প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
বর্ণাঢ্য আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নতুন বছরকে বরণ করে নিয়েছে সিলেট নগরবাসী। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে মঙ্গলবার সকাল থেকে দিনভর নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন, শোভাযাত্রা, মেলা ও প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে মুখরিত ছিল পুরো নগরী।
দিনের শুরুতে সিলেট জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সিলেট সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণ থেকে সকাল ৯টায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। শোভাযাত্রাটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ক্বিন ব্রিজ সংলগ্ন সারদা হল প্রাঙ্গণ-এ গিয়ে শেষ হয়।
শোভাযাত্রার উদ্বোধনী পর্বে জাতীয় সংগীত এবং বৈশাখী গান ‘এসো হে বৈশাখ’ পরিবেশিত হয়। এতে অংশ নেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আশরাফুর রহমানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।
শহরের বিভিন্ন স্থানে দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক আয়োজনকে কেন্দ্র করে সিলেট হয়ে ওঠে এক উৎসবের নগরী। সারদা হল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আবৃত্তি, নৃত্য ও সংগীত পরিবেশন করেন স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীরা। একইসঙ্গে ক্বিন ব্রিজের নিচে বসে বৈশাখী মেলা, যেখানে গ্রামীণ ঐতিহ্য, হস্তশিল্প ও নানা পণ্যের প্রদর্শনী দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে।
শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোও নববর্ষ উদযাপনে বিশেষ ভূমিকা রাখে। শ্রীহট্ট সংস্কৃত কলেজ প্রাঙ্গণে ‘আনন্দলোক’-এর আয়োজনে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। ব্লু বার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে ‘শ্রুতি, সিলেট’-এর উদ্যোগে দিনব্যাপী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সংগীত ও আবৃত্তিতে অংশ নেন শিক্ষার্থীরা।
চৌহাট্টা এলাকার লোলানন্দ নৈশ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ-এ ‘চারণ, সিলেট’-এর আয়োজনে আরেকটি বৈশাখী উৎসব হয়। কুমারপাড়ায় সিলেট আর্টস কলেজ প্রাঙ্গণে শোভাযাত্রা, চিত্রপ্রদর্শনী এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ছিল দিনব্যাপী আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও নববর্ষ উদযাপন ছিল চোখে পড়ার মতো। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং এমসি কলেজ-এ আয়োজন করা হয় শোভাযাত্রা, বৈশাখী মেলা, পুতুল নাচ, বায়স্কোপ এবং হস্তশিল্প প্রদর্শনী। এমসি কলেজে কবিতা পরিষদের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী বইমেলা শুরু হয়, যেখানে নাটক, নৃত্য, কবিতা পাঠসহ নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন চলছে।
নগরীর চাঁদনীঘাট এলাকায় সোমবার বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় বর্ষবিদায় অনুষ্ঠান, যা আয়োজন করে সম্মিলিত নাট্য পরিষদ। দিনব্যাপী এই আয়োজনে নাটক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে।
এছাড়া সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার, বিভিন্ন হাসপাতাল ও শিশু পরিবারে (এতিমখানা) ঐতিহ্যবাহী দেশি খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা করা হয়, যা দিনটিকে আরও মানবিক ও উৎসবমুখর করে তোলে।
নববর্ষ উপলক্ষে নগরজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয় বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম জানান, উৎসবকে কেন্দ্র করে নগরীতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি সাদা পোশাকধারী পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন।
সব মিলিয়ে সিলেট নগরীতে এবারের পহেলা বৈশাখ পরিণত হয় এক মিলনমেলায়, যেখানে ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আনন্দ একসূত্রে মিলিত হয়ে সৃষ্টি করে এক প্রাণবন্ত উৎসবের পরিবেশ।


