কুলাউড়ায় ২ কোটি টাকার খাল খনন প্রকল্পের উদ্বোধন

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা, কৃষি সংকট এবং পানি নিষ্কাশন সমস্যার সমাধানে বড় পরিসরের খাল খনন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। প্রায় ২ কোটি টাকার এ প্রকল্পের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় মানুষের বহুদিনের প্রত্যাশার একটি উদ্যোগ বাস্তব রূপ পেতে শুরু করেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসন এবং দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ একসঙ্গে তৈরি হবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার আন ফানাই নদীর চকিরমোড়া এলাকা থেকে উত্তরমুখী অংশে খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. শওকতুল ইসলাম। অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ের আওতায় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা আক্তার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আনিসুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন, উপজেলা প্রকৌশলী প্রীতম দাস, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজু চন্দ্র পালসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে ভুকশিমইল, বরমচাল ও ভাটেরা ইউনিয়নের প্রায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ খালের মধ্যে প্রথম ধাপে ৩ দশমিক ৯ কিলোমিটার খননের জন্য ২ কোটি ৬ লাখ ৩ হাজার ৮০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ দিয়ে খালের পানি প্রবাহ সচল করা, পলি অপসারণ এবং আশপাশের কৃষিজমিতে সেচ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করার কাজ করা হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনে মারাত্মক সমস্যা তৈরি হচ্ছিল। সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো। ফলে ফসলের ক্ষতি, রাস্তাঘাটের দুর্ভোগ এবং জনজীবনে ভোগান্তি বাড়ছিল। বিশেষ করে কৃষকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়তেন। অনেক কৃষিজমি বছরের একটি বড় সময় পানির নিচে ডুবে থাকত।

কৃষকদের মতে, খালটি পুনরায় খনন করা হলে জমির অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশন হবে এবং শুষ্ক মৌসুমেও সেচ সুবিধা বাড়বে। এতে ধান, সবজি ও অন্যান্য ফসলের উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করছেন তারা। স্থানীয়দের অনেকেই মনে করছেন, এটি শুধু একটি খাল খনন প্রকল্প নয়; বরং এলাকার কৃষি ও অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উদ্যোগ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে সংসদ সদস্য মো. শওকতুল ইসলাম বলেন, সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনায় গ্রামীণ অবকাঠামো, পানি ব্যবস্থাপনা এবং দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। খাল খননের মতো প্রকল্পগুলো একদিকে যেমন পরিবেশ ও কৃষিকে রক্ষা করবে, অন্যদিকে স্থানীয় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আয় বৃদ্ধির সুযোগও তৈরি করবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, খননকাজে স্থানীয় শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বিশেষ করে অতি দরিদ্র পরিবারের সদস্যদের এই কাজে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে তাঁদের জন্য অস্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। এতে অনেক পরিবার সাময়িকভাবে হলেও আর্থিক স্বস্তি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পরিবেশবিদদের মতে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রাকৃতিক খাল ও জলাধার ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে জলাবদ্ধতা ও পরিবেশগত সংকট বাড়ছে। নিয়মিত খাল খনন ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম শুধু পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখে না, বরং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কুলাউড়ার এই উদ্যোগকে তারা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দারা জানান, একসময় আন ফানাই খাল দিয়ে নৌকা চলাচল করত এবং আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম ছিল এটি। কিন্তু বছরের পর বছর পলি জমে খালের গভীরতা কমে যাওয়ায় পানি চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বর্ষাকালে ভোগান্তি বাড়তে থাকে। তাঁদের আশা, নতুন করে খাল খনন হলে পুরোনো প্রাণচাঞ্চল্য কিছুটা হলেও ফিরে আসবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, গ্রামীণ অঞ্চলে খাল খনন ও পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্পের বহুমাত্রিক প্রভাব রয়েছে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ছাড়াও মৎস্যসম্পদ, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং পরিবহন ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। একই সঙ্গে স্থানীয় শ্রমবাজারেও অস্থায়ী কর্মসংস্থান তৈরি হয়, যা দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে বাকি অংশের খালও খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি খালের দুই পাড় সংরক্ষণ ও অবৈধ দখল রোধেও পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সব মিলিয়ে কুলাউড়ার এই খাল খনন প্রকল্পকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষি উন্নয়ন, পরিবেশ রক্ষা এবং দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থান—একসঙ্গে এতগুলো সুবিধা মিলতে পারে বলেই প্রকল্পটি নিয়ে আশাবাদী সংশ্লিষ্ট সবাই। এখন প্রকল্পের কাজ কত দ্রুত ও সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে স্থানীয় জনগণ।

এই সপ্তাহের খবরাখবর

ব্রুনাইয়ে ৮৮ নির্মাণ শ্রমিক নেবে সরকার

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সুনামগঞ্জের হাওরে বৃষ্টির পর গরুর খাদ্য সংকটে কৃষক

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

চুনারুঘাটে সীমান্তপথে আনা ৬ গরু জব্দ

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

কুলাউড়ায় সিএনজির ধাক্কায় আইসিইউতে বিদ্যুৎ কর্মী

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিজ্ঞান মেলা ও ক্রীড়া আয়োজনে সিলেটে বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিষয়বস্তু

ব্রুনাইয়ে ৮৮ নির্মাণ শ্রমিক নেবে সরকার

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সুনামগঞ্জের হাওরে বৃষ্টির পর গরুর খাদ্য সংকটে কৃষক

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

চুনারুঘাটে সীমান্তপথে আনা ৬ গরু জব্দ

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

কুলাউড়ায় সিএনজির ধাক্কায় আইসিইউতে বিদ্যুৎ কর্মী

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিজ্ঞান মেলা ও ক্রীড়া আয়োজনে সিলেটে বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেটে অ্যাসিড সন্ত্রাসে ঝলসে গেল মা ও শিশু

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

জাফলংয়ে চালু হলো খাসিয়া হোমস্টে পর্যটন

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

ঢাকা উত্তরে মেয়র প্রার্থী হচ্ছেন সেলিম উদ্দিন

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সম্পর্কিত নিবন্ধ

জনপ্র্যিয় পেজ