সিলেটের ১৫ ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের উদ্যোগ

প্রকাশ: ৭ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।

সিলেটের দীর্ঘদিনের শিক্ষা ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি আধা-সরকারি পত্র বা ডিও লেটার পাঠিয়ে এসব প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। ২৩ সেপ্টেম্বর পাঠানো ওই চিঠিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর ঐতিহাসিক গুরুত্ব, স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষার প্রসারে ভূমিকা এবং সাধারণ ও দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

প্রস্তাবিত ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সিলেট সদর, সিলেট নগরীসহ ওসমানীনগর, জকিগঞ্জ, গোলাপগঞ্জ, দক্ষিণ সুরমা, কানাইঘাট, বিশ্বনাথ ও বিয়ানীবাজার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত। স্থানীয়ভাবে এসব প্রতিষ্ঠান বহু বছর ধরে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পাশাপাশি নিজ নিজ এলাকার সামাজিক ও শিক্ষাগত পরিসরেও ভূমিকা রেখে আসছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর কয়েকটি ব্রিটিশ আমল থেকে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

বাণিজ্যমন্ত্রীর ডিও লেটারে বলা হয়েছে, এসব প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে সিলেট অঞ্চলের সাধারণ ও দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষার সুযোগ তৈরি করে আসছে। প্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয়করণ করা হলে স্থানীয় পর্যায়ে দীর্ঘদিনের শিক্ষাবৈষম্য কমার পাশাপাশি শিক্ষার সামগ্রিক মান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও আঞ্চলিক অবদান বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতাও কামনা করেছেন মন্ত্রী।

জাতীয়করণের প্রস্তাবিত তালিকায় সিলেট নগরীর তিনটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এগুলো হলো রাজা গিরিশচন্দ্র মাধ্যমিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কিশোরী মোহন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং দি এইডেড হাই স্কুল। নগরীর এসব প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষার সুযোগ তৈরি করে আসছে। বিশেষ করে ঐতিহ্যবাহী এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সিলেটের নগর শিক্ষাব্যবস্থার একটি দীর্ঘ সম্পর্ক রয়েছে।

দক্ষিণ সুরমা উপজেলার তিনটি প্রতিষ্ঠানও রয়েছে প্রস্তাবিত তালিকায়। এগুলো হলো রাখালগঞ্জ কৈলাশচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, লালবাজার উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ এবং সিলাম পদ্মলোচন বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়। একইভাবে গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকা দক্ষিণ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ এবং ভাদেশ্বর নাছির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজকে জাতীয়করণের প্রস্তাব করা হয়েছে। তালিকাটি একাধিক স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে একইভাবে প্রকাশিত হয়েছে।

বিয়ানীবাজার উপজেলার লাউতা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, জমশেদ আহমদ উচ্চ বিদ্যালয় এবং দুবাগ স্কুল অ্যান্ড কলেজও রয়েছে প্রস্তাবিত তালিকায়। এ ছাড়া জকিগঞ্জের গুরুসদয় স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বিশ্বনাথের একলিমিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, কানাইঘাটের দুর্গাপুর হাইস্কুল ও কলেজ এবং ওসমানীনগরের শরৎ সুন্দরী উচ্চ বিদ্যালয়কে জাতীয়করণের উদ্যোগের আওতায় আনা হয়েছে।

এই ১৫টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা থেকে দেখা যায়, উদ্যোগটি কেবল সিলেট নগরকেন্দ্রিক নয়। জেলার বিভিন্ন উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এর আওতায় রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে নগর ও গ্রামীণ এলাকার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনার আওতা বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে জাতীয়করণের ক্ষেত্রে সরকারের নির্ধারিত প্রশাসনিক, আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

জাতীয়করণের ক্ষেত্রে সাধারণত কোনো প্রতিষ্ঠানকে শুধু ঐতিহাসিকভাবে পুরোনো হওয়ার ভিত্তিতে সরকারি ব্যবস্থায় নেওয়া হয় না; এর সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামো, জমি, শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থী, প্রশাসনিক কাঠামো এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ও বিবেচনায় আসতে পারে। এ কারণে বাণিজ্যমন্ত্রীর ডিও লেটারে সুপারিশ করা হলেও তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর জাতীয়করণ এখনো চূড়ান্ত হয়েছে—এমনটি বলার সুযোগ নেই। বরং এটি সরকারের কাছে দেওয়া একটি প্রস্তাব ও অনুরোধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমও বিষয়টিকে জাতীয়করণের উদ্যোগ বা সুপারিশ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

সিলেটের শিক্ষা ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে পুরোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শুধু পাঠদানের জায়গা হিসেবে নয়, স্থানীয় সমাজের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবেও গড়ে উঠেছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম এসব প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করে কর্মজীবনে প্রবেশ করেছেন। অনেক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্থানীয় মানুষের আবেগ, স্মৃতি ও সামাজিক যোগাযোগও জড়িয়ে রয়েছে। ফলে ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে যেকোনো সরকারি উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে গুরুত্ব পাওয়াটা স্বাভাবিক।

বাণিজ্যমন্ত্রীর চিঠিতে সাধারণ ও দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। সিলেটের বিভিন্ন উপজেলার অনেক পরিবার দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করে সন্তানদের পড়াশোনা করিয়ে আসছে। এসব প্রতিষ্ঠান সরকারি ব্যবস্থার আওতায় এলে শিক্ষার ব্যয়, অবকাঠামোগত সুযোগ এবং শিক্ষকসংক্রান্ত ব্যবস্থাপনায় কী ধরনের পরিবর্তন আসবে, সেটি অবশ্য সরকারের সিদ্ধান্ত ও পরবর্তী বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।

জাতীয়করণের পক্ষে দেওয়া যুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো শিক্ষাবৈষম্য কমানোর প্রত্যাশা। একটি অঞ্চলের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক ও অবকাঠামোগত সক্ষমতার মধ্যে পার্থক্য থাকলে শিক্ষার্থীদের সুযোগের ক্ষেত্রেও তার প্রভাব পড়তে পারে। প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারি ব্যবস্থায় এলে শিক্ষা কার্যক্রমের মানোন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হতে পারে—এমন প্রত্যাশার কথাই চিঠিতে তুলে ধরা হয়েছে। তবে এসব পরিবর্তন বাস্তবে কতটা হবে, তা জাতীয়করণের পর সরকারি নীতি ও বরাদ্দের ওপর নির্ভর করবে।

অন্যদিকে জাতীয়করণের প্রক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যমান ব্যবস্থাপনা, শিক্ষক-কর্মচারীদের অবস্থান এবং সম্পদের বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই প্রয়োজন হবে। ফলে এখনই জাতীয়করণের ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসন বা শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে কী পরিবর্তন আসবে, সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

এ উদ্যোগের আরেকটি দিক হলো সিলেটের ঐতিহাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সংরক্ষণ। পুরোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুধু একটি ভবন বা একটি শিক্ষা কার্যক্রমের নাম নয়; এর সঙ্গে একটি অঞ্চলের শিক্ষা বিস্তার, সামাজিক পরিবর্তন এবং বহু প্রজন্মের স্মৃতি জড়িয়ে থাকে। সরকারি স্বীকৃতি ও সহায়তার আওতায় এলে এসব প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে এর সবকিছুই নির্ভর করছে সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর। বাণিজ্যমন্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ডিও লেটার পাঠানো হয়েছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই, নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে প্রস্তাবটি এগিয়ে যাওয়ার কথা।

সিলেটের শিক্ষা অঙ্গনে তাই এই উদ্যোগকে ঘিরে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য বহনকারী ১৫টি প্রতিষ্ঠান সরকারি ব্যবস্থার আওতায় আসবে কি না, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন। যদি প্রস্তাবটি অনুমোদন পায় এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়, তাহলে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের জন্য তা গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন বয়ে আনতে পারে।

তবে জাতীয়করণের সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টিকে প্রস্তাবিত উদ্যোগ হিসেবেই দেখা প্রয়োজন। বর্তমানে নিশ্চিত তথ্য হলো, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ২৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কাছে ডিও লেটার পাঠিয়ে সিলেটের ১৫টি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের জন্য সহযোগিতা চেয়েছেন। পরবর্তী সময়ে সরকারের সিদ্ধান্ত ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াই নির্ধারণ করবে, তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো শেষ পর্যন্ত জাতীয়করণের আওতায় আসবে কি না।

এই সপ্তাহের খবরাখবর

কুষ্টিয়ার ছয় হত্যা মামলায় হানিফসহ চারজনের রায় যেকোনো দিন

প্রকাশ: ৭ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

১৭ অক্টোবরের ছুটি বাতিল, খোলা থাকবে সরকারি অফিস

প্রকাশ: ৭ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

জ্বালানি আমদানির চাপে ৩৮২ কোটি ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি

প্রকাশ: ৭ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

নগরবাসীর সেবায় আরও জনবান্ধব সিসিক চান প্রশাসক

প্রকাশ: ৭ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

চুনারুঘাটে ঘুষের ভিডিও, আরেক এএসআই প্রত্যাহার

প্রকাশ: ৭ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিষয়বস্তু

কুষ্টিয়ার ছয় হত্যা মামলায় হানিফসহ চারজনের রায় যেকোনো দিন

প্রকাশ: ৭ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

১৭ অক্টোবরের ছুটি বাতিল, খোলা থাকবে সরকারি অফিস

প্রকাশ: ৭ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

জ্বালানি আমদানির চাপে ৩৮২ কোটি ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি

প্রকাশ: ৭ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

নগরবাসীর সেবায় আরও জনবান্ধব সিসিক চান প্রশাসক

প্রকাশ: ৭ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

চুনারুঘাটে ঘুষের ভিডিও, আরেক এএসআই প্রত্যাহার

প্রকাশ: ৭ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

জাফলংয়ে স্ত্রীকে ভারতে পাচারের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৪

প্রকাশ: ৭ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বাংলাদেশে টয়োটার হাইব্রিড গাড়ির কারখানা, কাজ শুরু ২০২৭

প্রকাশ: ৭ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

কলমাকান্দায় সভায় শিক্ষিকাকে চড়, বিভাগীয় মামলার প্রস্তুতি

প্রকাশ: ৭ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সম্পর্কিত নিবন্ধ

জনপ্র্যিয় পেজ