প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
দেশজুড়ে তাপদাহের দাপট কিছুটা কমলেও নতুন করে স্বস্তির বার্তা নিয়ে আসছে বৃষ্টির পূর্বাভাস। বিশেষ করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল সিলেট বিভাগে আগামী কয়েকদিন ধরে বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এতে করে দীর্ঘদিনের গরমে অতিষ্ঠ মানুষের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) প্রকাশিত আবহাওয়া পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তাপপ্রবাহের বিস্তার ও তীব্রতা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। একদিনের ব্যবধানে ছয়টি জেলা তাপপ্রবাহমুক্ত হয়েছে, যদিও এখনো দেশের ২১টি জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি তাপদাহ অব্যাহত রয়েছে। তবে আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের পেছনে মূল ভূমিকা রাখছে একটি শক্তিশালী বৃষ্টি বলয়, যা আগামী কয়েকদিনে দেশের আবহাওয়ার চিত্র বদলে দিতে পারে।
আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক জানিয়েছেন, দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা সম্প্রতি যশোরে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় কিছুটা কম। এই তাপমাত্রা হ্রাস পাওয়ার প্রবণতা আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকতে পারে, বিশেষ করে বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পেলে তা আরও কমে আসবে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা পর্যন্ত পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর, ময়মনসিংহ এবং সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়ার সঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আংশিক মেঘলা আকাশ থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে ঢাকাসহ বেশ কয়েকটি জেলায় তাপপ্রবাহ এখনো বিরাজ করছে। ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান এবং পটুয়াখালী জেলাসহ খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা আপাতত অব্যাহত থাকতে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে দেশের দিন ও রাতের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশের উত্তরাঞ্চলসহ ঢাকা ও সিলেট বিভাগের কিছু স্থানে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রবণতা ধীরে ধীরে বাড়তে পারে, যা শনিবার থেকে আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করবে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) থেকে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিন রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ এবং সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু এলাকাতেও বৃষ্টির দেখা মিলতে পারে। এই সময় কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী এবং এমনকি অতি ভারী বর্ষণও হতে পারে, যা স্থানীয়ভাবে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করতে পারে।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) এবং সোমবার (২৭ এপ্রিল) এই বৃষ্টিপাতের ধারা আরও জোরালো হতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই দুই দিনে দেশের অধিকাংশ এলাকায় দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে সিলেটসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা বেশি, যা নদ-নদীর পানির স্তর বৃদ্ধির পাশাপাশি বন্যার ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের আবহাওয়ার পরিবর্তন মূলত মৌসুমি বায়ুর আগমনের পূর্বাভাস হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। প্রাক-মৌসুমি এই বৃষ্টিপাত একদিকে যেমন তাপদাহ কমিয়ে স্বস্তি এনে দেয়, অন্যদিকে অতিবৃষ্টির কারণে নতুন করে দুর্ভোগও সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে নিম্নাঞ্চল এবং হাওর অঞ্চলের জন্য এটি একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সিলেট অঞ্চলের মানুষের জন্য এই পূর্বাভাস বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এই অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থান এবং উজানের পানির প্রবাহের কারণে সামান্য অতিবৃষ্টিতেই বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ইতোমধ্যে নদীর পানি বৃদ্ধি এবং বৃষ্টির সম্ভাবনা মিলিয়ে স্থানীয়দের মাঝে উদ্বেগ বাড়ছে।
এদিকে বর্ধিত পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। একই সঙ্গে তাপমাত্রা আরও কমে আসবে, যা সামগ্রিকভাবে আবহাওয়াকে সহনীয় করে তুলবে। তবে অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন, এই সময়ে বজ্রপাতের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তাই খোলা জায়গায় অবস্থান না করা, প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়া এবং নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার মতো সতর্কতা মেনে চলা জরুরি। একই সঙ্গে কৃষকদেরও তাদের ফসল রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সবমিলিয়ে বলা যায়, দেশের আবহাওয়ায় একটি বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। তাপদাহের কষ্ট থেকে কিছুটা স্বস্তি মিললেও সামনে অপেক্ষা করছে বৃষ্টি আর সম্ভাব্য দুর্যোগের নতুন চ্যালেঞ্জ। এই পরিস্থিতিতে সচেতনতা এবং আগাম প্রস্তুতিই হতে পারে মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।


