প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে আবারও চালু হতে যাচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক আকাশপথ ঢাকা-সিলেট-ম্যানচেস্টার রুট। আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে এই রুটে নিয়মিত যাত্রীবাহী ফ্লাইট পরিচালনা করবে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যাত্রী চাহিদা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে এই রুট পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এবং প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের বিশেষ নির্দেশনায় এই গুরুত্বপূর্ণ রুটটি পুনরায় সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর আগে গত ১ মার্চ থেকে অপারেশনাল কার্যক্রম ও যাত্রীসেবার মান উন্নয়নের উদ্দেশ্যে রুটটি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল।
বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হজ কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর পুনরায় এই রুটে নিয়মিত ফ্লাইট চালু করা হবে। প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে দুটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে, যা প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার চলাচল করবে।
নতুন সূচি অনুযায়ী, ঢাকা থেকে ফ্লাইট সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে ছেড়ে সিলেটে পৌঁছাবে। সিলেট থেকে যাত্রী নিয়ে দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে ফ্লাইট ম্যানচেস্টারের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে এবং স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে গন্তব্যে পৌঁছাবে।
অন্যদিকে ফিরতি ফ্লাইট ম্যানচেস্টার থেকে রাত ৯টায় যাত্রা শুরু করবে। পরদিন সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে সিলেটে পৌঁছাবে এবং সেখান থেকে দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসবে।
প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য এই রুটটি দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার ও আশপাশে বসবাসরত সিলেট অঞ্চলের বিপুল সংখ্যক প্রবাসী যাত্রী এই রুটের পুনরায় চালুর দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় ছিলেন।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস জানিয়েছে, এই রুটে টিকিট বুকিং ইতোমধ্যেই শুরু করা হয়েছে। যাত্রীরা বিমানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, কল সেন্টার, সেলস সেন্টার অথবা অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন।
বিমান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই রুট পুনরায় চালু হলে শুধু প্রবাসীদের যাতায়াতই সহজ হবে না, বরং দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। প্রবাসী আয় বৃদ্ধি, পর্যটন খাতের উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতিতে এই রুট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রবাসী বাংলাদেশিরাও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, সিলেট-ম্যানচেস্টার সরাসরি সংযোগ তাদের সময় ও খরচ দুটোই কমিয়ে দেবে। পাশাপাশি পরিবার-পরিজনের সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ হবে।
বিমান কর্মকর্তারা আরও জানান, যাত্রী সেবার মান উন্নত করা এবং আন্তর্জাতিক রুটে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে ধাপে ধাপে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক রুট নিয়েও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপে বাংলাদেশি প্রবাসীদের অন্যতম বৃহৎ কেন্দ্র হচ্ছে যুক্তরাজ্য। বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলের মানুষের বড় একটি অংশ সেখানে বসবাস করেন। ফলে ঢাকা-সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটটি শুধু একটি ফ্লাইট নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংযোগ।
এই রুট পুনরায় চালুর সিদ্ধান্তে বিমান খাতের প্রতি আস্থা বাড়বে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে যাত্রীদের জন্য বিকল্প আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ব্যবস্থাও সহজ হবে।
সব মিলিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর ঢাকা-সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটে ফ্লাইট চালুর সিদ্ধান্ত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক বড় স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী জুলাই থেকে এই রুট চালু হলে আন্তর্জাতিক আকাশপথে বাংলাদেশের যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


