প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
সিলেটে বিএনপির আসন্ন দলীয় সভাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি ও রাজনৈতিক তৎপরতা। আগামী ২ মে সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। সভাকে সফল করতে জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে প্রস্তুতি শুরু করেছেন।
দলীয় সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন পর সিলেটে বিএনপির বড় পরিসরের এই আয়োজনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। সভাটিকে শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে নয়, বরং সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন বার্তা পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ হিসেবেও দেখছে দলটি। ফলে সভাকে ঘিরে নগরজুড়ে পোস্টার, ব্যানার, প্রচার-প্রচারণা এবং সাংগঠনিক বৈঠকের ব্যস্ততা চোখে পড়ছে।
সোমবার বিকেলে নগরীর মেন্দিভাগ এলাকার একটি মিলনায়তনে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় মূল আয়োজনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা ও পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়। সেখানে সভাপতিত্ব করেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী। তিনি বলেন, “রাজনীতি তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা মানুষের পাশে দাঁড়ায়। এই সমাবেশকে সুশৃঙ্খল ও সফল করতে প্রতিটি পর্যায়ের নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, বিএনপির রাজনীতি শুধু ক্ষমতাকেন্দ্রিক নয়, বরং মানুষের আস্থা অর্জনের রাজনীতি। তাই সংগঠনকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যাতে সাধারণ মানুষ দলের প্রতি আস্থা রাখতে পারেন। তার মতে, এই সভা কেবল রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের বার্তাও বহন করবে।
মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, “মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়েই একটি রাজনৈতিক দলের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়। বিএনপিকে আরও মানবিক ও জনগণের দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।”
সভায় বক্তারা বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা, সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং তৃণমূল পর্যায়ে কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, যুব উন্নয়ন এবং স্থানীয় পর্যায়ে সেবা নেটওয়ার্ক তৈরির মাধ্যমে দলকে আধুনিক ও জনবান্ধব সংগঠনে রূপান্তরের বিষয়ে আলোচনা হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিলেট বিএনপির জন্য ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল। জাতীয় রাজনীতিতে সিলেটের রাজনৈতিক প্রভাব এবং সাংগঠনিক গুরুত্ব সবসময়ই ছিল উল্লেখযোগ্য। ফলে তারেক রহমানের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই সভাকে ঘিরে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে আলাদা উচ্ছ্বাস কাজ করছে। তারা মনে করছেন, এই আয়োজন আগামী দিনের সাংগঠনিক কার্যক্রমে নতুন গতি আনবে।
প্রস্তুতি সভা যৌথভাবে পরিচালনা করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী এবং মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী। সভায় জেলা ও মহানগর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।
সভায় অংশ নেওয়া নেতাদের মধ্যে ছিলেন সহ-সভাপতি এডভোকেট আশিক উদ্দিন আশুক পিপি, ডা. নাজমুল ইসলাম, নাজিম উদ্দিন লস্কর ও মাহবুব কাদির শাহি। এছাড়া যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নজিবুর রহমান নজিব, ইশতিয়াক আহমদ সিদ্দিকী, এডভোকেট হাসান আহমদ পাটোয়ারী রিপন, সিদ্দিকুর রহমান পাপলু, তাজরুল ইসলাম তাজুল, মামুনুর রশিদ মামুন, আনোয়ার হোসেন মানিক ও আবুল কাশেমসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ সাফেক মাহবুব, শামীম আহমেদ ও এডভোকেট আসলাম মুমিনও প্রস্তুতি সভায় বক্তব্য দেন। এছাড়া জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল, শ্রমিক দল, ছাত্রদল, মহিলা দল, ওলামা দল, জাসাসসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারা সভায় অংশ নিয়ে কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সভায় অংশ নেওয়া নেতারা বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলকে সাংগঠনিকভাবে আরও সুসংহত করা প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের সক্রিয় করা, নতুন প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করা এবং জনসম্পৃক্ত কার্যক্রম বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে সিলেট নগরীতে সাধারণ মানুষের মধ্যেও সভাটি নিয়ে কৌতূহল দেখা গেছে। বিশেষ করে তারেক রহমানের অংশগ্রহণকে ঘিরে বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায় থেকেও নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর মাঠের কর্মসূচি ও সাংগঠনিক তৎপরতা আবারও বাড়তে শুরু করেছে। সেই প্রেক্ষাপটে সিলেটে বিএনপির এই আয়োজনকে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে জনসম্পৃক্ত রাজনীতি ও সাংগঠনিক পুনর্গঠনের যে বার্তা নেতারা দিচ্ছেন, তা দলটির ভবিষ্যৎ কৌশলের অংশ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সভা ঘিরে নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও জনসমাগম ব্যবস্থাপনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। আয়োজকরা বলছেন, তারা একটি সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ আয়োজন নিশ্চিত করতে চান। এজন্য স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠনসহ বিভিন্ন দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।
বিএনপি নেতারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই আয়োজন সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ঐক্য ও উদ্দীপনা আরও জোরদার করবে।


