প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
সিলেটের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের অন্যতম কেন্দ্র হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে আবারও খোলা হয়েছে দানবাক্স ও ডেকচিগুলোর তালা। দীর্ঘদিন ধরে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের দেওয়া অর্থ জমা হওয়া এসব দানবাক্স খুলতেই পাওয়া গেছে বিপুল পরিমাণ টাকা। সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, এবার দানবাক্সগুলো থেকে প্রায় চার বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে মাজার প্রাঙ্গণেই শুরু হয় এসব টাকা গণনার কার্যক্রম।
শনিবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে দানবাক্স ও ডেকচিগুলোর তালা খোলা হয়। এরপর মাজার প্রাঙ্গণেই শুরু হয় সংগৃহীত অর্থ গণনার কাজ। দুপুর পৌনে ১২টা পর্যন্ত টাকা গণনার কার্যক্রম চলছিল। বিপুল পরিমাণ অর্থ হওয়ায় গণনার কাজ শেষ করতে দীর্ঘ সময় লাগছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
দানবাক্স খোলার সময় মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গঠিত কমিটির সদস্য এবং সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, সিলেট সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাসহ মাজার কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরাও সেখানে ছিলেন।
মাজারের দানবাক্স খোলা ও টাকা গণনার পুরো কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন গণমাধ্যমকর্মী এবং সচেতন নাগরিকদের প্রতিনিধিরাও। সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে প্রকাশ্য পরিবেশে অর্থ গণনার আয়োজন করায় কার্যক্রমটি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়। মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে এ ধরনের প্রক্রিয়া পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার সিলেটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থান। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এখানে আসেন। স্থানীয় ভক্তদের পাশাপাশি দেশের নানা অঞ্চল থেকে আগত দর্শনার্থীরাও মাজারে এসে দোয়া, জিয়ারত ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেন। অনেকেই নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী মাজারের দানবাক্সে অর্থ প্রদান করেন। ফলে নির্দিষ্ট সময় পরপর এসব দানবাক্সে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা হয়।
শনিবার দানবাক্স খোলার পর চার বস্তা টাকা পাওয়ার বিষয়টি মাজারে উপস্থিত মানুষের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি করে। সকাল থেকেই মাজার প্রাঙ্গণে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতি ছিল। টাকা গণনার দৃশ্য দেখতে অনেকেই দূর থেকে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দানবাক্সে জমা হওয়া অর্থ নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় গণনা করা হয়। তালা খোলার সময় দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি মাজার কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকেন। গণনা শেষে সংগৃহীত অর্থের হিসাব সংরক্ষণ করা হয়। আর্থিক ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এ ধরনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।
এর আগে চলতি বছরে আরও কয়েক দফা মাজারের দানবাক্স খোলা হয়েছিল। গত ২২ জুন প্রথমবার দানবাক্স খোলা হয়। এরপর ১১ জুলাই দ্বিতীয় দফা এবং ১৫ আগস্ট তৃতীয় দফায় দানবাক্স খোলা হয়েছিল। সর্বশেষ দানবাক্স খোলার প্রায় এক মাস চার দিন পর শনিবার আবারও সেগুলোর তালা খোলা হলো।
প্রতিবার দানবাক্স খোলার পর বিপুল পরিমাণ অর্থ পাওয়া যায়। ভক্তদের দান করা অর্থের পরিমাণ বেশি হওয়ায় একবারে টাকা গণনা শেষ করতে বেশ কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, মাজার কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্যরা উপস্থিত থেকে পুরো কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।
মাজারের দানবাক্সে জমা হওয়া অর্থকে ঘিরে মানুষের আগ্রহের অন্যতম কারণ হলো এর সঙ্গে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ভক্তদের ধর্মীয় অনুভূতি ও আস্থার সম্পর্ক। কেউ মানত পূরণের পর দান করেন, কেউ নিজের বা পরিবারের কল্যাণ কামনায় অর্থ দেন, আবার অনেকে ধর্মীয় বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা থেকে দানবাক্সে টাকা রাখেন। এসব ছোট-বড় অনুদান একত্রিত হয়ে নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে বড় অঙ্কে পরিণত হয়।
সিলেটের মানুষের কাছেও শাহজালাল (রহ.) মাজার শুধু একটি ধর্মীয় স্থান নয়, এটি নগরের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। মাজারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়ে আসছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত মানুষের কারণে মাজার এলাকা সিলেটের অন্যতম পরিচিত দর্শনীয় ও ধর্মীয় স্থান হিসেবেও পরিচিত।
দানবাক্সের অর্থ গণনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়টি তাই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা হওয়ায় তা সঠিকভাবে গণনা, সংরক্ষণ এবং হিসাবভুক্ত করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে গণনার আয়োজন করা সেই প্রক্রিয়ারই অংশ বলে জানা গেছে।
শনিবারের গণনার সময় মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গঠিত কমিটির সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের পাশাপাশি জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ছিল। গণমাধ্যমকর্মী ও সচেতন নাগরিকদের প্রতিনিধিরাও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করায় অর্থ গণনার বিষয়টি আরও প্রকাশ্য ও পর্যবেক্ষণযোগ্য হয়ে ওঠে।
তবে চার বস্তা টাকা পাওয়ার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে জানানো হলেও গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত মোট কত টাকা পাওয়া গেছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি। টাকা গণনা সম্পন্ন হওয়ার পর মোট অর্থের পরিমাণ জানা যাবে। গণনার কাজে নোটের পাশাপাশি বিভিন্ন মূল্যমানের কয়েনও থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এ কারণে পুরো অর্থ আলাদা করে গণনা ও হিসাব করতে সময় লাগছে।
মাজারে নিয়মিতভাবে দানবাক্স খোলার প্রক্রিয়াটি ভক্তদের দেওয়া অর্থের হিসাব ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। সর্বশেষ দফার অর্থ গণনা শেষে সংশ্লিষ্টরা মোট অর্থের হিসাব সংরক্ষণ করবেন। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মাজারে কত অর্থ জমা হয়েছে, তার একটি পরিষ্কার হিসাব পাওয়া সম্ভব হবে।
শনিবারের এই কার্যক্রমকে ঘিরে মাজার প্রাঙ্গণে উৎসুক মানুষের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। কেউ ধর্মীয় কারণে মাজারে এসেছেন, আবার কেউ দানবাক্স খোলা ও টাকা গণনার কার্যক্রম দেখতে সেখানে অবস্থান করেন। বিপুল পরিমাণ অর্থ গণনার দৃশ্য অনেকের কাছেই ছিল ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা।
সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে নিয়ম মেনে দানবাক্স খোলা এবং অর্থ গণনার কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। ভক্তদের দান করা অর্থের সঠিক হিসাব সংরক্ষণ এবং যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মাজারের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার গুরুত্ব রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শনিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া টাকা গণনার কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরই জানা যাবে এবার দানবাক্স ও ডেকচিগুলো থেকে মোট কত টাকা পাওয়া গেছে। তবে ইতোমধ্যেই প্রায় চার বস্তা টাকা পাওয়ার তথ্য মাজারে আগত ভক্ত ও দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। এক মাসের কিছু বেশি সময়ের ব্যবধানে আবারও বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা হওয়ার বিষয়টি শাহজালাল (রহ.) মাজারে প্রতিদিন আসা বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি ও ধর্মীয় দানের ধারাবাহিকতারই একটি চিত্র তুলে ধরেছে।


