কুলাউড়ায় সিএনজির ধাক্কায় আইসিইউতে বিদ্যুৎ কর্মী

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় গভীর রাতে বেপরোয়া গতির একটি সিএনজি অটোরিকশার ধাক্কায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তিন কর্মচারী আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সিলেটের একটি হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে চালককে আটক করার পরও পুলিশের হেফাজতে না থাকার অভিযোগ ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে পৌর শহরের চাতলগাঁও এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের লাইনম্যান হারুন আলী, হেলপার নানু মিয়া এবং গাড়িচালক কামরুল ইসলাম। এর মধ্যে গুরুতর আহত হারুন আলী বর্তমানে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কুলাউড়া বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহাদাত হোসেন বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দায়িত্ব পালন শেষে রাতে তিন কর্মচারী পায়ে হেঁটে নিজ নিজ বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় দ্রুতগতির একটি সিএনজি অটোরিকশা পেছন দিক থেকে এসে তাঁদের ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় তিনজনই সড়কে ছিটকে পড়েন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার পর মুহূর্তেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আহতদের মধ্যে হারুন আলী ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক হারুন আলীর অবস্থার অবনতি দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে পাঠান। অপর দুই কর্মচারী প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেলেও তারা এখনও শারীরিকভাবে অসুস্থ ও মানসিকভাবে আতঙ্কিত বলে জানা গেছে।

সহকর্মীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্ব পালন করছেন হারুন আলী। বিভিন্ন দুর্যোগ ও ঝড়বৃষ্টির মধ্যেও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে তিনি কাজ করেছেন। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই তাঁর সহকর্মীরা হাসপাতালে ছুটে যান। পরিবারের সদস্যরাও গভীর উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। হারুন আলীর স্বজনদের ভাষ্য, পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় তাঁর এই অবস্থায় পুরো পরিবার অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

এদিকে দুর্ঘটনার পর স্থানীয় জনতা সিএনজি অটোরিকশা ও চালককে আটক করেন। পরে বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তার মাধ্যমে তাঁদের থানায় নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। তবে থানায় নেওয়ার পরও চালককে আটক রাখা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

নির্বাহী প্রকৌশলী শাহাদাত হোসেন বলেন, স্থানীয়রা চালক ও সিএনজিকে আটক করে থানায় নিয়ে গেলেও পরবর্তীতে চালক সেখান থেকে চলে যায়। এতে হতাশা প্রকাশ করে বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা লিখিত অভিযোগ দায়ের না করেই থানা ত্যাগ করেন। তিনি মনে করেন, দুর্ঘটনার ঘটনায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হলে অন্তত দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হতো।

তবে কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান মোল্যা দাবি করেছেন, চালককে আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। ফলে সে সুযোগ বুঝে চলে যায়। তিনি আরও বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই বলছেন, শহরের বিভিন্ন এলাকায় বেপরোয়া গতিতে সিএনজি অটোরিকশা চলাচল এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় চালকদের মধ্যে নিয়ন্ত্রণহীন গতি ও অসতর্ক চালনার প্রবণতা বাড়ছে। ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারির অভাবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে।

পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট শহর ও উপজেলা পর্যায়ে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতা এখনও খুবই সীমিত। অধিকাংশ চালক নিয়মিত প্রশিক্ষণ ছাড়াই যানবাহন চালান। একই সঙ্গে অতিরিক্ত গতি, অনিয়ন্ত্রিত ওভারটেকিং এবং সড়কবিধি অমান্যের প্রবণতা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাঁদের মতে, শুধু দুর্ঘটনার পর ব্যবস্থা নিলে হবে না, প্রতিরোধমূলক উদ্যোগও জোরদার করতে হবে।

স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের অনেকেই দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ও মানসিক জটিলতায় ভোগেন। বিশেষ করে মাথা, মেরুদণ্ড বা শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অংশে আঘাত লাগলে চিকিৎসা ব্যয়ও অনেক বেড়ে যায়। হারুন আলীর ক্ষেত্রেও চিকিৎসকরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতির জন্য সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন।

এদিকে দুর্ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, আটক চালক কীভাবে থানার কাছ থেকে চলে যেতে পারল। কেউ কেউ সড়কে বেপরোয়া যানবাহন নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। আবার অনেকে আহত বিদ্যুৎ কর্মীদের চিকিৎসা ও সহায়তার জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে জনসেবা নিশ্চিত করেন। এমন অবস্থায় তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা কমে আসে।

বর্তমানে হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়ছেন হারুন আলী। তাঁর পরিবার, সহকর্মী এবং এলাকাবাসী এখন একটাই প্রার্থনা করছেন—তিনি যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন। পাশাপাশি তারা আশা করছেন, এই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কুলাউড়ার সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

এই সপ্তাহের খবরাখবর

ব্রুনাইয়ে ৮৮ নির্মাণ শ্রমিক নেবে সরকার

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সুনামগঞ্জের হাওরে বৃষ্টির পর গরুর খাদ্য সংকটে কৃষক

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

চুনারুঘাটে সীমান্তপথে আনা ৬ গরু জব্দ

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

কুলাউড়ায় ২ কোটি টাকার খাল খনন প্রকল্পের উদ্বোধন

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিজ্ঞান মেলা ও ক্রীড়া আয়োজনে সিলেটে বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিষয়বস্তু

ব্রুনাইয়ে ৮৮ নির্মাণ শ্রমিক নেবে সরকার

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সুনামগঞ্জের হাওরে বৃষ্টির পর গরুর খাদ্য সংকটে কৃষক

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

চুনারুঘাটে সীমান্তপথে আনা ৬ গরু জব্দ

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

কুলাউড়ায় ২ কোটি টাকার খাল খনন প্রকল্পের উদ্বোধন

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিজ্ঞান মেলা ও ক্রীড়া আয়োজনে সিলেটে বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেটে অ্যাসিড সন্ত্রাসে ঝলসে গেল মা ও শিশু

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

জাফলংয়ে চালু হলো খাসিয়া হোমস্টে পর্যটন

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

ঢাকা উত্তরে মেয়র প্রার্থী হচ্ছেন সেলিম উদ্দিন

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সম্পর্কিত নিবন্ধ

জনপ্র্যিয় পেজ