প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
দেশের আবহাওয়ায় আবারও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের সাতটি বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে বলেও পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। গরমে হাঁসফাঁস করা জনজীবনে সাময়িক স্বস্তি এনে দিলেও বজ্রপাত ও ঝড়ো হাওয়ার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
শনিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানায় আবহাওয়া অধিদপ্তর। পূর্বাভাস অনুযায়ী, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ ও এর আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছে। পাশাপাশি মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর এলাকায় সক্রিয় রয়েছে। এই দুই আবহাওয়াগত পরিস্থিতির প্রভাবে দেশের আকাশে আর্দ্রতা ও মেঘের ঘনত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার ফলে বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, রংপুর, ময়মনসিংহ এবং সিলেট বিভাগে অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে। একই সঙ্গে রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু এলাকায়ও একই ধরনের আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হয়নি, যা কৃষি ও গ্রামীণ জনজীবনে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষ করে বর্ষা-পূর্ব এই সময়টিতে আবহাওয়ার আচরণ সাধারণত অনিশ্চিত থাকে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। হঠাৎ করেই কালো মেঘে আকাশ ঢেকে যাওয়া, বজ্রপাত এবং ঝড়ো হাওয়া এই সময়ের সাধারণ বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়ায়। আবহাওয়াবিদদের মতে, লঘুচাপের প্রভাব এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের আর্দ্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, দেশের অন্য অঞ্চলে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে, তবে সামগ্রিকভাবে আবহাওয়া প্রধানত শুষ্কই থাকবে। এর ফলে কিছু এলাকায় রোদের তীব্রতা বজায় থাকতে পারে, যদিও বজ্রবৃষ্টির প্রভাবে কোথাও কোথাও স্বস্তির বৃষ্টিও হতে পারে।
তাপমাত্রার বিষয়ে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে। তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে দিনের বেলায় কিছুটা স্বস্তি মিললেও রাতের আবহাওয়ায় তেমন পরিবর্তন নাও আসতে পারে।
গত ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার চিত্র বিশ্লেষণ করে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহী ও পাবনার ঈশ্বরদীতে, যেখানে তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় তাপপ্রবাহের মতো পরিস্থিতি না থাকলেও গরম ও আর্দ্রতা জনজীবনে অস্বস্তি তৈরি করেছে।
একই সময়ে দেশের কিছু কিছু এলাকায় সামান্য বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ এবং কিশোরগঞ্জের নিকলিতে ১ মিলিমিটার করে বৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। যদিও এই বৃষ্টিপাতের পরিমাণ খুবই কম, তবে এটি স্থানীয়ভাবে সামান্য স্বস্তি দিয়েছে।
সিলেটসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় বিশেষ করে পাহাড়ি ও নদীবেষ্টিত এলাকায় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সিলেট অঞ্চলে সাধারণত হঠাৎ বজ্রঝড়ের প্রবণতা বেশি থাকে, যা কৃষি, যোগাযোগ এবং জনজীবনে প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গায় অবস্থান না করা এবং গাছের নিচে আশ্রয় না নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সময়ে বৃষ্টিপাত কিছু ফসলের জন্য উপকারী হলেও শিলাবৃষ্টি হলে তা ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে পাকা বা পাকার পথে থাকা বোরো ধান, সবজি এবং ফল ফসল শিলাবৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। তাই কৃষকদের আগাম সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শহরাঞ্চলেও এই আবহাওয়ার প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। হঠাৎ বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের কারণে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে এবং নিচু এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় স্বল্প সময়ে ভারী বৃষ্টিপাত হলে সড়কে পানি জমে ভোগান্তি বাড়তে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সাধারণ জনগণকে বজ্রঝড় চলাকালীন সময়ে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি মোবাইল ফোন ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, কারণ বজ্রপাতের সময় এসব যন্ত্রপাতি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
সব মিলিয়ে দেশের আবহাওয়া বর্তমানে পরিবর্তনশীল অবস্থায় রয়েছে। একদিকে গরম, অন্যদিকে হঠাৎ বজ্রবৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা—এই দ্বৈত পরিস্থিতি জনজীবনে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তরের মতে, এই ধরনের পরিস্থিতি মৌসুমি পরিবর্তনেরই অংশ, যা আগামী কয়েকদিন ধরে অব্যাহত থাকতে পারে।


