প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর পূর্বঘোষিত পদযাত্রা ও গণসংযোগ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সিলেটের সীমান্তবর্তী উপজেলা কানাইঘাটে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দিনভর উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের অবস্থান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের কারণে পুরো উপজেলা জুড়ে সতর্ক পরিবেশ বিরাজ করে। যদিও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো ধরনের সংঘর্ষ বা বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি, তবে স্থানীয় প্রশাসন সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার বিকেল ২টার দিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় নেতাদের কানাইঘাটে পৌঁছানোর কথা ছিল। তাদের নেতৃত্বে পদযাত্রা, গণসংযোগ এবং একটি পথসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে নির্ধারিত সময় অতিক্রম করলেও নেতৃবৃন্দ কানাইঘাটে পৌঁছাতে পারেননি। এতে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয় এবং কর্মসূচির সময়সূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
উপজেলা এনসিপির নেতৃবৃন্দ জানান, কানাইঘাটে পৌঁছাতে বিলম্বের প্রধান কারণ গোলাপগঞ্জে সংঘটিত একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। তাদের দাবি, দুপুরে গোলাপগঞ্জে এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটায় কেন্দ্রীয় নেতাদের যাত্রাপথে বিলম্ব হয়। পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং নিরাপত্তাজনিত বিষয় বিবেচনায় নিয়েই তাদের কর্মসূচির সময়সূচিতে পরিবর্তন আসে বলে তারা জানান।
এনসিপির স্থানীয় নেতারা আরও বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে আসরের নামাজের পর কানাইঘাটে পথসভা ও গণসংযোগ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কর্মসূচিতে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণঅধিকার, গণতন্ত্র এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে বক্তব্য রাখবেন বলেও জানানো হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে গণসংযোগ করার পরিকল্পনাও ছিল।
অন্যদিকে, বিকেল ৩টার দিকে কানাইঘাট বাজার এলাকায় ছাত্রদলের একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। মিছিল চলাকালে বাজার এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পায় এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ দেখা দেয়। যদিও মিছিলটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়, তারপরও সম্ভাব্য যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান নেয়।
পুলিশ, আনসার সদস্য এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের উপজেলা সদরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়, বাজার এলাকা এবং সম্ভাব্য সমাবেশস্থলে টহল দিতে দেখা যায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কোনো পক্ষ যাতে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে না পারে, সে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে।
ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সাংবাদিকদের জানান, এনসিপির নেতাকর্মীরা কানাইঘাটে এলে তাদের স্বাগত জানানো হবে। তবে তারা একই সঙ্গে বলেন, তাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কিংবা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-কে নিয়ে কেউ কটাক্ষ বা অবমাননাকর বক্তব্য দিলে তার রাজনৈতিক জবাব দেওয়া হবে। তারা শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচির পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কথা উল্লেখ করলেও নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কর্মসূচিকে ঘিরে সকাল থেকেই উপজেলা সদরে মানুষের চলাচল কিছুটা বেড়ে যায়। রাজনৈতিক কর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি উৎসুক সাধারণ মানুষও বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিতে শুরু করেন। ফলে বাজার, বাসস্ট্যান্ড এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি লক্ষ্য করা যায়। ব্যবসায়ীরাও সতর্কতার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করেন এবং পরিস্থিতির ওপর নজর রাখেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় প্রশাসন এখন অনেক বেশি সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করছে। বিশেষ করে কোনো কর্মসূচি যাতে সংঘর্ষ, ভাঙচুর বা জনদুর্ভোগের কারণ না হয়, সে লক্ষ্যে আগে থেকেই নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। কানাইঘাটেও তারই প্রতিফলন দেখা গেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো সংঘর্ষ, ভাঙচুর কিংবা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। তারা রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা ধরনের তথ্য ও মন্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাচাইবাছাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করেছেন।


