প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হচ্ছে আগামীকাল শনিবার (৩১ অক্টোবর)। সকাল ১১টায় আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হবে। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে সারা দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থীর।
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সর্বশেষ সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রাজধানীর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে ফল প্রকাশের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনের পরপরই শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং মুঠোফোনে খুদে বার্তার (এসএমএস) মাধ্যমে ফল জানতে পারবেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন এবং ছাত্রী ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪ জন। অর্থাৎ এবার ছাত্রদের তুলনায় ২৬ হাজার ৬৪৫ জন বেশি ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।
সারা দেশে ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেন। এর মধ্যে দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন। বাকি পরীক্ষার্থীরা মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম এবং সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেন।
ফল প্রকাশকে ঘিরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ। পরীক্ষার পর থেকে অনেকেই নিজেদের ফলাফল নিয়ে প্রত্যাশা ও দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। কারও লক্ষ্য উচ্চশিক্ষার জন্য পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া, কারও আবার মেডিকেল, প্রকৌশল কিংবা অন্যান্য পেশাভিত্তিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ার প্রস্তুতি। ফলে ফলাফলের দিনটি শুধু একটি পরীক্ষার ফল জানার দিন নয়, অনেক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।
ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত ওয়েবসাইট থেকে নিজেদের ফলাফল জানতে পারবেন। এ জন্য দুটি ওয়েবসাইট নির্ধারণ করা হয়েছে। ঠিকানাগুলো হলো https://eduboardresults.gov.bd এবং https://educationboardresults.gov.bd।
ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে পরীক্ষার নাম, পরীক্ষার বছর, শিক্ষা বোর্ড, রোল নম্বর ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর নির্ধারিত ঘরে দিতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিলে ফলাফল দেখা যাবে। শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকেও ফল সংগ্রহ করতে পারবেন।
এ ছাড়া নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেও ফলাফল জানা যাবে। শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে নিজস্ব ইআইআইএন (EIIN) নম্বর ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থীর ফলাফল সংগ্রহ করতে পারবে।
ইন্টারনেট সংযোগ না থাকলেও মুঠোফোনের মাধ্যমে এসএমএস পাঠিয়ে ফলাফল জানার সুযোগ রয়েছে। এ জন্য মোবাইল ফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখতে হবে HSC। এরপর একটি স্পেস দিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের নামের প্রথম তিনটি ইংরেজি অক্ষর, আরেকটি স্পেস দিয়ে রোল নম্বর এবং শেষে পরীক্ষার বছর লিখে পাঠাতে হবে ১৬১৪০ নম্বরে।
উদাহরণ হিসেবে ঢাকা বোর্ডের কোনো পরীক্ষার্থীর রোল নম্বর ১২৩৪৫৬ হলে বার্তাটি হবে: HSC Dha 123456 2026। বার্তাটি নির্ধারিত নম্বরে পাঠানোর পর ফিরতি এসএমএসে ফলাফল জানানো হবে। মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডের পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বোর্ডের নির্ধারিত সংক্ষিপ্ত নাম ব্যবহার করতে হবে।
গত ২ জুলাই সারা দেশে একযোগে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়। দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
পরীক্ষার নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ৮ আগস্টের মধ্যে লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যার কারণে চট্টগ্রামসহ কয়েকটি শিক্ষা বোর্ডের কিছু পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো নতুন সূচিতে অনুষ্ঠিত হয়। ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়।
এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরীক্ষা শুরুর পর থেকে বিভিন্ন সময়ে স্থগিত পরীক্ষার নতুন সূচি এবং অন্যান্য নির্দেশনা প্রকাশ করেছিল সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলো।
প্রথমে ফল প্রকাশের অনুষ্ঠান রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজনের কথা জানানো হয়েছিল। তবে ২৯ অক্টোবর বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে অনুষ্ঠানের স্থান পরিবর্তনের কথা জানানো হয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শনিবার সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে ফল প্রকাশের কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে।
অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যান এবং পরীক্ষা-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। ফল প্রকাশের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম উদ্বোধনের পরপরই অনলাইন ও অন্যান্য নির্ধারিত মাধ্যমে ফলাফল প্রকাশ করা হবে
ফল প্রকাশের পর কোনো শিক্ষার্থী প্রাপ্ত ফলাফলে অসন্তুষ্ট হলে উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে পারবেন। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ১ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে এ আবেদন গ্রহণ করা হবে।
আবেদন করার নিয়ম, নির্ধারিত ফি এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। তাই পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ বোর্ডের বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ফলাফল প্রকাশের আগমুহূর্তে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যেমন আনন্দ ও প্রত্যাশা কাজ করছে, তেমনি অনেকের মধ্যে রয়েছে উদ্বেগও। প্রত্যাশিত ফল পেলে উচ্চশিক্ষার পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু হবে। আবার ফল আশানুরূপ না হলে পুনর্নিরীক্ষণের সুযোগ কাজে লাগানোর চিন্তা করবেন কেউ কেউ।
দীর্ঘ কয়েক মাসের প্রস্তুতি, পরীক্ষা এবং অপেক্ষার পর অবশেষে ফল জানার সময় এসেছে। আগামীকাল সকাল ১১টায় ফল প্রকাশের মধ্য দিয়ে ১২ লাখের বেশি পরীক্ষার্থীর সামনে খুলে যাবে উচ্চশিক্ষা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার নতুন অধ্যায়।


