প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
দেশের লাখো শিক্ষার্থীর প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেছে সরকার। আগামী ২ জুলাই থেকে শুরু হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই পরীক্ষা। শনিবার (১৮ এপ্রিল) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের শিক্ষা কার্যক্রমকে সময়মতো এবং সুশৃঙ্খলভাবে এগিয়ে নিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। করোনা-পরবর্তী সময় এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জের কারণে গত কয়েক বছর শিক্ষাব্যবস্থায় যে অনিয়মিততা তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে এবার সময়মতো পরীক্ষা আয়োজনের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে জানান, সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে আগামী ২ জুলাই থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একাডেমিক কার্যক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
এবারের এইচএসসি পরীক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে একটি বড় পরিবর্তনের কারণে। প্রথমবারের মতো দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডসহ মোট ১১টি শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আগে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হলেও সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্নপত্র ব্যবহার করা হতো। ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক ধরনের বৈষম্যের অভিযোগ ছিল, যা এবার দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অভিন্ন প্রশ্নপত্র চালুর ফলে দেশের সব শিক্ষার্থী একই মানদণ্ডে মূল্যায়িত হবে, যা পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়াবে। একই সঙ্গে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মূল্যায়ন পদ্ধতিতেও আরও সমন্বয় আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে এই পরিবর্তনকে ঘিরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে যেমন আগ্রহ রয়েছে, তেমনি কিছুটা উদ্বেগও দেখা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে ভিন্ন প্রশ্নপত্রে অভ্যস্ত শিক্ষার্থীদের জন্য হঠাৎ এই পরিবর্তন কিছুটা চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। তবে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, সিলেবাস ও পাঠ্যসূচি একই থাকায় এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।
শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির প্রসঙ্গে শিক্ষাবিদরা বলছেন, এখনই সময় শেষ মুহূর্তের পুনরাবৃত্তি ও অনুশীলনে মনোযোগ দেওয়ার। নিয়মিত অধ্যয়ন, মডেল টেস্ট এবং সময় ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিলে ভালো ফল অর্জন সম্ভব। একই সঙ্গে মানসিক চাপ কমিয়ে আত্মবিশ্বাস বজায় রাখার পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।
পরীক্ষা সামনে রেখে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের শেষ সময়ের প্রস্তুতিতে সহায়তা করছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পুনরায় অনুশীলনের সুযোগ করে দিচ্ছেন। অনেক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে মডেল টেস্ট ও বিশেষ ক্লাসের আয়োজন করেছে।
অন্যদিকে প্রশাসনিকভাবেও পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের জন্য নানা প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, পরিবহন, কেন্দ্র নির্ধারণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ শুরু করেছে। পরীক্ষা চলাকালে নকল প্রতিরোধ ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
অভিভাবকরাও তাদের সন্তানদের পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অনেকেই সন্তানদের মানসিকভাবে শক্ত রাখার চেষ্টা করছেন এবং তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে স্বাভাবিকভাবে প্রস্তুতি নিতে উৎসাহ দিচ্ছেন।
গ্রামীণ ও শহরাঞ্চল উভয় জায়গাতেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে এখন এক ধরনের উত্তেজনা ও প্রত্যাশা কাজ করছে। দীর্ঘদিনের প্রস্তুতির পর এই পরীক্ষা তাদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই সবাই চাইছে ভালোভাবে পরীক্ষা দিয়ে কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করতে।
সব মিলিয়ে ২ জুলাই শুরু হতে যাওয়া এইচএসসি পরীক্ষা শুধু একটি শিক্ষাবর্ষের সমাপ্তিই নয়, বরং নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনের সূচনা। নতুন নিয়ম, নতুন চ্যালেঞ্জ এবং নতুন প্রত্যাশা নিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রস্তুত হচ্ছে জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই পরীক্ষার জন্য। এখন দেখার বিষয়, পরিবর্তিত এই ব্যবস্থায় তারা কতটা সফলভাবে নিজেদের প্রমাণ করতে পারে।


