সিলেটে হামের তীব্রতা, হাসপাতালে শয্যা সংকট

প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যখন হাম পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসার ইঙ্গিত মিলছে, ঠিক সেই সময়েই সিলেটে এই সংক্রামক রোগটি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সিলেট বিভাগজুড়ে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, নির্ধারিত শয্যা ছাড়িয়ে অতিরিক্ত রোগী ভর্তি রাখতে গিয়ে হাসপাতালগুলো কার্যত চাপে ভেঙে পড়ার উপক্রম।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৬৪ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এতে সিলেট বিভাগের ১৭টি হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯০ জনে। এর মধ্যে অনেকে পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন, আবার অনেকে উপসর্গের ভিত্তিতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে বাস্তব চিত্র আরও জটিল, কারণ সিলেটে পর্যাপ্ত ল্যাব সুবিধা না থাকায় সকল রোগীর নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে সিলেটে হামের ‘পিক টাইম’ চলছে, অর্থাৎ সংক্রমণের সর্বোচ্চ পর্যায়। এই সময়টাতে রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ে এবং স্বাস্থ্যসেবার ওপর চাপ বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। সিলেট জেলার ডেপুটি সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, দেশের অন্যান্য অঞ্চলে এই ধাপ অতিক্রম করে আক্রান্তের হার কমতে শুরু করলেও সিলেটে এখনো সেই পর্যায়ে পৌঁছানো যায়নি। ফলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও কিছু সময় লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হাসপাতালগুলোর পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত নাজুক। ১০০ শয্যার শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালকে হামের চিকিৎসার জন্য বিশেষভাবে নির্ধারণ করা হলেও সেখানে রোগীর চাপ এতটাই বেশি যে শয্যা সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই হাসপাতালে নির্ধারিত শয্যার বিপরীতে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১০৭ জনে পৌঁছেছে। একইভাবে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটেও কোনো খালি শয্যা নেই। ফলে নতুন রোগী এলে তাদের অন্যত্র পাঠাতে হচ্ছে, যা অনেক ক্ষেত্রে আরও জটিলতা তৈরি করছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে তাদের কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সীমিত জনবল ও অবকাঠামো নিয়ে অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে চিকিৎসা ব্যবস্থায় ব্যত্যয় ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে একাধিক শিশুকে একই শয্যায় রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে, যা সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মেঝেতে রোগী রাখার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেননি, তবে বাস্তবে অতিরিক্ত রোগীর চাপ যে পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।

শুধু বড় হাসপাতাল নয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতেও একই চিত্র। মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে হামের রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে সীমিত সংখ্যক আইসোলেশন ইউনিট থাকা সত্ত্বেও সেখানে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী ভর্তি রাখা হচ্ছে। এতে চিকিৎসার মান বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।

এদিকে, গত কয়েকদিনে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনাও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট ৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যার মধ্যে মাত্র দুই দিনেই মারা গেছেন ৫ জন। এই পরিসংখ্যান পরিস্থিতির ভয়াবহতাকেই স্পষ্ট করে তুলে ধরছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ বেশি হওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, বিশেষ করে যেখানে জনসমাগম বেশি এবং স্বাস্থ্যবিধি ঠিকমতো মানা হয় না। হাসপাতালগুলোতে রোগীদের আত্মীয়-স্বজনদের অতিরিক্ত ভিড় এবং স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করার প্রবণতা সংক্রমণ বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে শুধু চিকিৎসা নয়, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাও জরুরি।

এই প্রেক্ষাপটে টিকাদান কার্যক্রমকে সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগ ইতোমধ্যে টিকাদান জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা গেলে সংক্রমণের হার অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সিলেটের এই পরিস্থিতি দেশের সামগ্রিক জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সময়মতো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে এই সংক্রমণ আরও বিস্তার লাভ করতে পারে এবং স্বাস্থ্যখাতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাই দ্রুত ল্যাব সুবিধা বৃদ্ধি, হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বাড়ানো এবং অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের মতো পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠছে।

সর্বোপরি, সিলেটে হামের এই তীব্রতা কেবল একটি স্বাস্থ্য সংকট নয়, বরং এটি একটি মানবিক সংকট হিসেবেও দেখা দিচ্ছে। অসুস্থ শিশুদের কষ্ট, উদ্বিগ্ন অভিভাবকদের অপেক্ষা এবং চিকিৎসকদের সীমাবদ্ধতার মধ্যে লড়াই—সব মিলিয়ে একটি কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছে সিলেটবাসী। এখন প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ, দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং কার্যকর বাস্তবায়ন, যাতে এই সংকট কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা সম্ভব হয়।

এই সপ্তাহের খবরাখবর

মৌলভীবাজারে মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের ৭১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

কানাইঘাটে এনসিপির পদযাত্রা ঘিরে টানটান উত্তেজনা

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বন্দরবাজারের আবাসিক হোটেলে ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

চট্টগ্রামের অপরাধজগতের নতুন মুখ ডেভিড ইমন

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সোনালী ব্যাংক ও গোয়াইনঘাট কলেজের চুক্তি স্বাক্ষর

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিষয়বস্তু

কানাইঘাটে এনসিপির পদযাত্রা ঘিরে টানটান উত্তেজনা

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বন্দরবাজারের আবাসিক হোটেলে ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

চট্টগ্রামের অপরাধজগতের নতুন মুখ ডেভিড ইমন

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সোনালী ব্যাংক ও গোয়াইনঘাট কলেজের চুক্তি স্বাক্ষর

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বাতাসের মাঝে গান শোনা নিয়ে প্রশ্ন ববি হাজ্জাজের

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

দক্ষিণ আফ্রিকায় ভয়াবহ আগুনে ৬ বাংলাদেশি নিহত

প্রকাশ: ২৮ জুলাই  ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনে কমিশন পুরোপুরি প্রস্তুত: সিইসি

প্রকাশ:২৮ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের...

সম্পর্কিত নিবন্ধ

জনপ্র্যিয় পেজ