মন্ত্রিসভায় চার নতুন মুখ, দপ্তরেও আসছে রদবদল

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভায় আরও চারজন নতুন সদস্য যুক্ত হওয়ার আলোচনা জোরালো হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ অনুষ্ঠানের পর নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের শপথ পড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। একই সঙ্গে সরকারের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে পরিবর্তন আনার বিষয়েও আলোচনা চলছে।

আলোচনায় থাকা নতুন চার সদস্য হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, বান্দরবান থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী এবং গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন। তবে তাদের শপথ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা প্রজ্ঞাপন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি সম্ভাবনা হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মন্ত্রিসভায় নতুন সদস্য যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেও পরিবর্তনের আলোচনা রয়েছে। এর মধ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন, কৃষি, খাদ্য, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, স্থানীয় সরকার এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় রয়েছে। এসব দপ্তরের দায়িত্বে কারা থাকবেন বা কোন মন্ত্রণালয়ে কী ধরনের পরিবর্তন আসবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

নতুন মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের এই আলোচনা এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন দেশে রাষ্ট্রপতি পদে নতুন নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে ২৫৫ ভোট পেয়ে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। মোট ৩৪৩ জন সংসদ সদস্য ভোট দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পরদিনই মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য নতুন সদস্য যুক্ত হওয়ার খবর সরকারের রাজনৈতিক বিন্যাসে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে পরিবর্তনের পাশাপাশি নির্বাহী বিভাগের দায়িত্ব বণ্টনে পরিবর্তন এলে সরকারের নীতিনির্ধারণী কাঠামোতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, নতুন চারজনের মধ্যে ড. আবদুল মঈন খান বিএনপির দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ নেতা। দলের স্থায়ী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয়। অন্যদিকে আন্দালিব রহমান পার্থ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হলে সরকার ও মিত্র রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে এর রাজনৈতিক তাৎপর্য থাকতে পারে।

বান্দরবান থেকে নির্বাচিত সাচিং প্রু জেরী এবং গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনের সম্ভাব্য অন্তর্ভুক্তিও মন্ত্রিসভায় ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের দিক থেকে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে কোনজন মন্ত্রী এবং কোনজন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাবেন, তা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

নতুন চার সদস্য যুক্ত হলে প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা ৫৪-তে দাঁড়াবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ২৮ জন মন্ত্রী এবং ২৫ জন প্রতিমন্ত্রী থাকার কথা বলা হয়েছে। যদিও শপথ ও প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে চূড়ান্ত কাঠামো নিশ্চিত হওয়ার পরই প্রকৃত সংখ্যা ও দায়িত্ব বণ্টন স্পষ্ট হবে।

এদিকে রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বঙ্গভবনে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম জানিয়েছেন, শপথ অনুষ্ঠানের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করছে। রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানে ১ হাজার ২০০-এর বেশি অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলেও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে। রাষ্ট্রপতির শপথের মাধ্যমে দেশের সাংবিধানিক নেতৃত্বে আনুষ্ঠানিক পরিবর্তন সম্পন্ন হবে। এরপর একই আয়োজনে মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের শপথের সম্ভাবনা থাকায় বঙ্গভবনের অনুষ্ঠানটি রাজনৈতিকভাবে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, জাতীয় সংসদে বর্তমানে ভোটার ছিলেন ৩৪৯ জন। এর মধ্যে ৩৪৩ জন ভোট দেন। মির্জা ফখরুল ২৫৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন এবং অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর দেশে রাষ্ট্রপতি পদে একাধিক প্রার্থী নিয়ে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হওয়ায় ঘটনাটি রাজনৈতিকভাবে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

নতুন রাষ্ট্রপতির শপথের পাশাপাশি মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের সম্ভাবনা সরকারের সামনে থাকা বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জের সঙ্গেও সম্পর্কিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কৃষি, খাদ্য, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং স্থানীয় সরকার—এসব মন্ত্রণালয় সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে যুক্ত। ফলে এসব দপ্তরে পরিবর্তন হলে সরকারের নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় তার প্রভাব পড়তে পারে।

কৃষি ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ও কৃষকের স্বার্থের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত শিল্প, ব্যবসা ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম দেশের শহর ও গ্রাম পর্যায়ের নাগরিক সেবা, স্থানীয় অবকাঠামো এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ও সরকারের জনসংযোগ ও গণমাধ্যম-সম্পর্কিত নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বিমান মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন এলে দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল, বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনা এবং পর্যটন খাতেও নতুন নীতিগত অগ্রাধিকার দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও পর্যটন সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে এ মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ফলে সম্ভাব্য দপ্তর পুনর্বণ্টনের খবর নিয়ে সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

তবে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ বা দপ্তর পুনর্বণ্টনের ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভিত্তি। রাজনৈতিক সূত্রে পাওয়া সম্ভাব্য তালিকা ও দায়িত্ব বণ্টনের তথ্য শেষ মুহূর্তে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই শপথ গ্রহণের আগে পর্যন্ত আলোচনায় থাকা নাম ও মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বকে সম্ভাব্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পরিবর্তন আসার পরপরই মন্ত্রিসভায় নতুন সদস্য যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা সরকারের আগামী দিনের রাজনৈতিক পরিকল্পনা নিয়েও নানা আলোচনা তৈরি করেছে। নতুন মন্ত্রীদের মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন খাতে অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর চেষ্টা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে দপ্তর পুনর্বণ্টনের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়গুলোর কার্যক্রমে নতুন গতি আনার উদ্যোগও থাকতে পারে। সরকারের প্রথম পর্যায়ের কাজের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে কোথাও দায়িত্ব পরিবর্তন, কোথাও নতুন নেতৃত্ব এবং কোথাও রাজনৈতিক ভারসাম্য তৈরির প্রয়োজন দেখা দিতে পারে।

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠান এবং সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ—দুটি ঘটনাই শুক্রবারের রাজনৈতিক সূচিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। একদিকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন ব্যক্তি দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন, অন্যদিকে নির্বাহী বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলোতেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

সবশেষে, মন্ত্রিসভায় চারজনের অন্তর্ভুক্তি এবং গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে দপ্তর পুনর্বণ্টনের বিষয়ে যে আলোচনা চলছে, তার চূড়ান্ত রূপ শুক্রবারের শপথ অনুষ্ঠান ও পরবর্তী সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়ার কথা। নতুন সদস্যরা দায়িত্ব পেলে সরকারের নীতিনির্ধারণে তাদের ভূমিকা এবং পরিবর্তিত দপ্তর কাঠামো প্রশাসনিক কার্যক্রমে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রে।

এই সপ্তাহের খবরাখবর

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেননি সিলেটের যে এমপি

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

ইংরেজি সৃজনশীলতায় এসআইইউর পোস্টার ফেস্টিভ্যাল

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

ধানমন্ডি ৩২: ইউনূসসহ ২৭ জনের মামলা খারিজ

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেটে আরও দুই আবাসিক হোটেল সিলগালা

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেটে দানবাক্সের টাকা নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৩০

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিষয়বস্তু

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেননি সিলেটের যে এমপি

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

ইংরেজি সৃজনশীলতায় এসআইইউর পোস্টার ফেস্টিভ্যাল

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

ধানমন্ডি ৩২: ইউনূসসহ ২৭ জনের মামলা খারিজ

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেটে আরও দুই আবাসিক হোটেল সিলগালা

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেটে দানবাক্সের টাকা নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৩০

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেটের দুই তরুণীর ৭৫ লাখ টাকার বৃত্তি

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

মির্জা ফখরুলকে জারদারির অভিনন্দন

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

স্বাক্ষর নিতে গিয়ে ধরা পড়ল জাল জন্মনিবন্ধন

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সম্পর্কিত নিবন্ধ

জনপ্র্যিয় পেজ