৈতিক ও ক্রীড়াঙ্গনের মানুষ পরম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন এমন একজন নিভৃতচারী দেশপ্রেমিককে, যিনি ক্ষমতার মোহ ত্যাগ করে নিঃস্বার্থভাবে দেশের জন্য কাজ করে গেছেন। তাঁর এই জন্মবার্ষিকীতে দেশবাসীর প্রত্যাশা, তরুণ প্রজন্ম তাঁর আদর্শ ও দেশপ্রেম থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে একটি বৈষম্যহীন, সুন্দর ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গঠনে নিজেদের নিয়োজিত করবে। মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর পবিত্র স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা এবং তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দেশজুড়ে বিভিন্ন মসজিদে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে।


