প্রকাশ: ৭ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
সিলেট নগরবাসীর কাছে একটি সিটি কর্পোরেশন শুধু রাস্তা, ড্রেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কিংবা নাগরিক সনদ দেওয়ার প্রতিষ্ঠান নয়; নাগরিকের দৈনন্দিন প্রয়োজন, প্রত্যাশা ও নানা সংকটে সবচেয়ে কাছের সরকারি সেবাকেন্দ্রগুলোর একটি। সেই জায়গা থেকে সিলেট সিটি কর্পোরেশনকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, হয়রানিমুক্ত ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, দীর্ঘ কর্মজীবনে যারা সিলেট সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে নগরবাসীকে সেবা দিয়েছেন, অবসর গ্রহণের পরও তাদের পাশে থাকা প্রতিষ্ঠানের নৈতিক দায়িত্ব। অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কল্যাণে সিটি কর্পোরেশন ভবিষ্যতেও পাশে থাকবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে নগর ভবন সভাকক্ষে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ তহবিলের অবশিষ্ট অর্থের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তু ছিল অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কল্যাণ। তবে প্রশাসকের বক্তব্যে উঠে আসে সিটি কর্পোরেশনের সামগ্রিক সেবা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন এবং নগরবাসীর সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক আরও কার্যকর করার প্রত্যয়ও। তিনি মনে করেন, একটি প্রতিষ্ঠানের বর্তমান কর্মীদের দায়িত্বশীলতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি যারা বছরের পর বছর প্রতিষ্ঠানকে সময় ও শ্রম দিয়েছেন, তাদের অবসর-পরবর্তী জীবনের প্রতিও প্রতিষ্ঠানের দায়বদ্ধতা থাকা প্রয়োজন।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্তরিকতার সঙ্গে নগরবাসীকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তাদের দায়িত্বশীলতা, নিষ্ঠা ও কর্মদক্ষতার ওপর প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক সেবার মান অনেকাংশে নির্ভর করে। তাই সিসিককে আরও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের একটি সুনাম রয়েছে। তবে সেই সুনামকে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ রয়েছে। নগরবাসী যাতে সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন সেবা সহজে, স্বচ্ছতার সঙ্গে এবং কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই গ্রহণ করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই কাজ করা হচ্ছে।
নগর প্রশাসনের ক্ষেত্রে নাগরিকের অভিজ্ঞতাই একটি প্রতিষ্ঠানের গ্রহণযোগ্যতার বড় মাপকাঠি। কোনো সেবা পেতে দীর্ঘসূত্রতা, অপ্রয়োজনীয় জটিলতা কিংবা হয়রানির শিকার হলে নাগরিকের মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে। আবার দ্রুত, স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল সেবা একজন নাগরিকের আস্থা বাড়ায়। প্রশাসকের বক্তব্যে তাই সেবাপ্রাপ্তির প্রক্রিয়াকে সহজ করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সবার সহযোগিতায় সিলেট সিটি কর্পোরেশনকে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে চান। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে শুধু প্রশাসনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, নগরবাসী এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রম নিয়ে সাম্প্রতিক সময়েও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নাগরিকসেবা, নগর উন্নয়ন ও কর্মীদের দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা উঠে এসেছে। বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি জলাবদ্ধতা নিরসন, সড়ক উন্নয়ন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে নাগরিকদের প্রত্যাশা পূরণের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রসঙ্গে প্রশাসক বলেন, কর্মজীবনে যারা প্রতিষ্ঠানের জন্য দীর্ঘ সময় দিয়েছেন, তাদের অবসর-পরবর্তী কল্যাণ নিশ্চিত করাও প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বের অংশ। নিরাপত্তা ও কল্যাণ তহবিলের মাধ্যমে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশে থাকার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
একজন কর্মচারীর কর্মজীবন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার সম্পর্ক শেষ হয়ে যায় না—এই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিই অনুষ্ঠানের বক্তব্যে বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। কর্মজীবনে নাগরিকসেবায় অবদান রাখা মানুষদের অবসর-পরবর্তী সময়ে সম্মান ও সহায়তার আওতায় রাখার উদ্যোগ তাদের দীর্ঘদিনের শ্রমের স্বীকৃতি হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।
সিটি কর্পোরেশনের একজন কর্মীর জন্য নগরবাসীর সঙ্গে সরাসরি কাজ করা প্রতিদিনের দায়িত্ব। রাস্তা পরিষ্কার রাখা থেকে শুরু করে বিভিন্ন নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা, দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা কিংবা নগরের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সহায়তা—বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের সমন্বয়ের ওপরই শেষ পর্যন্ত নাগরিকসেবার মান নির্ভর করে। তাই কর্মীদের দায়িত্বশীলতা এবং তাদের কল্যাণ—দুটি বিষয়কে একই সঙ্গে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার, সচিব মো. আশিক নূর ও প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা পদ্মাসন সিংহ। এ ছাড়া বক্তব্য দেন প্রধান এসেসর মো. আব্দুল বাছিত, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আ ন ম মনছুফ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. হানিফুর রহমান, মো. মাহবুবুর রহমান, কবির উদ্দিন আহমদসহ সংশ্লিষ্টরা।
সিসিক প্রশাসকের বক্তব্যে একদিকে যেমন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি প্রতিষ্ঠানের দায়বদ্ধতার বিষয়টি সামনে এসেছে, অন্যদিকে তেমনি নগরবাসীর জন্য সেবা আরও সহজ ও স্বচ্ছ করার প্রত্যয়ও স্পষ্ট হয়েছে। একটি নগর প্রশাসন তখনই সত্যিকার অর্থে জনবান্ধব হয়ে ওঠে, যখন নাগরিক তার প্রয়োজনীয় সেবা পেতে স্বস্তি, আস্থা ও সম্মানের অনুভূতি নিয়ে প্রতিষ্ঠানের দ্বারস্থ হতে পারেন।
সিলেট দ্রুত পরিবর্তনশীল একটি নগর। নগরবাসীর প্রত্যাশাও সময়ের সঙ্গে বাড়ছে। এই পরিবর্তিত প্রত্যাশার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নাগরিকসেবার মান উন্নত করা, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজ করা এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সিটি কর্পোরেশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর বক্তব্যে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও কার্যকর ও নাগরিককেন্দ্রিক সিসিক গড়ে তোলার প্রত্যাশাই উঠে এসেছে।
নগরবাসীর দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং সেবার ক্ষেত্রে হয়রানি কমিয়ে আস্থা তৈরি করতে পারলেই জনবান্ধব সিটি কর্পোরেশনের লক্ষ্য বাস্তব অর্থে সফল হবে। আর সেই লক্ষ্য পূরণে প্রশাসন, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নগরবাসীর সমন্বিত অংশগ্রহণই হতে পারে সবচেয়ে বড় শক্তি।


