প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, ঘটনার আগে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। পরে তাকে বাড়ির একটি অংশে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। দ্রুত স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশ ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করেছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে।
ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের বাজারছড়া গ্রামে ঘটে। নিহত জুলেখা বেগম (২৫) ওই গ্রামের আব্দুল আউয়াল মিয়ার স্ত্রী। তিনি চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই দম্পতির মধ্যে বিভিন্ন পারিবারিক বিষয় নিয়ে মতবিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন সকালেও একটি পারিবারিক বিষয়কে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয় বলে স্বজনরা জানিয়েছেন। এর কিছু সময় পর পরিবারের সদস্যরা জুলেখাকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। পরে দ্রুত তাকে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে বিকেলে ইনাতগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মঞ্জুরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তদন্তের স্বার্থে সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল হোসেন বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রতিবেদন ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, জুলেখার মৃত্যুতে পরিবার ও প্রতিবেশীদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় তার এমন অকাল মৃত্যু এলাকাবাসীকেও মর্মাহত করেছে। স্বজনরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, অস্বাভাবিক মৃত্যুর প্রতিটি ঘটনাই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়।
পারিবারিক সম্পর্কের টানাপোড়েন, মানসিক চাপ কিংবা অন্য কোনো কারণ এই ঘটনার পেছনে ভূমিকা রেখেছে কি না, তা-ও তদন্তের অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্তে নতুন কোনো তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, পারিবারিক বিরোধ বা মানসিক সংকটের মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে সময়মতো পারস্পরিক আলোচনা, পারিবারিক সহায়তা এবং প্রয়োজনে পেশাদার পরামর্শ গ্রহণ করা অনেক ক্ষেত্রে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে তারা এ ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।


