প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
ঝটিকা সফরে শুক্রবার সিলেটে আসছেন দেশের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর। স্বল্প সময়ের এই সফরে তিনি সিলেট বিভাগীয় বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধন এবং “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬” প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। মন্ত্রীর সফর ঘিরে ইতোমধ্যে প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক পর্যায়ে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বিজ্ঞান ও ক্রীড়াঙ্গনের শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং আয়োজকদের মধ্যে সফরকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ।
বৃহস্পতিবার মন্ত্রীর একান্ত সচিব ফখরুদ্দিন আহামেদ সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শুক্রবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে বাণিজ্যমন্ত্রী সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি বিভিন্ন নির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
সূত্র জানিয়েছে, বিকেল ৩টায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের ইনডোর প্রাঙ্গণে বিভাগীয় বিজ্ঞান মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন তিনি। প্রতিবছরের মতো এবারও বিভাগীয় পর্যায়ের এই বিজ্ঞান মেলায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্ভাবনী প্রকল্প, প্রযুক্তিনির্ভর ধারণা এবং বৈজ্ঞানিক চিন্তাধারা উপস্থাপন করবেন। আয়োজকদের মতে, তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞানমনস্ক করে গড়ে তুলতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যে বিজ্ঞান মেলায় অংশ নিতে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। কেউ তৈরি করেছে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, কেউ কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবায় প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে নতুন ধারণা উপস্থাপন করছে। অনেক শিক্ষার্থীই মনে করছেন, একজন মন্ত্রীর উপস্থিতি তাঁদের উদ্ভাবনী কাজের প্রতি বাড়তি উৎসাহ যোগাবে।
শিক্ষাবিদদের মতে, বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়াতে মাঠপর্যায়ে এমন মেলার গুরুত্ব অনেক। বিশেষ করে প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে টিকে থাকতে হলে নতুন প্রজন্মকে উদ্ভাবনী চিন্তার সঙ্গে যুক্ত করা জরুরি। সেই জায়গা থেকে বিভাগীয় বিজ্ঞান মেলা শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং ভবিষ্যতের বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা তৈরিরও একটি প্ল্যাটফর্ম।
বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধনের পর বিকেল সাড়ে ৩টায় একই ভেন্যুতে “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬” এর পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন বাণিজ্যমন্ত্রী। এই ক্রীড়া আয়োজনকে ঘিরেও শিক্ষার্থী ও তরুণদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। আয়োজকদের দাবি, খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণ সমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রেখে সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ক্রীড়া সংগঠকদের মতে, নতুন প্রজন্মকে শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং সৃজনশীল কার্যক্রমের সুযোগ বাড়াতে হবে। “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস” সেই প্রচেষ্টারই অংশ, যেখানে বিভিন্ন বয়সী তরুণ-তরুণীরা অংশ নিয়ে নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরছে।
মন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে সিলেট জেলা স্টেডিয়াম এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারাও বিভিন্ন প্রস্তুতি তদারকি করছেন। আয়োজকরা আশা করছেন, মন্ত্রীর উপস্থিতি অনুষ্ঠানের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলবে এবং শিক্ষার্থী ও তরুণদের অনুপ্রাণিত করবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সরকার শিক্ষা, বিজ্ঞান ও ক্রীড়া খাতে তরুণদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। মন্ত্রীদের বিভিন্ন শিক্ষা ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণও সেই উদ্যোগের অংশ। এর মাধ্যমে সরকারের পক্ষ থেকে তরুণদের কাছে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সিলেটবাসীর কাছে এ সফরকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করার আরেকটি কারণ হচ্ছে, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীরের সঙ্গে সিলেট অঞ্চলের দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক সম্পৃক্ততা রয়েছে। ফলে স্থানীয় উন্নয়ন, তরুণদের সম্ভাবনা এবং শিক্ষা-সংস্কৃতিভিত্তিক উদ্যোগ নিয়ে তাঁর বক্তব্যেও আগ্রহ রয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, অনুষ্ঠান শেষে বিকেলেই মন্ত্রী আবার ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফিরে যাবেন এবং সেখান থেকে আকাশপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন। পুরো সফরটি কয়েক ঘণ্টার হলেও এর মাধ্যমে শিক্ষা, বিজ্ঞান ও ক্রীড়াক্ষেত্রে তরুণদের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করার একটি বার্তা দেওয়া হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ও সুস্থ সাংস্কৃতিক-খেলাধুলার পরিবেশ গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। কারণ তরুণ প্রজন্মই আগামী বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে। তাই তাঁদের উদ্ভাবনী চিন্তা, সৃজনশীলতা এবং প্রতিভা বিকাশে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের পৃষ্ঠপোষকতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সিলেটের তরুণ শিক্ষার্থীরাও এখন তাকিয়ে আছেন শুক্রবারের আয়োজনের দিকে। কেউ বিজ্ঞান প্রকল্প নিয়ে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, কেউ আবার ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার গ্রহণের অপেক্ষায়। সব মিলিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর সংক্ষিপ্ত সফরকে ঘিরে সিলেটের শিক্ষা ও ক্রীড়াঙ্গনে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।


