প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
মাদক নামের এক ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি ধীরে ধীরে গ্রাস করে চলেছে আমাদের যুবসমাজকে। মাদকের সর্বনাশা ছোবল থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দেশজুড়ে পুলিশ প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এরিই ধারাবাহিকতায় সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলায় পুলিশের একটি বিশেষ ও সফল অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ এক কুখ্যাত মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এই ঝটিকা অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী উদ্ধার করেছে প্রায় ১৬ শ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, যার আনুমানিক বাজারমূল্য কয়েক লাখ টাকা। এই চাঞ্চল্যকর আটকের ঘটনাটি স্থানীয় এলাকাবাসী এবং সচেতন মহলের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, শুক্রবার ভোর রাতের দিকে বিয়ানীবাজার থানার একদল অভিজ্ঞ পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য উপজেলার ১ নম্বর আলীনগর ইউনিয়নের খাসা গ্রামের গাছতলা পয়েন্ট সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালায়। সিলেট-বিয়ানীবাজার প্রধান সড়কের পাশে অবস্থিত স্থানীয় ব্যবসায়ী তারেকের দোকানের সামনে সন্দেহভাজন গতিবিধি লক্ষ্য করে অমিত বিশ্বাস (৩৮) নামের এক ব্যক্তিকে থামানো হয়। পরবর্তীতে তার দেহ এবং সঙ্গে থাকা জিনিসপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তল্লাশি করে পুলিশ। তল্লাশির একপর্যায়ে তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় মোট ১ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট। মাদকের এই বিশাল চালান উদ্ধারের পর তাৎক্ষণিকভাবে তাকে হাতেনাতে আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও পুলিশের রেকর্ডপত্র থেকে জানা গেছে, আটককৃত অমিত বিশ্বাস পার্শ্ববর্তী জকিগঞ্জ উপজেলার বিপক গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা এবং তার পিতার নাম দীগেন্দ্র বিশ্বাস। দীর্ঘদিন ধরে সে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা ও জকিগঞ্জ-বিয়ানীবাজার রুটে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধারকৃত প্রতিটি ইয়াবা ট্যাবলেটের আনুমানিক বাজারমূল্য তিনশো টাকা করে হিসাব করলে, জব্দকৃত মোট এক হাজার ছয়শ পিস ইয়াবার সর্বমোট বাজারমূল্য প্রায় চার লাখ আশি হাজার টাকা। মাদকের এই চালানটি সে অন্য কোথাও পাচার করার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিল বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে।
এই ঘটনায় বিয়ানীবাজার থানায় সংশ্লিষ্ট মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর আটককৃত অমিত বিশ্বাসকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে বলে নিশ্চিত করেছে থানা পুলিশ। মাদকের মতো এমন একটি সামাজিক অপরাধের সঙ্গে আর কারা কারা জড়িত রয়েছে এবং এর পেছনে কোনো বড় চক্র কাজ করছে কি না, সে বিষয়ে গভীরতর তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ প্রশাসন। অপরাধীদের নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে এবং মাদক কারবারিদের শিকড় উৎপাটন করতে এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে।
অভিযান পরিচালনা প্রসঙ্গে বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জাফর গণমাধ্যমকে বলেন, মাদকের বিষাক্ত ছাবল থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্ম ও সমাজকে রক্ষা করতে পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়েছে এবং এর বিরুদ্ধে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান যেকোনো মূল্যে অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও বলেন, সমাজ থেকে অপরাধ দূর করতে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ পিছপা হবে না।
মাদক কারবারিদের এমন বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করেন, যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে হলে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা আবশ্যক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন সময়োপযোগী ও সাহসী পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়ে এলাকাবাসী আশা প্রকাশ করেছেন যে, বিয়ানীবাজার উপজেলাকে পুরোপুরি মাদকমুক্ত করতে প্রশাসনের এই ধারাবাহিক নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।


