প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
সিলেট মহানগরীর বন্দরবাজার এলাকার লালবাজারে অবস্থিত একটি আবাসিক হোটেল থেকে এক ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে কোতোয়ালী থানা পুলিশ হোটেলের একটি কক্ষ থেকে ওই ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো মন্তব্য করেনি পুলিশ। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
নিহত ব্যক্তি সোহেল আহমদ (৩৫)। তিনি সিলেট জেলার জৈন্তাপুর উপজেলার ডিবির হাওর এলাকার বাসিন্দা। তবে দীর্ঘদিন ধরে সিলেট মহানগরীর নয়াসড়ক এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। পারিবারিক সূত্র এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলের তথ্য অনুযায়ী, তিনি মহানগরীর হাসান মার্কেটে ব্রিফকেস, ট্রাভেল ব্যাগ ও বিভিন্ন ধরনের ব্যাগেজ সামগ্রীর ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ব্যবসায়ী হিসেবে তিনি স্থানীয় বাজারে পরিচিত মুখ ছিলেন বলেও জানা গেছে।
পুলিশ ও হোটেল সূত্রে জানা যায়, সোহেল আহমদ বন্দরবাজারের লালবাজার এলাকায় অবস্থিত হোটেল আলী আবাসিকের দ্বিতীয় তলার ১০৮ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেন। তিনি কক্ষে প্রবেশের পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও বাইরে বের হননি। বিষয়টি হোটেল কর্মীদের নজরে এলে তারা কয়েক দফা দরজায় কড়া নাড়ে এবং ভেতর থেকে সাড়া দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু কোনো ধরনের সাড়া না পেয়ে তারা হোটেল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেন।
পরবর্তীতে হোটেল কর্তৃপক্ষ কোতোয়ালী থানা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কক্ষের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। সেখানে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় সোহেল আহমদের মরদেহ দেখতে পায় পুলিশ। পরে মরদেহটি উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয় এবং ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মাঈনুল জাকির জানান, আবাসিক হোটেলের একটি কক্ষ থেকে একজন ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত আলামত, হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। নিহত ব্যক্তি কখন হোটেলে প্রবেশ করেন, তার সঙ্গে অন্য কেউ দেখা করেছিলেন কি না এবং মৃত্যুর আগে কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তের আওতায় রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ নিয়ে কোনো ধরনের অনুমান বা মন্তব্য না করার আহ্বান জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। হাসান মার্কেটের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, সোহেল আহমদ নিয়মিত ব্যবসা পরিচালনা করতেন এবং বাজারে পরিচিত একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে তারা বিস্মিত ও মর্মাহত। অনেকেই ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
হোটেল সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অতিথিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি আবাসিক হোটেলের মতো তাদেরও নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী তথ্য সংরক্ষণ করা হয়। এই ঘটনার পর পুলিশের তদন্তে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। হোটেলের রেজিস্টার, অতিথির তথ্য এবং অন্যান্য নথিপত্র তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যেকোনো অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তের আগে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, ফরেনসিক বিশ্লেষণ, আলামত সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তদন্তকারী সংস্থা মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে। তাই এ ধরনের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাইবিহীন তথ্য প্রচার বা গুজব ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক তদন্তের পাশাপাশি ঘটনার প্রতিটি দিক গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে প্রযুক্তিগত তথ্য-উপাত্ত, সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য প্রমাণও বিশ্লেষণ করা হবে। তদন্তে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ইঙ্গিত পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে, তদন্তে ভিন্ন কোনো তথ্য উঠে এলে সেটিও আইন অনুযায়ী বিবেচনায় নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, দেশের বিভিন্ন স্থানে আবাসিক হোটেলে অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সাধারণত ঘটনাস্থল পরিদর্শন, আলামত সংগ্রহ, সাক্ষ্য গ্রহণ এবং ময়নাতদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান করে থাকে। সিলেটের এ ঘটনাতেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।


