হামের আতঙ্কে সিলেটে নতুন শঙ্কা ডেঙ্গুর থাবা

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।

সিলেটে জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কয়েক মাস ধরে হামের প্রাদুর্ভাবে বিপর্যস্ত এই অঞ্চলে এবার ডেঙ্গুও মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঘটনা যখন এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি, ঠিক তখন বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ায় জনমনে শঙ্কা বাড়ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এখনই কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে আগামী মাসগুলোতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে সিলেট বিভাগে এখন পর্যন্ত ২৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে গত দুই দিনেই নতুন করে তিনজন রোগীর সন্ধান মিলেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী আক্রান্তের সংখ্যা সীমিত মনে হলেও স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। কারণ অনেক রোগী বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন, যাদের তথ্য সবসময় সরকারি পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত হয় না।

একদিকে ডেঙ্গুর বিস্তার, অন্যদিকে হামের ভয়াবহতা—এই দুই সংক্রামক রোগের চাপ এখন সিলেটের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে সিলেট এখনও হামের অন্যতম ‘হটস্পট’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন হাসপাতাল, বিশেষ করে শিশু বিভাগগুলোতে হামে আক্রান্ত অন্তত অর্ধশত শিশু ভর্তি হচ্ছে। প্রায় প্রতিদিনই মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা।

শিশুদের এই পরিস্থিতি অভিভাবকদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে। অনেক পরিবার সন্তানদের নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। কেউ সামান্য জ্বর বা শরীরে ফুসকুড়ি দেখলেই হাসপাতালে ছুটছেন, আবার অনেকে ডেঙ্গুর উপসর্গ সম্পর্কে সচেতন হয়ে আগেভাগেই পরীক্ষা করাচ্ছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, আতঙ্ক নয়, বরং সচেতনতা ও দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণই পারে ঝুঁকি কমাতে।

ডেঙ্গুর প্রাথমিক বিস্তার ঠেকাতে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ। সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) গত মঙ্গলবার থেকে ডেঙ্গু নিধনে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করেছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জমে থাকা আবর্জনা অপসারণ, নর্দমা পরিষ্কার এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে জনসচেতনতা ছাড়া এ কার্যক্রম কাঙ্ক্ষিত ফল দেবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, নাগরিক অসচেতনতা এবং নিয়মিত মশা নিধন কার্যক্রমে গাফিলতির কারণে ডেঙ্গু এখন মৌসুমি রোগের সীমা ছাড়িয়ে প্রায় সারা বছরের জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। অতীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ সাধারণত বর্ষা মৌসুমে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন বছরের অন্যান্য সময়েও রোগী পাওয়া যাচ্ছে। ফলে আগাম প্রস্তুতির বিকল্প নেই।

সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, এখনই যদি সচেতনতা সৃষ্টি করা না যায়, তাহলে ডেঙ্গু শীতকালেও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। তিনি বলেন, অনেক মানুষ এখনও মনে করেন ডেঙ্গু শুধু বর্ষাকালের সমস্যা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এডিস মশা অনুকূল পরিবেশ পেলে বছরের যেকোনো সময় বংশবিস্তার করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বাসাবাড়ির ফুলের টব, ফ্রিজের নিচের ট্রে, অব্যবহৃত টায়ার, ছাদের পানির ট্যাংক, নির্মাণাধীন ভবনের বিভিন্ন পাত্র কিংবা যেখানে পরিষ্কার পানি জমে থাকে, সেসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার রাখা জরুরি। জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা, মশারি ব্যবহার এবং চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে না পারলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রস্তুতি নিয়েছে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালও। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. উমর রশিদ মুনির জানান, হাসপাতালের নতুন ভবনে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা কর্নার চালু করা হয়েছে। সেখানে ২০টি শয্যার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা সক্ষমতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে চিকিৎসকদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে আক্রান্ত রোগীরা দ্রুত প্রয়োজনীয় সেবা পেতে পারেন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু ও হাম—দুই রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হামের ক্ষেত্রে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা এবং ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা। একই সঙ্গে জ্বর, শরীরে ব্যথা, ফুসকুড়ি, বমি কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সিলেটের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি এখন এক ধরনের সতর্কবার্তা বহন করছে। একদিকে শিশুদের মধ্যে হামের ভয়াবহতা, অন্যদিকে ডেঙ্গুর আগাম উপস্থিতি—এই দুই সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের বিকল্প নেই। শুধু হাসপাতালের শয্যা বাড়িয়ে নয়, বরং প্রতিরোধমূলক জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য, সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান, চিকিৎসকদের বক্তব্য এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। জনস্বার্থ, পেশাদারিত্ব, দায়বদ্ধতা ও নিরপেক্ষতার নীতি অনুসরণ করে সংবাদটি প্রকাশের উপযোগী করে উপস্থাপন করেছে “সময়ের সন্ধান অনলাইন”। বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং সচেতনতা বৃদ্ধিই হতে পারে সিলেটবাসীর জন্য সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরক্ষা।

এই সপ্তাহের খবরাখবর

বিশ্বকাপের আগেই ইতিহাস লিখলেন লিওনেল মেসি

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হলেন কয়েস লোদী

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিশ্বকাপের উন্মাদনায় রঙিন সিলেটের আকাশ

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে সিলেটে বিএনপির আনন্দ মিছিল

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

হাকালুকিতে অভিযানে ১৪ জেলেকে জরিমানা

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিষয়বস্তু

বিশ্বকাপের আগেই ইতিহাস লিখলেন লিওনেল মেসি

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হলেন কয়েস লোদী

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিশ্বকাপের উন্মাদনায় রঙিন সিলেটের আকাশ

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে সিলেটে বিএনপির আনন্দ মিছিল

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

হাকালুকিতে অভিযানে ১৪ জেলেকে জরিমানা

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

ফিফার বিশ্বমঞ্চে সুনামগঞ্জের ফাইজা

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

কিনব্রিজ-চাঁদনীঘাটকে ‘ছিলটি ঐতিহ্য চত্বর’ ঘোষণার দাবি

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সম্পর্কিত নিবন্ধ

জনপ্র্যিয় পেজ