প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর সিলেট সফরে আসছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর সফরকে ঘিরে সিলেট সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নেওয়া প্রস্তুতি এবং নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। বৃহস্পতিবার সকালে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে তিনি সফরের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।
সাক্ষাৎকালে সিসিক প্রশাসক রাষ্ট্রপতিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পরে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের সিলেট সফর এবং সফরকালে সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনার প্রস্তুতি সম্পর্কে তাঁকে বিস্তারিত অবহিত করেন। সিলেট সিটি করপোরেশনের নগরভবন প্রাঙ্গণে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
রাষ্ট্রপতির সিলেট সফরের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই নগরজুড়ে এ সফরকে ঘিরে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর প্রথম সিলেট সফর হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে সফরটির আলাদা গুরুত্ব তৈরি হয়েছে। সফর উপলক্ষে জেলা ও নগর প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রস্তুতিও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির সফরকে সুশৃঙ্খল ও সফল করতে এরই মধ্যে প্রশাসনিক পর্যায়ে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর আগে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক সভায় রাষ্ট্রপতির সফরের বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করা হয়। সেখানে সরকারি বিভিন্ন দপ্তর, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সফরসূচি অনুযায়ী, ১৫ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি বিমানযোগে সিলেটে আসবেন। সফরকালে তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এরপর বিকেলে সিলেট সিটি করপোরেশনের আয়োজনে নাগরিক সংবর্ধনায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সফর শেষে একই দিন সন্ধ্যায় তাঁর ঢাকার উদ্দেশে সিলেট ত্যাগ করার কথা রয়েছে
রাষ্ট্রপতির আগমনকে কেন্দ্র করে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরিচ্ছন্নতা, সৌন্দর্যবর্ধন ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত প্রস্তুতির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সফরের দিন নগরীর প্রধান সড়কগুলো চলাচলের উপযোগী রাখা, বিভিন্ন স্থানে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম সমন্বিতভাবে পরিচালনার বিষয়েও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
রাষ্ট্রপতির সফর নির্বিঘ্ন করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতিমূলক সভায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতির সফরকালে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা, ফায়ার সার্ভিসের প্রস্তুতি এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে নগরীর সৌন্দর্য ও স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রাষ্ট্রপতির সফর উপলক্ষে সড়কের পাশে থাকা বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার অপসারণ এবং অবৈধ স্থাপনা সরানোর বিষয়েও প্রশাসনিক উদ্যোগের কথা জানা গেছে। এসব প্রস্তুতির মূল লক্ষ্য হলো রাষ্ট্রপতির সফরের সময় নগরীর স্বাভাবিক চলাচল ও নাগরিক সেবা যতটা সম্ভব স্বাভাবিক রাখা এবং একই সঙ্গে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
সিলেটের মানুষের কাছে রাষ্ট্রপতির সফর সবসময়ই একটি বিশেষ ঘটনা। দেশের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে থাকা একজন ব্যক্তির সফরকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে যেমন আগ্রহ তৈরি হয়, তেমনি প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পর্যায়েও ব্যস্ততা বাড়ে। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। বিশেষ করে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রথম সিলেট সফর হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে এ সফরকে ঘিরে প্রত্যাশা ও আগ্রহ আরও বেড়েছে।
সিলেট বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক শহর। প্রবাসী অধ্যুষিত এই অঞ্চলের সঙ্গে দেশের অর্থনীতি, বৈদেশিক আয়, পর্যটন, আঞ্চলিক যোগাযোগ এবং ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর সম্পর্ক রয়েছে। ফলে রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিকদের বিভিন্ন প্রত্যাশাও সামনে আসতে পারে। নগর উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থা, জলাবদ্ধতা, যানজট, পর্যটন অবকাঠামো এবং নাগরিক সেবার মতো বিষয়গুলো দীর্ঘদিন ধরে সিলেটের মানুষের আলোচনায় রয়েছে।
নাগরিক সংবর্ধনা এ ধরনের সফরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সাধারণত স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, পেশাজীবী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ ধরনের অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সিলেট সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে আয়োজিত সংবর্ধনাতেও নগরবাসীর প্রতিনিধিত্ব থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হওয়ায় এ ধরনের অনুষ্ঠানকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হয়।
সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতিকে বরণ করে নিতে সিলেটবাসী আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছেন। নাগরিক সংবর্ধনার প্রস্তুতিও প্রায় সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি জানান। বঙ্গভবনে সাক্ষাতের সময় তিনি রাষ্ট্রপতিকে আয়োজনের সার্বিক বিষয় অবহিত করেন এবং সফরকে কেন্দ্র করে নগরবাসীর প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সিসিক প্রশাসকের এই সাক্ষাৎকে সফরের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ নাগরিক সংবর্ধনা শুধু একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়, বরং রাষ্ট্রপতির সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও নাগরিক প্রতিনিধিদের যোগাযোগের একটি সুযোগও তৈরি করে। ফলে অনুষ্ঠানের আয়োজন, নিরাপত্তা, অতিথিদের উপস্থিতি এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় নিশ্চিত করা এখন সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার।
সিলেট সফরের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো হয়েছে। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হচ্ছে এবং রাষ্ট্রপতির চলাচলের সম্ভাব্য রুট, অনুষ্ঠানস্থল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সফরের দিন যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা জনদুর্ভোগ তৈরি না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যেও উৎসাহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী দুই মাজার জিয়ারত এবং নগরভবন প্রাঙ্গণে নাগরিক সংবর্ধনার কর্মসূচি স্থানীয় মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। রাষ্ট্রপতির সফরের মাধ্যমে সিলেটের পর্যটন, ঐতিহ্য ও নাগরিক উন্নয়ন নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে আরও আলোচনা তৈরি হবে—এমন প্রত্যাশাও রয়েছে অনেকের।
সফরকে সামনে রেখে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যেসব প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, তার অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে রাষ্ট্রপতির কর্মসূচি নির্ধারিত সময়ে ও নিরাপদে সম্পন্ন করা। পাশাপাশি নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা যাতে অতিরিক্ত ব্যাহত না হয়, সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। কারণ রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সফরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা যেমন জরুরি, তেমনি সাধারণ মানুষের চলাচল ও নাগরিক সেবাও স্বাভাবিক রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের রাষ্ট্রপতির সিলেট সফরকে ঘিরে নগরীতে এখন প্রস্তুতির ব্যস্ততা। বঙ্গভবনে সিসিক প্রশাসকের সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং নাগরিক সংবর্ধনার প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করার মধ্য দিয়ে সফরের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতিতে আরও গতি এসেছে। রাষ্ট্রপতির আগমন, মাজার জিয়ারত এবং নাগরিক সংবর্ধনাকে ঘিরে সিলেটবাসীর আগ্রহও ক্রমেই বাড়ছে। এখন অপেক্ষা ১৫ সেপ্টেম্বরের, যেদিন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সিলেটে এসে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সরাসরি সময় কাটাবেন এবং নগরীর নাগরিকদের আয়োজিত সংবর্ধনায় অংশ নেবেন।


