সিলেটের ওয়াকওয়ে এখন আতঙ্কের নাম

প্রকাশ: ১৯  এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।

সিলেট নগরীর সৌন্দর্য্যবর্ধন ও নগরবাসীর নির্মল বিনোদনের জন্য গড়ে তোলা দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়েগুলো এখন ধীরে ধীরে আতঙ্কের প্রতীকে পরিণত হচ্ছে। প্রায় শতকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এসব ওয়াকওয়ে একসময় ছিল হাঁটাচলা, আড্ডা ও স্বস্তির নিঃশ্বাস নেওয়ার অন্যতম স্থান। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সেখানে গড়ে উঠেছে অপরাধীদের সক্রিয় চক্র, যার ফলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর উদ্বেগ।

সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ২০১৭ সালে নগরীর বিভিন্ন ছড়া ও দিঘীর পাড় ঘিরে এই ওয়াকওয়েগুলোর নির্মাণ শুরু হয়। প্রথমে জিন্দাবাজার সংলগ্ন জল্লারপাড় এলাকায় নির্মিত ওয়াকওয়ে নগরবাসীর কাছে ব্যাপক সাড়া ফেলে। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, দৃষ্টিনন্দন অবকাঠামো এবং নিরাপদ হাঁটার সুযোগ—সব মিলিয়ে এটি হয়ে ওঠে মানুষের প্রিয় একটি স্থান। সেই সফলতার ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে কালিবাড়ি ছড়া, সাগরদিঘীরপাড়, বালুচর গোয়ালীছড়া, টিলাগড় এলাকার ছড়া এবং উপশহরসহ বিভিন্ন স্থানে আরও ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়। পাশাপাশি ধোপাদিঘীর চারপাশেও গড়ে তোলা হয় আকর্ষণীয় হাঁটার পথ।

কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এই সৌন্দর্য্য যেন হারাতে বসেছে তার আসল উদ্দেশ্য। স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যা নামার পর থেকেই এসব এলাকায় বাড়তে থাকে অপরাধীদের আনাগোনা। বিশেষ করে ধোপাদিঘীরপাড়, জল্লারপাড় এবং উপশহরের ওয়াকওয়েগুলোতে নিয়মিত দেখা যায় ভ্রাম্যমান মাদক কারবারিদের উপস্থিতি। নির্দিষ্ট সময়ে তারা এখানে অবস্থান নেয় এবং তাদের পরিচিত ক্রেতারা এসে ইয়াবা, গাঁজা সহ বিভিন্ন মাদক সংগ্রহ করে। বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে চললেও অনেক ক্ষেত্রে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অন্যদিকে কালিবাড়ি ছড়া ও বালুচর এলাকার ওয়াকওয়েগুলোতেও ভোর এবং সন্ধ্যার পর ছিনতাইকারী ও মাদকসেবীদের আড্ডা জমে ওঠে। এসব স্থানে যারা হাঁটতে বা সময় কাটাতে আসেন, তারা প্রায়ই হয়রানির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে নারীদের জন্য পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। পরিবারের সদস্য বা বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে আসা তরুণীদের টার্গেট করে একদল সংঘবদ্ধ কিশোর ও যুবক বিভিন্নভাবে হেনস্তা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট করে তুলেছে। সাগরদিঘীরপাড় ওয়াকওয়েতে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে ঘিরে ছিনতাইয়ের চেষ্টা এবং সেই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। একই এলাকায় আরেকটি ঘটনায় এক দম্পতিকে ঘিরে ধরে তাদের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ আনা হয়। এরপর তাদের কাছ থেকে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। সৌভাগ্যবশত, টহল পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা পালানোর চেষ্টা করলে কয়েকজনকে আটক করা সম্ভব হয়।

এর আগেও একই ধরনের কৌশলে এক ছাত্র ও এক ছাত্রীকে হেনস্তা করে টাকা দাবি করার ঘটনা ঘটে। সেখানে একজন কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এসব ঘটনায় একটি বিষয় পরিষ্কার—অপরাধীরা এখন নতুন কৌশল ব্যবহার করছে। তারা সামাজিক লজ্জা বা ভয়ের সুযোগ নিয়ে ভুক্তভোগীদের জিম্মি করছে এবং অর্থ আদায় করছে। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা সম্মানের ভয়ে অভিযোগ করতে চান না, ফলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, আগে যেখানে পরিবার নিয়ে নিশ্চিন্তে সময় কাটানো যেত, এখন সেখানে যেতে ভয় লাগে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়। পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকা, নিরাপত্তা টহলের ঘাটতি এবং নিয়মিত নজরদারির অভাবকে দায়ী করছেন অনেকে। তাদের মতে, পরিকল্পিতভাবে এসব ওয়াকওয়েতে নিরাপত্তা জোরদার না করলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।

তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে ওয়াকওয়েগুলোতে টহল জোরদার করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পর নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তবে বাস্তবতা বলছে, শুধুমাত্র টহল বাড়ালেই সমস্যার সমাধান হবে না। প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, নিয়মিত মনিটরিং এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, এমন জনবহুল স্থানে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম জোরদার করা হলে অপরাধ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

সামাজিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কিশোর গ্যাংয়ের উত্থান এবং বেকারত্বের চাপও এই সমস্যার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তরুণদের সঠিক পথে পরিচালিত না করলে তারা সহজেই অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। তাই শুধু আইন প্রয়োগ নয়, সামাজিক উদ্যোগ এবং শিক্ষামূলক কার্যক্রমও জরুরি।

সব মিলিয়ে, সিলেটের এই ওয়াকওয়েগুলো এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের মুখোমুখি—এগুলো কি আবারও মানুষের জন্য নিরাপদ ও আনন্দময় স্থানে পরিণত হবে, নাকি অপরাধীদের দখলেই থেকে যাবে? উত্তরটি নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সচেতন নাগরিক সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর। নগরবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে এই মূল্যবান অবকাঠামোকে আবারও তার মূল উদ্দেশ্যে ফিরিয়ে আনা হবে।

এই সপ্তাহের খবরাখবর

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রকে ফের আলোচনায় বসার আহ্বান জাতিসংঘের

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সাইফুরের মৃত্যু দুর্ঘটনা নাকি ষড়যন্ত্র, প্রশ্ন রিজভীর

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

গোয়াইনঘাটে ১২০৫ বোতল ফেনসিডিলসহ নারী আটক

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস জাপানের

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে অর্থ ফেরাতে ৫ হাজার কোটি বরাদ্দ

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিষয়বস্তু

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রকে ফের আলোচনায় বসার আহ্বান জাতিসংঘের

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সাইফুরের মৃত্যু দুর্ঘটনা নাকি ষড়যন্ত্র, প্রশ্ন রিজভীর

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

গোয়াইনঘাটে ১২০৫ বোতল ফেনসিডিলসহ নারী আটক

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস জাপানের

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে অর্থ ফেরাতে ৫ হাজার কোটি বরাদ্দ

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

১৫ সেপ্টেম্বর প্রথমবার সিলেট সফরে আসছেন রাষ্ট্রপতি

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

শ্রীমঙ্গলে দুই রাতে ৮ মন্দির ও ঠাকুরঘরে চুরি

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

আমিরাতে ৪ হাজার বাংলাদেশির ভিসা বাতিল, সমাধানের চেষ্টা

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সম্পর্কিত নিবন্ধ

জনপ্র্যিয় পেজ