প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
সিলেট মহানগরীতে সড়ক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। নগরবাসীর নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক চলাচল নিশ্চিত করতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ১৭৭টি যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৪টি যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ৮৩টি যানবাহন আটক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ সূত্রে জানানো হয়, বুধবার (১০ জুন) থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ব্যস্ততম এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। নগরীর বিভিন্ন প্রবেশপথ, প্রধান সড়ক, বাণিজ্যিক এলাকা এবং জনবহুল স্থানে ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া যানবাহন পরিচালনা, নির্ধারিত নিয়ম অমান্য করে চলাচল এবং অন্যান্য অনিয়মের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমিয়ে আনতে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে মোটরযানের বৈধ কাগজপত্র, চালকদের লাইসেন্স, ফিটনেস সনদ এবং ট্রাফিক বিধিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, সেসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে। অভিযানের সময় যেসব যানবাহনের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
সিলেট মহানগরীতে সাম্প্রতিক সময়ে যানজট, বেপরোয়া যান চলাচল এবং ট্রাফিক আইন অমান্যের অভিযোগ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল। বিশেষ করে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং রোগীবাহী যানবাহনের যাত্রীদের ভোগান্তির বিষয়টি প্রায়ই আলোচনায় এসেছে। এমন প্রেক্ষাপটে ট্রাফিক পুলিশের এই কঠোর অভিযানকে অনেকেই ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।
নগরবাসীর একটি অংশ মনে করছেন, কেবল একদিন বা বিশেষ অভিযানে সীমাবদ্ধ না রেখে নিয়মিত তদারকি অব্যাহত রাখা গেলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। তাদের মতে, সড়কে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিও জরুরি। কারণ চালক, যাত্রী এবং পথচারী—সবার সম্মিলিত দায়িত্বশীল আচরণ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব নয়।
তবে অভিযানের সময় কিছু চালক তাৎক্ষণিক জরিমানার বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলেও জানা গেছে। তাদের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সচেতনতার অভাব কিংবা অনিচ্ছাকৃত ভুলের কারণেও তারা শাস্তির মুখোমুখি হচ্ছেন। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আইন সবার জন্য সমান এবং সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের অনিয়মের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) সুদীপ্ত রায় বলেন, “মহানগরীতে সড়ক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ট্রাফিক আইন কার্যকর করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।” তিনি আরও বলেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে পুলিশ যেমন দায়িত্ব পালন করবে, তেমনি সাধারণ মানুষকেও ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। সবার সহযোগিতা ছাড়া একটি সুশৃঙ্খল নগর পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত নগর ব্যবস্থাপনার অন্যতম পূর্বশর্ত হলো কার্যকর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। নিয়মিত অভিযান, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, ট্রাফিক সচেতনতা কর্মসূচি এবং আইন প্রয়োগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা গেলে দুর্ঘটনা কমার পাশাপাশি নগরবাসীর যাতায়াত ব্যবস্থাও আরও স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।
সিলেট মহানগরীতে পরিচালিত সর্বশেষ এই অভিযান সেই বার্তাই বহন করছে যে, সড়কে বিশৃঙ্খলা ও আইন অমান্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একই সঙ্গে এটি নগরবাসীকেও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যে, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা কেবল পুলিশের একার দায়িত্ব নয়; বরং এটি নাগরিক সচেতনতা, দায়িত্ববোধ এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধার সম্মিলিত প্রতিফলন।
আগামী দিনগুলোতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে মহানগরীর সড়ক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। আর সেই পরিবর্তনের মূল ভিত্তি হবে আইন মেনে চলার সংস্কৃতি এবং নিরাপদ নগর গঠনে সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ।


