প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
আসন্ন একদিনের সফরে চট্টগ্রাম আসার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। এই সফরে তিনি সরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পাশাপাশি হেফাজতে ইসলামের আমিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন এবং ঐতিহ্যবাহী হাটহাজারী মাদ্রাসায় যাবেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই তার প্রথম চট্টগ্রাম সফর হওয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝেও বিশেষ আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
নির্ধারিত সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী আগামী রোববার সকালে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। সফরকালে তিনি বাঁশখালী, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারী উপজেলার বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সাম্প্রতিক পাহাড়ি ঢল ও অবিরাম বর্ষণে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় যে মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে, তা সরজমিন পরিদর্শন করতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে বাঁশখালী ও হাটহাজারী উপজেলায় সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে নতুন ঘর এবং পুনর্বাসন সহায়তা প্রদান করবেন প্রধানমন্ত্রী।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আগামী ৯ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চট্টগ্রাম সফরের পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। সফরে তিনি সাম্প্রতিক পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁশখালী ও হাটহাজারীর মানুষের খোঁজখবর নেবেন এবং তাদের পুনর্বাসনে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তার বিষয়টি তদারকি করবেন। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে সব ধরনের নিরাপত্তা ও প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা সম্পন্ন করা হয়েছে।
রোববার সকালে চট্টগ্রামে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী প্রথমে হেলিকপ্টারযোগে বাঁশখালী উপজেলার বাহাছড়া ইউনিয়নে যাবেন। সেখানে বেলা ১২টা ২০ মিনিটে পশ্চিম বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন তিনি। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বাঁশখালীতে বন্যায় ঘর হারানো অন্তত একশ পরিবারের হাতে নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তর করা হবে। পাশাপাশি তাদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ এবং দুস্থ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিশেষ সহায়তা প্রদান করবেন প্রধানমন্ত্রী।
বাঁশখালীর কর্মসূচি শেষে দুপুর দেড়টার দিকে হেলিকপ্টারযোগে ফটিকছড়ি উপজেলার পেহেলগাজী দিঘীর মাঠে অবতরণ করার কথা রয়েছে তার। সেখান থেকে সড়কপথে তিনি ফটিকছড়ির ঐতিহ্যবাহী আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় যাবেন। রোববার বেলা দুইটার দিকে এই মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে।
এই সাক্ষাৎ ও আগমন প্রসঙ্গে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, মাদ্রাসায় দেশের শীর্ষ আলেম-ওলামা ও সর্বস্তরের জনগণ প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাবেন। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বৈঠকে সংগঠনের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া ও দেশের সমসাময়িক নানা বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হবে। প্রধানমন্ত্রীর এই আগমনকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসাচত্বর ও আশপাশের এলাকায় এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়দের মাঝে গভীর উদ্দীপনা বিরাজ করছে।
ফটিকছড়ির কর্মসূচি শেষ করে প্রধানমন্ত্রী সড়কপথেই চলে যাবেন হাটহাজারীতে। সেখানে অবস্থিত উপমহাদেশের অন্যতম শীর্ষ দীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় যাবেন তিনি। হাটহাজারী মাদ্রাসায় পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সাবেক আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী ও বিশিষ্ট আলেম আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর কবর জিয়ারত করবেন বলে নিশ্চিত করেছেন দলের দায়িত্বশীল নেতারা। দেশের আধ্যাত্মিক ও শিক্ষাঙ্গনে এই দুই মহান ব্যক্তিত্বের অবদানকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবেন তিনি।
মাদ্রাসা পরিদর্শন ও কবর জিয়ারত শেষে রোববার বিকেল ৫টায় হাটহাজারী সরকারি মাঠে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের জন্য আয়োজিত আরেকটি জনাকীর্ণ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানেও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে পুনর্বাসন সহায়তা ও ত্রাণ বিতরণ করার কথা রয়েছে তার। এরপর দিনভর ব্যস্ত কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যায় তিনি নগরীর পাঁচ তারকা রেডিসন ব্লু বে ভিউ হোটেলের অডিটোরিয়ামে উপস্থিত হয়ে বিএনপির চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় মিলিত হবেন। দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা শেষে রাতেই তার ঢাকায় ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের গত ২৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ডে একটি বিশাল জনসভায় অংশ নিয়েছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সরকার গঠনের পর গত এপ্রিল মাসে ফটিকছড়িতে বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমিরের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য তার যাওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তৎকালীন অনিবার্য কারণে সেই কর্মসূচি স্থগিত হয়ে গিয়েছিল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার এই প্রথম চট্টগ্রাম সফরকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মাঝে যেমন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তেমনি পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের পুনর্বাসন কার্যক্রমে গতি আসবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


